somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘটছে পর্যটনের বিপ্লব, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্যটন একটি বহুমাত্রিক ও শ্রমঘন শিল্প। সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও বৃহৎ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড হিসেবে এ শিল্প বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে। পৃথিবীর সমগ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি ১১ জনের মধ্যে ১ জন বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন পেশার সাথে জড়িত। চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, দৃষ্টিনন্দন জিবনাচার বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছে আকর্ষণ সমৃদ্ধ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে এবং ঘটছে পর্যটন বিপ্লব।


বাংলাদেশ স্বল্প আয়তনের দেশ হলেও সবুজ-শ্যামল, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এ দেশটির পর্যটন খাত ব্যাপক উজ্জ্বল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নতি করেছে। বাংলাদেশ সরকার তাই এই খাতের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে। ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে এ বছর পর্যটন বর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। এজন্য ভিজিট বাংলাদেশ ক্যাম্পেইন ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। বাংলাদেশ সরকার পর্যটন বর্ষকে সফল করার উদ্দেশ্যে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, বিকাশ এবং প্রচারণার জন্য ২০০ কোটি টাকা বাজেট গ্রহণ করে। বিভিন্ন দেশ থেকে বুদ্ধ্যিস্ট ট্যুরিস্টদের বাংলাদেশ এ আনার ২৭ এ অক্টোবর ২০১৫ আন্তর্জাতিক বুদ্ধ্যিস্ট সার্কিট শীর্ষক অনুষ্ঠানে ১৪টি দেশ থেকে পর্যটন মন্ত্রীদের বাংলাদেশে আনা হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিন এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বুদ্ধ্যিস্ট সার্কিট জোড়ালো করা এবং বুদ্ধ্যিস্ট পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ সহজতর করা।

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সংগঠন পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (BTB) দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ফেয়ার এ অংশগ্রহন করে এবং বাংলাদেশ এর পর্যটন কে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন সেমিনার , মিটিং ও ওয়ার্কশপ এর আয়োজন করে। ন্যাশেনাল হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট (NHTTI) ট্যুরিজম এন্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কোর্স ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এর মাধ্যমে পর্যটনে দক্ষ জনশক্তি উতপাদনে ভূমিকা রাখছে।

বিভিন্ন দেশ থেকে বুদ্ধ্যিস্ট ট্যুরিস্টদের বাংলাদেশ এ আনার ২৭ এ অক্টোবর ২০১৫ আন্তর্জাতিক বুদ্ধ্যিস্ট সার্কিট শীর্ষক অনুষ্ঠানে ১৪টি দেশ থেকে পর্যটন মন্ত্রীদের বাংলাদেশে আনা হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিন এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বুদ্ধ্যিস্ট সার্কিট জোড়ালো করা এবং বুদ্ধ্যিস্ট পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণ সহজতর করা।

পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর জন্য এবং পর্যটকদের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের জন্য পর্যটন পুলিশ গঠন করা হয়েছে। এ বাহিনী ২০১৩ সাল থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এর জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করে এবং পর্যটকদের বিভিন্ন সমস্যায় এরা এগিয়ে আসছে। এছাড়া বাংলাদেশে ১০টি ইন্টারন্যাশেনাল চেইন হোটেল এর নির্মাণ কাজ চলছে এবং ২০১৮ সাল নাগাদ আরও ১৮টি ইন্টারন্যাশেনাল চেইন হোটেল নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা রয়েছে পর্যটকদের সুবিধার্থে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রান্ত থেকে পর্যটকদের যোগাযোগ সুবিধার জন্য দেশে ২১টির বেশি এয়ারলাইন্স কাজ করছে এবং আগামী ১০ বছর নাগাদ আরও ৫১টি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে চালু হওয়ার কথা হওয়ার কথা রয়েছে। তাছাড়াও জল ও স্থলপথে পর্যটকদের যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল ২০১৪ এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে পর্যটন খাত জি.ডি.পিতে (GDP) যে সরাসরি ভূমিকা রাখছে তার পরিমাণ ২৯৬.৬ বিলিয়ন টাকা। পর্যটনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে ৯ লাখ ৩ হাজার ৫০০ জন এবং ধারণা করা হয় এ পরিমাণ আগামী ১০ বছরে ২০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। পর্যটনে খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৬০.৯ বিলিয়ন টাকা।

সবমিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের পর্যটন খাত ব্যাপক উজ্জ্বল। যেখানে বৃহৎ দেশগুলো পর্যটন খাতে উন্নতির মাধ্যমে উন্নয়ন করে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই কোন অংশে। পর্যটন খাতে বিপ্লব ঘটিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে এবং পরিচিতি লাভ করছে সমগ্র বিশ্বের সামনে।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:১৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুতোষ কবিতাঃ মিষ্টি খাবো

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৩৬




"মিষ্টি খাবো, মণ্ডা খাবো"—
বায়না ধরলো খোকা।
"চেঁচাস নে আর, বড্ড জ্বালাস,
তোর যে দাঁতে পোকা!"

খোকা বলে, "কোথায় পোকা?
দেখি না তো চোখে!
মাঝে মাঝে ব্যথা তবে
ওঠে থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন দেখে আসি, রাজাকার, লালবদর,ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে কেমন আছে‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:০১



কেমন আছে পাকিস্তানে বসবাসরত ৪০ লক্ষ বাঙালী?

১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিচার করার হুঙ্কার দিলেন। পাকিস্তানে বসে তখন খুনি জুলফিকার আলী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×