somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসুস্হ পথ শিশুুর চিকিৎসা এবং তাদের চলমান জীবন।

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
১ম দিন-

গতকাল মতিঝিলের ফুটপাত দিয়ে হাটার সময় এ শিশুর সাথে পরিচয় হল। পা খুড়িয়ে হাটছিল পকেটে পেলাম ঘামের মত জিনিষের একটি কৌটা এবং পলিথিন। কিছু ুআলাপে বুঝতে পারলাম তা নাকি dandy যা এ সকল পথ শিশুরা পলিথিনে নিয়ে নিঃশ্বাস নেয় এবং তা নেশার মত কাজ করে। আগেও এ বিষয়টি অনেক শুনেছি। শিশুটি মা বাবার ঠিকানা বিহীন ২ বছর ধরে সে ফুটপাতে থাকে।গতকাল তাকে অামার অফিস চিনিয়ে দিয়েছি আজ তাকে চিকিৎসা করানোর একটি চিন্তা আছে।জানিনা সে আসবে কিনা? তার এক পা এর অবস্হা খুব খারাপ। এক হাতও Infected! এই হল এ সকল শিশুর অবস্হা আর পাশাপাশি আমরা হলাম ভদ্র নামধারী সাহেব। ঘৃনা হয়।
চলমান>(২য় দিন) চিকিৎসা দেয়ার জন্য যখন তাকে খুজতে গেলাম দেখি সে দৈনিক বংলার দক্ষিনমুখী রোড়ের বিদ্যুৎ খুটির আড়ালে দাড়িয়ে পলিথিন এর মাধ্যমে Dandy নামের chemical এর ঘ্রান নিচ্ছে।আমাকে দেখার সাথে সাথে সেগুলো ফেলে দিল। আমি আদর দিয়ে এনে তাকে zet দিয়ে হাত মুখ ধুইতে দিলাম। তারপর আমার অফিসের ড়াক্তার দেখালাম প্রেসক্রীপশন নিলাম। দুপুরে আমার অফিসের বারান্দায় বসিয়ে অফিস পাড়ায় দুপুরে খাবার সরবরাহকারীর খাবার খেতে দিলাম।আমিও আমার lunch করছিলাম নিরাপত্তা প্রহরীকে বলে রেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখ হল অফিস কাজে আমার একটু দেরী হওয়ায় সে নিরাপত্তা প্রহরীকে ফাঁকি দিয়ে লিফটে ওঠে ১০ তলা থেকে নেমে চলে যায়। প্রেসক্রীপশনের ঔষুধ দিতে পারিনি। আজ অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাইনি।আরও এরকম কিছু শিশুকে বলে রেখেছি যারা এই এলাকার ফুটপাতে থাকে।ভাবতে দারুন কষ্ট পাই এ রকম তীব্র শীতেও এ রকম শিশু গুলো খোলা রাস্তার বা ষ্টেড়িয়াম বা ষ্টেশনের ফুটপাতে ঘুমায়।আমাদের মত লক্ষ চোখের সামনে তারা এভাবেই থাকে।আমাদের এই চোখ দিয়ে দেখে আমরা অনেক কিছু বুঝি কিন্তু এ সকল শিশুর এহেন অবস্হাকে বুঝতেই চাই না এ হলাম আমরা ?বড় হিংস্রতার পরিচয়ই আমরা দিয়ে যাচ্ছি! চরম দুঃখই অনুভব করি মাঝে মাঝে নীজেকে নীজে গালি দিই। এই আর কি? দোয়া করবেন যাতে এ শিশুকে সহসা তার ঔষুধগুলো দিতে পারি।
মেঘনা নদীর মাঝপথ থেকে লঞ্চ কেবিন থেকে (রাত ১১টা) গন্তব্য পুটুয়াখালীর গলাছিপা উপজেলা। অন্ধাকার নদী দেখছি গান শুনছি দারুন শীত অনুভব করছি আর মনের কথাগুলো বন্ধুদের জন্য লিখছি আসুন সকলে মিলে বা এককভাবে যতটুকু পারি এ সকল নিঃসপাপ শিশুদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও শিক্ষা দিই। দারুন ছওয়াব অবধারিত মনে করি।



পথ শিশু চিকিৎসার (৩য় দিন) - অফিসের গাড়ী হরতালের কারণে যানজঠ না থকায় ১ ঘন্টা আগে পৌছে যায় সে সুযোগে এ সময়টুকু এ সকল শিশুদের সাথে কাটানোর চেষ্টা করি। আজ সেই শিশুকে খুঁজে পেয়েছি যাকে চিকিৎসার পর ঔষুধ দিতে পারিনি সেদিন সে পালিয়ে চলে যাওয়ার কারণে আজ তাকে খুঁজে পেয়ে হাতছাড়া করিনি। ঔষুধের দোকানে নিয়ে গিয়ে ঔষুধ কিনে সোজা নিজ অফিসে এসে তাকে zet দিয়ে হাত পা মুখ ধোয়ার ব্যবস্হা করলাম।এখানে বলতে হয় তারা মূলতঃ ফুটপাতে থাকে অন্যদিকে গোসল করারও কোন সুযোগ নেই যে কারণে তাদের জামা ও শরীর বেশ ময়লাযুক্ত থাকে (ছবি দেখলে বুঝবেন)।এ সকল শিশু যাতে দৈনিক গোসল করতে পরে সে জন্য পাবলিক টয়লেট অথরিটির সাথে আলাপ করার চিন্তা করছি। টাকার বিনিময়ে নাকি সেখানে গোসল করা যায়।যাহোক, অতঃপর তার হাত মুখ ধোয়ার পর আমার কাছে এ ধরনের শিশুদের জন্য পূরবে থেকে রাখা জামার মধ্য থেকে একটি নতুন জামা পরিধান করিয়ে ড়াক্তারের প্রদানকৃত ১ ড়োজ ঔষুধ খাওয়ায়ে দিলাম।একটি ওয়েন্টমেন্ট তার ঘা তে মেঝে দিলাম ডাক্তারের পরামশঅ মত।অতঃপর তাকে বিদায় দিয়ে অফিস কাজ শুরু করলাম আজ আমি খুবই পরিতৃপ্ত চিকিৎসা করানোর চারদিন পর শিশুটিকে খুঁজে পেয়েছি।পলিথিনে মুড়িয়ে ঔষুধগুলো খাওয়ার নিয়ম বুঝিয়ে দিয়েছি।সকালে এ রকম আর একটি শিশুকে কুকুরে কামড়ানোর কারণে তাকে মহাখালী হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্হা করেছি এ শিশুটিও আমার পূবঅপরিচিত তারা সকলে ষ্টেড়িয়াম বায়তুল মোকাররম এলাকার ফুটপাতে থাকে প্রত্যেকেরই মা-বাবার সাথে বিচ্ছিন্ন সম্পকঅ অনেকেরই মা-বাবা উভয়ে নেই আবার অনেকের একজন আছে অন্যজন মারা গেছেন।মোটকথা তারা মা বাবা হীন বিচ্ছিন্ন পথশিশু।আরও দুটি শিশুর করুন কহিনী আছে তাদের একজন মেয়ে অন্যজন ছেলে তারা দু ভাইবোনই গত ২ বছর ধরে ফুটপাতে থাকে।মেয়েটি ছেলেদের মত চুল কেটে রাখে যতে কেউ বুঝতে না পারে সে মেয়ে। এ পুরো ঘটনা নিয়ে আমি একটি article লিখব তাদের কোন Gaurdian নেই। মেয়েটির Gaurdian হয়ে তাকে একটি মেয়েদের এতিমখানায় Admission প্রক্রিয়া চলছে success হওয়ার পর হৃদয়বিধারক এ ঘটনাঠি নিয়ে লিখব। আসুন সকলে মিলে এ সকল কোমলময়ী শিশুকে রক্ষা করি।দোয়া করবেন আমি এ সকল কাজে যাতে সফল হই।।

৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×