somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

-সব আইনের অপব্যহার বন্ধ হওয়া দরকার মনে করছি-কারণ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার কমে এখন বাড়ছে ডিএমপি অ্যাক্টে গ্রেফতার!-

৩১ শে মে, ২০১৬ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর ৫৪ ধারায় গ্রেফতার কমে বেড়েছে মেট্রো অ্যাক্টে গ্রেফতার। আগের তুলনায় তা হয়েছে দিগুন প্রায়। তিন দিনে ৫৪ ধারায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে মর্মে পত্রিকায় দেখলাম। অথচ আদালতের রায়ের আগে প্রতিদিনই ১০ থেকে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হতো। মামলা হতো দৈনিক গড়ে ৯টি করে। তবে ৫৪ ধারার ব্যবহার কমে গেলেও মেট্রো অ্যাক্টের ব্যবহার বাড়ছে বলেও খবরে প্রকাশ হয়েছে। গত দুই দিনে ২৫টি মামলা হয়েছে মেট্রো অ্যাক্টে। এক দিনে মেট্রো অ্যাক্টের আটটি মামলায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগে এই আইনের তেমন ব্যবহার দেখা যায় নি কখনো।

৫৪ ধারায় গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ৯টি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে যেকোনো একটি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে, ঘনিষ্ঠদের প্ররোচনায় ৫৪ ধারার বেশি ব্যবহার হতো বলে খবরে মাধ্যমে জানতে পারলাম। এর ফলে বিনা কারণে অনেককে ১০-১৫ দিন কারাগারে থাকতে হয় ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের ফলে। এখন ৫৪ ধারার পরিবর্তে মেট্রো অ্যাক্টের ৭৭ ধারায় চিৎকার করা, কারো গতিরোধ করা, ৭৮ ধারায় শান্তিভঙ্গের উসকানি, ৬৯ ধারায় ফুটপাথে পণ্য বিক্রি, ৭৬ ধারায় টিজ করা, ৭৪ ধারায় নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা ইত্যাদি ব্যবহার করে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে তাও খবরের মাধ্যমে জানতে পারলাম।

দেশে আইন তৈরি করা হয় অপরাধ দমনের জন্য। এই আইন প্রয়োগ করার এখতিয়ার যাদের দেয়া হয়, তাদের হাতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় বিবেচনা প্রয়োগের অনেক ক্ষমতা। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে সহজে যে কাউকে ভোগান্তির শিকার করা যায়। সাধারণভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অন্যায়ভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্য অথবা অপরাধী ধরার কৃতিত্ব জাহির করার জন্য অথবা ঊর্ধ্বতনের নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য এ ধরনের কাজ করে থাকেন বলে সাধারণ জ্ঞানে বুঝতে পারি। ক্ষমতাসীনরা যখন রাজনৈতিক স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে, তখন তারা পুলিশকে আর্থিক সুবিধা সহ অন্যান্য সুবিধালাভের জন্য অপব্যবহার করতে দেখা যায়। ৫৪ ধারার অপব্যবহারের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ বলে মনে করি।

কেউ অপরাধ সংঘটনের জন্য ঘোরাফেরা করছে বলে সন্দেহ হলেই পুলিশ তাকে আটক করতে পারছে! এখানে পুলিশ যে-কাউকে সন্দেহ করতে পারে! আবার কোনো খুনখারাবি বা অন্য কোনো অপরাধ কোথাও সংঘটিত হলে যে-কাউকে পুলিশ এজন্য সন্দেহ করতে পারে অথবা আটকও করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে এখন পুলিশ বিভাগের কিছু অসাধু পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের পাল্লাই বেশি ভারী হয়ে যাচ্ছিল দিন কে দিন। যদিও সাধারণত এক্ষেত্রে পুলিশকে অতীতে এতবেশি বেপরোয়া হতে দেখা যায় নি এবং তাদের ব্যাপারে তেমন কোনো গুরুতর অভিযোগও ছিলো না। আমরা মনে করি ঊচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশ অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে গেছে!

এখন শাসকদের সাথে ভিন্নমত পোষণ অথবা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়াই যেনো অপরাধ হয়ে পড়েছে! এই ধারা চলতে থাকলে রাষ্ট্রে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের কোনো পরিবেশ অবশিষ্ট থাকবে না। আইনের উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারের মূল সমস্যার সমাধান করা না হলে, অথবা সেই আইনের ব্যবহারের ব্যাপারে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা না হলে; তখন অন্য আইনের অপব্যবহারই শুরু হবে আর এটাই স্বাভাবিক।

তাই বলবো, কোনো বিশেষ আইনের চেয়ে এখন প্রয়োজন যেকোনো আইনের অপব্যবহার বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। আমরা এও আশা করছি দেশের সম্মানিত সর্বোচ্চ আদালত এ ব্যাপারে দৃষ্টি দিবেন।

বি: দ্র: আইন আছে, আইন হবে, আইন ভেঙ্গে আবার নতুন আইন হবে; তবে সেটা যেনো হয় সকল স্তরের লোকের উপকারার্থে। আর তার সুফল যেনো পায় দেশের সকল জনগন। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৬ সকাল ১০:৪৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×