
বাবলু হাইস্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে। এক ট্রাফিক সার্জেন্ট সন্দিহান হয়ে তার পিছু নিলেন। তিনি ধরে ফেললেন বাবলুকে। বললেন, ‘আপনি এত স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছেন কেনো? জানেন না, শহরের ভেতর ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটারের বেশি স্পিডে গাড়ি চালানো নিষেধ? বাবলুর কোনো ভাবন্তর নেই। সে চুপ। ট্রাফিক সার্জেন্ট বললেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করুন’!
বাবলু : আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।
ট্রাফিক : কি! ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া আপনি গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন?
বাবলু : জি। হঠাৎ আমার স্ত্রীকে খুন করে ফেললাম। তাই তাকে গুম করতে বেরিয়েছি।
ট্রাফিক : আপনি আপনার স্ত্রীকে খুন করে ফেলেছেন!?
বাবলু : জি।
ট্রাফিক : লাশ কোথায় রেখেছেন?
বাবলু : গাড়ীর বক্সে রেখেছি।
ট্রাফিক সার্জেন্ট সাথে সাথে ওয়াকিটকির মাধ্যমে আশ-পাশের সব পুলিশ স্টেশান এ খবর দিয়ে দিলেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ এসে ঘ্টনাস্থল ঘিরে ফেললো। তাদের সাথে পুলিশের বড় কর্তাও ছুটে এলেন। ছুটে এলো মিডিয়ার লোকজনও। চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে গেলো। পুলিশের বড়কর্তা বাবলু কে বললেন, আপনি নাকি আপনার স্ত্রীকে খুন করেছেন?
বাবলু : কী বলছেন! খুন করবো আমি! কিন্তু কেনো! আপনার সার্জেন্ট ঘুষ না পেয়ে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। আপনি আমার গাড়ি সার্চ করে দেখতে পারেন। কোথায়ও লাশ পাবেন না। কারণ আমি খুন করিনি।
বড়কর্তা : সকল পুলিশ সদস্যদেরকে গাড়ি সার্চ করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু কোনো লাশ খুঁজে পাওয়া গেলো না। ট্রাফিক সার্জেন্ট মাথা নিচু করে থাকলেন বড়কর্তার সামনে। তিনি কাঁচুমাচু মুখে বললেন, উনি আমাকে সেরকম কথাই বলেছিলেন।
বাবলু তখন চেচিয়ে বলল, ‘মিথ্যা কথা’! আপনার সার্জেন্ট মিথ্যা কথা বলছে। তখন ট্রাফিক সার্জেন্ট অসহায় ভঙ্গিতে বাবলু কে আটকাতে বললেন, এবং বড়কর্তাকে উদ্দেশ্য করে বাবলুর কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখার অনুরোধ জানালেন।
বাবলু সাথে সাথে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করে বড়কর্তাকে দেখালেন। পুলিশ সার্জেন্টের চোখ তখন ছানাবড়া। বাবলু, আর কত মিথ্যা অপবাদ দিবেন আমাকে বলুন। এবার বলুন, আমি হাইস্পিডে গাড়ি চালাচ্ছিলাম! বলুন, বলুন, বড়কর্তাকে এটাও বলুন!!! নিশ্চয় এখন আর আপনার বড়কর্তা আপনার কথা বিশ্বাস করবেন না।
পুলিশ সার্জেন্ট হতবাক। কী কৌশলেই না এই লোক তার হাইস্পিডে গাড়ি চালানোর কথাটা আড়াল করে ফেললো!
পাদটিকা : দেশে একের পর এক অপরাধ হচ্ছে। কথাটা যেমন সত্য; তেমনি প্রথম অপরাধ টা ধামাচাপা দেয়ার জন্য দ্বিতীয় অপরাধটিও সংগঠিত হচ্ছে। যার ফলে কোনোটির সঠিক তথ্যপ্রমাণ হাজির করা কিংবা সঠিক তদন্ত পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর মুছে যাচ্ছে প্রথম সংগঠিত অপরাধের তথ্যপ্রমাণ। এভাবেই ভুলে যাচ্ছে মানুষ অতীতের অপরাধ সমূহ। আমরা সব সময় এক তরফা গল্পের বিরোধী।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



