somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি "চামেলি" ফুলকে বাঁচানোর আবেদন

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



৮ বছর ধরে বিছানায় ক্রিকেটার চামেলি খাতুন! শিরোনামটা দেখেই আতকে উঠি। এতো দিন ধরে অসুস্থ আর আজকে জানতেছি আমরা? ১৯৯৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত কি কম অবদান ছিলো? নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে তিনি এখন ঘরবন্ধি! ২০১০ সালে এশিয়া কাপের রানার্সআপ হয়ে উঠা যার হাত ধরে, তাকেই আমরা এতদিন বেমালুম ভুলে আছি?

এইতো মাত্র ক'দিন আগেই প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ টি টুয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে চামেলি ছাড়াই বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল শিরোপা জিতেছে। আমরা তাদেরকে বাহ বাহ দিয়েছে। তখন একবারো মনে হয়নি তার কথা! হয়তো আজ যারা গৌরব গাঁথা জয়ে সংবর্ধনায় ভাসছে তারাও একদিন চামেলি হয়ে যাবে, তাদের জায়গায় অন্য কেউ চলে আসবে। আমরা কোন চামেলিকেই মনে রাখি না, রাখতে চাই না! আমরা চাই টাটকা খবর!

ক্রিকেটার চামেলি অসুস্থ হয়ে যে ঘরে শুয়ে আছে একটু চেয়ে দেখুন তো ভালো করে। গাঁ শিউরে উঠবে নিশ্চিত। কতটা জরাজীর্ণ দেয়াল! নেই কোন জৌলুসের ছাপ! আমরা হয়তো ভাবি ক্রিকেটাররা কতো কতো সুখে আছে! হ্যাঁ আছেও। সাকিব তামিমরা সেই সুযোগ ভালোই পায়! শুধু নারীদের বেলায় হাত ছিকেই উঠে।



এই তো সেদিনের চ্যাম্পিয়ন নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা প্রতিবেদন পড়েছিলাম। আমি রীতিমতো অবাক হয়েছিলাম! এতো অল্প টাকা পেয়েও কতো কষ্ট তারা করে? কিভাবে পারে? হয়তো নারী বলেই পারে। আসল কথা কি জানেন আমরা যতোই নারী অধিকার কিংবা নারী ক্ষমতায়নের কথা বলি না কেন সেই পুরাতন- বাপ দাদাদের যুগ থেকে হয়ে আসা নারীদের উপর জুলুম নিপীড়ন অবহেলা এখনো আছে। আমরা অবিরত তাদের অবহেলা করছি। মুখে নারী জাগরনের কথা বলি ঠিকই চেতনার রক্তে যে অবহেলা তা কি আমরা দূর করতে পেরেছি? এই রকম নারীর ক্ষমতায়ন কি চেয়েছিলাম আমরা? মাঝে মাঝেই শুনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরকে বাড়ি গাড়ি দেয়া হয়। সাকিব কিংবা মুস্তাফিজদের নিয়ে আমরা যতটা সচেতন, চামেলিদের ততোটাই ভুলে আছি।

বাবা রুস্তম আলী, মা মনোয়ারা, ছয় বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট অথচ সংসার চালানোর মতো এতো বিরাট দায়িত্ব যার কাঁধে সেই যদি নিঃশেষ হয়ে যায়? সংসার চলবে কি করে? সংসারের কথা না হয় একপাশেই রাখলাম কিন্তু তার যত অবদান এই দলে আমাদের কি কোন কর্তব্য নেই তার প্রতি? তবে এতদিন পরে হলেও অনেকের মনে হয় তার প্রতি মায়া জন্মেছে। কেউ কেউ পাশে দাঁড়াচ্ছে দেখে ভালো লাগছে।

জরাজীর্ণ ঘরটিই প্রমান করে দেয় তার শোচনীয় অবস্থার কথা। এতো কথা বলে যা বুঝানো সম্ভব নয় আমার মনে হয়ে আপনারা যদি খালি চোখে এই ছবিটার দিকে তাকান সব কিছু দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হয়ে যাবে। একদিন যার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ২২ গজ পেয়েছিল প্রানের ¯পন্দন সেই মানুষটির জীবন আমরা ২২ গজে পরে থাকতে দিতে পারি না। আমাদের দুটি হাত একদিন তার ব্যাটিং পারফরমেন্সে তুলে ধরেছিলাম। আসুন আমরা আজকে তার এই দূর্দিনে হাত বাড়িয়ে দেই। সাহায্য নয় কর্তব্যের হাত, করুনা নয় ভালোবাসার হাত। আমাদের দায় মুক্তির জন্য। অন্যথায় আপনি ঋণী থাকবেন। নিজের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে।

যেই নারী আমাদের কাব্যের উপাদান, যেই নারীকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ভালোবাসার স্বপ্ন বুনি মনে মনে, সেই নারী, হ্যাঁ চামেলিও সেই নারী। তবে লড়াকু। জীবনের যুদ্ধে হেরে যেতে বসেছে। পায়ের লিগামেন্ট আর মেরুদন্ডের নরম ডিস্ক অনেকটা নষ্ট সিডির ডিস্কের মতো শেষ হতে চলেছে। মাত্রতো ১০ লাখ টাকা। ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাত! তার পরেও একটা ফুল, একজন চামেলি, একটা চামেলি ফুল ঝরে যেতে পারে না, আমরা তা হতে দিতে পারি না, যদি আমাদের মনে সামান্য দেশপ্রেমও থাকে। না হলে আমি বলবো আর কোন দিন , জীবনে আর কোনদিন নারী বিষয় নিয়ে কিংবা নারীর প্রেম নিয়ে কবিতা লিখে সময় নষ্ট করার দরকার নেই।

চামেলির নিজের মুখেই শুনুন তার কথাঃ

“আমার বৃদ্ধ বাবা-মা আর বোনকে দেখতে হয়। শরীরের এত যন্ত্রণা নিয়েও শুধুমাত্র তাদের কথা ভেবে কতদিন নিজেকে বলেছি- ‘তুই উঠে দাঁড়া, উঠে দাঁড়ালেই পারবি। পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়া।’ আমি উঠে দাঁড়িয়েছি। আবার অফিসে গিয়েছি। কিন্তু এখন আর পারছি না। চাকরিটা আমার চলে যাবে। আমি সংসার চালাতে পারব না। আবার আমার চিকিৎসা করাবো কী দিয়ে? আমার রক্তের সঙ্গে মিশে আছে ক্রিকেট। শুধু ক্রিকেট নিয়েই স্বপ্ন দেখেছি। সেই ক্রিকেটও আমি আর খেলতে পারব না।” ‘ছেলে ক্রিকেটারদের একটু কিছু হলে বিসিবি চিকিৎসা করায়। আর আমরা মেয়ে হওয়ায় এখানে পিছিয়ে আছি। ব্যাপারটি বিসিবিসহ অন্য ক্রীড়া সংগঠনগুলোর দেখা উচিত।’
চামেলী বললেন, ‘এতদিন কারও কাছে সহযোগিতা চাইনি। কিন্তু দিন দিন অবস্থা যে দিকে যাচ্ছে, এখন আর কোনও উপায় নেই, কারণ প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তাই সহযোগিতা খুবই দরকার। যত তাড়াতাড়ি সহযোগিতা পাবো, তত তাড়াতাড়ি উন্নতমানের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।’
জীবনের ২২ গজে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলা চামেলী জিততে চান এই যুদ্ধ। ক্রিকেটের আকাশে জ্বলে উঠতে চান উজ্জ্বল তারা হয়ে। কিন্তু একা আর চালিয়ে যেতে পারছেন না লড়াই, চাইছেন সবার সহযোগিতা।

পরিশেষে একটাই কথা আবার সুস্থ হয়ে উঠুক একটি স্বপ্ন, একজন নারী। চামেলি ফুলের মতো।





ছবি: অনলাইন থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ১১:৩৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এলোমেলো জীবনের দিনলিপি থেকে-২৪

লিখেছেন মাহমুদুর রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:৩৬

(ক)

আরজ আলী মাতুব্বরের প্রথম আটটি প্রশ্ন এবং আমার উত্তরঃ-
যেমন -
১। আমি কে? (নিজ) =
উত্তরঃ আমি মানুষ।মান(আত্মসম্মান) ও হুঁশ(বিবেক) =আশরাফুল মাখলুকাত।

২। জীবন কি শরীরী বা অপার্থিব?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার পথে পথে- ৭ (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:০৪



ঢাকা শহরে থাকি।
মাঝে মাঝে প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে নানান জায়গা ঘুরে বেড়াই। অনেক কিছু চোখে পড়ে। পকেটে মোবাইল থাকে তাই ইচ্ছা হলেই সাথে সাথে ছবি তুলে নিই। ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

|| দিশেহারা ||

লিখেছেন নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন, ২৫ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২১



আমি উম্মাদ আজ-
পথের ভুলে দিশেহারা,
বিষণ্ণ সময়, কন্টক পথ-
সঙ্গী বিরহ যন্ত্রণা।

পথের টানে পথিক আমি-
সকাল সন্ধ্যা রাত্রির,
নই মন্থর- ছুটি দুরন্ত-
সদা থাকে এই মন অস্থির।

ডাকি ঈশ্বর, হইলো পর-
যাদের ভেবেছি আপন,
একা নির্জন- পথ দুর্গম-... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতার ৫০এর কাছে এসেও এ জাতি স্বাধীনতা শূন্যতায়...

লিখেছেন স্বপ্নের আগামী, ২৫ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:০৪

স্বাধীন আমি তাহার মতোই
তিনি যেমন চাহেন,
তাহার হাতে নাটাই আমার
একটু নড়াচড়ায় সূতা টানেন!

হেঁচকা টানে ভয় দেখিয়ে
শিকলের ঝনঝন,
ভগবান যেনো শাসক গুস্টি;
নির্দেশনায় ইঙ্গিত পুজোয় কল্যাণ!!

পুজোর বেদী পরিয়ে দিয়ে
দেয় স্বাধীনতার খড়কুড়া,
মনের ভেতরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা কারা চেয়েছিলেন, কারা এনেছিলেন, কারা স্বাধীনতা বুঝে নিয়েছেন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে মার্চ, ২০১৯ ভোর ৬:৫৮



*** কোন ১ ইডিয়ট পোষ্টটাকে রিফ্রেশ করার শুরু করেছে; দেশ ভরে গেছে বানরে ****

পুর্ব পাকিস্তানের কোন শ্রেণীর জনতা স্বাধীনতা চেয়েছিলেন? দরিদ্ররা স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। ফজলুল কাদের চৌধুরী, মোনায়েম খান, একে খান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×