somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগ দিবসের বিশেষ ম্যাগাজিন "বাঁধ ভাঙার আওয়াজ" পাঠ প্রতিক্রিয়া-- ০৪ (কবিতাংশ-২)

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কবিতা: তন্দ্রাচ্ছন্নতায় (বৃতি হক)

কবিতার মূলভাব:
কবিতায় কবি তার প্রেমিকার কাছে পৌঁছাতে চান। শব্দের ব্যবহার আর ভাব দেখে (পড়ে) মনে হয় কবি তার প্রেমিকাকে হারিয়ে ফেলেছেন অচেনা কোন গ্রহে। অথবা প্রেমিকা তাকে ফেলে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ১ম ভাব গ্রহন করলে কবিতার ভাব হয় এরকম: "হে প্রিয়তম, কোথায় রয়ে গেলে তুমি? সামান্য তদ্রাচ্ছন্নতায় তোমাকে হারিয়ে ফেলার বেদনা আমাকে তুচ্ছ করে দিচ্ছে। প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগটুকু দিলে না প্রিয়!"

২য় ভাব গ্রহন করলে দুই ভাবে একে ব্যখ্যা করা যায়: (১) কবির প্রিয়তম কবিকে ফেলে চলে গেছেন অন্য কারো হাত ধরে। সেই বিরহে কবি এতটাই ব্যথিত যে নিদ্রা-জাগরন এক করে তাকে খুঁজে ফিরছেন। খুঁজে ফিরছেন তার ভালোবাসাকে। (২) কবির প্রিয়তম প্রেমিক ইহধাম ত্যাগ করে পারি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। আকাশের তারা হয়ে জ্বলজ্বল করছেন আর দেখছেন কবিকে। তাইতো কবি নিদ্রায় জাগরনে তদ্রাচ্ছন্নতায় একই স্বপ্ন দেখে চলেন। স্বপ্নের মাঝেই উঠে পড়েন মেঘের ভেলায়। একবার প্রেমিকের সন্ধানে শুধু।।

কবিতার দুটি লাইন:

তোমাকে দেখব বলে ভেসে যেতে যেতে -- ঘুমের কাজল লেপ্টে গেল,
কত শত সহস্রবছর অতলান্তিকের জলজরেখায় তোমার হাসিমুখ,
শাওলায় আমাদের জন্মের খসড়া-নির্মলিন ....।


কবিতা- অনাহুত গন্তব্য (শেখ আহমেদ ফরহাদ)

কবিতার মূলভাব:
কবিতায় কবি মনের আশা ভঙ্গের করুণ সুর স্পষ্ট। কবি খুঁজে ফিরছেন আসল মানুষ। চারিদিকে জনারণ্যের মাঝেও কবি খুঁজে পাচ্ছেন না সেই মানুষ। মানুষ আছে, কার্বনডাই অক্সাইড বাড়ানোর মানুষ, টয়লেট ভরে ফেলার মানুষ। অন্যায়ের বিপক্ষে দাঁড়ানোর মতো মানুষ নেই। অনাসৃষ্টিকে ঠেকানোর মতো মানুষ নেই। তাইতো কবি হাটছেন সে সব অন্যায় আর অনাচার দূর করতে। কবি সে পথে হাঁটতে গিয়ে দেখছেন পথটি মোটেও ফুল বিছানো নয়। বন্ধুর এই পথ পারি দিয়েই কবি হাঁটবেন, লড়ে চলবেন অন্যায় আর শত্রুর বিপক্ষে।

প্রতিক্রিয়া:
বক্তব্য শেষ না হতেই আরেক লাইনে চলে যাওয়া, ভাবের তুলনায় ভাষা অনেক কঠিন এবং অনেক বানান ভুল (প্রায় লেখাতেই) কবিতার সৌন্দর্য্য ক্ষুন্ন করেছে। তবে আরেকটু সময় নিয়ে সম্পাদনার কাজ করতে পারলে নিঁখুত করা যেত। আশা করি আগামীতে ব্লগ ম্যাগাজিনের এই সব ছোট ছোট ত্রুটি থাকবে না।

যেমন:

অনাবিল প্রশান্তির জন্য,
আকাশের মতো হৃদয়ের জন্য
যে পথেই হেঁটেছি মাঝপথে
থেমে গেছি অকারণ,
প্রেরণাহীন এগিয়ে যাব কি
করে বলো?


কবিতা: কতোদিন তোমাকে লিখি না (নীল সাধু)

কবিতার সারকথা:
একটি বিরহমাখা কবিতা। কবি আর তাঁর প্রেমিকার মাঝে এখন আর যোগাযোগ নেই। ভেঙ্গে গেছে সম্পর্ক। কথা হয়না তাদের মাঝে। এই তো কদিন আগেও যার সাথে কত কথা, কত খুঁনসুটি! যার দেহের প্রতিটি ভাজে ভাজে ছিল কবির নি:শ্বাস! যার হাতের চিঠির ছোয়ায় জেগে উঠতো কবির সত্তা, সেই প্রেয়সীও আজ অচেনা। তার সাথেও কথা হয় বহুদিন। আর কি হবে না কথা? হবে না কি দেখা, আলাপ! কবি হয়তো চান, কিন্তু দোলাচলে থেমে যান অজান্তেই। তাইতো একমনে আজ নিজের কথা নিজে লিখতেই এই কবিতার অবতারনা।

প্রতিক্রিয়া:
সহজ সরল আর প্রাঞ্জল ভাষায় একতি বিরহের কবিতা। ভাব এবং ভাষা কোনটারই কমতি নেই। একটানে পড়ে ফেলার মতো। পড়ে বুঝা যায়। প্রেমিকা হারা প্রেমিকগণ স্মৃতি কাতর হয়ে পড়বেন এই কবিতা পাঠ করে নিশ্চিত।

যেমন:
আমরা আমাদের কাছ হতে পালিয়ে গেছি
দূরে সরে গেছি
কাছে থাকতে চাইনি তা নয়
তবুও এই দেয়াল
দূরত্বের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি
কষ্ট আছে
আর্তি আছে
তবুও আজ এটা সত্য বলেই
আমি তোমার কাছে লিখি না
তুমিও লিখ না
অথচ ভেবে দেখ আমরা একে অন্যের জন্য কতটা উন্মুখ ছিলাম
সারাদিন কতকিছু
অথচ আমরা এর মাঝেও একজন অন্যজনের হয়ে থাকতাম
কথা শোনার জন্য উদগ্রীব
হাসি দেখার জন্য অপেক্ষা
তারপর সেই চিঠি
আহা কতটা অধীরতা ছিল মনে ........।।


কবিতা: ফিসফাস শব্দের কথন (অপর্ণা মৃন্ময়)

কবিতার মূলভাব:
কবিতাটি শুরু না হতেই শেষ হয়ে যায়। মূলভাব যা বুঝা গলে তা হলো: কবি আর তার প্রিয়তম এখন দুজন দুজনার। সুখের সাগরে ভেসে বেরাচ্ছেন দুজনে মিলে। নেই কোথা কোন শব্দ, কোন কোলাহল। নির্জন এক প্রান্তরে। সামান্য কথাও সেখানো ঢেউ তুলে, হৃদয়ে কথার ফিনফিসানি দোলা দিয়ে যায়। সামান্য একটু নরম বাতাসেই চুলে ঢেউ খেলা করে। সে রূপের উপর বিকেল গড়িয়ে নামে সন্ধ্যা, কেটে যায় রাত্রি দ্বিপ্রহর। এভাবেই মিশে যায় একে অপরের মাঝে। হাজার বছর পরেও যেন মিশে থাকে একে-অপরে।

কবিতাটি তুলে ধরলাম, আপনারাই বলুন কেমন লাগলো:

এমন এক নীরব সাগরে পৌঁছেছি
যেখানে ফিসফাস শব্দও কম্পন তোলে
রহস্য মন্দিরের চূড়ায়।
সামান্য একটু উন্মনা হাওয়ায়,
কাঁধ থেকে খসে পড়া
মসলিন আঁচলের মৃদু গুঞ্জনে
বিকেল আমাদের দিকে ঘুরে যায়
রাত্রির নরম আলোতে।

এমনি করে কেটে গেছে
বহু দিন আর রাত
তবু আজো মনে হয়
পৃথিবীর আদি কথা, রহস্যের ঘেরাটোপে
এখনো স্থির হয়ে আছে
তোমাতে-আমাতে।


কবিতা এখানেই শেষ। সব শেষে ব্লগ ম্যাগাজিনে পাঠানো আমার কবিতাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। যদিও কবিতাটি ব্লগ ম্যাগাজিনে স্থান পায়নি। এতে মোটেই কষ্ট পাইনি, কারন এর থেকেও দারুণ সব লেখা পড়তে পেরেছি। এই কবিতার মূলভাব আশা করি সহজে বুঝতে পারবেন। কেমন লাগলো কবিতাটি, জানাবেন।

কবিতা: বাবা হবো আমি।-- হাবিবুর রহমান (ব্লগার হাবিব স্যার)

বাবা হবো আমি প্রথম যেদিন শুনেছি বিবির কাছে,
পৃথিবীর সব সুখের ঠিকানা উড়ে যেন বুকে আসে।
বাবুটার হাত কত ছোট হবে কতই না তুলতুলে,
ছোঁয়া পেলে তার মনের বাগিচা ভরে যাবে ফুলে ফুলে।
তুলতুলে তার ছোট দুটি পায়ে আমার বুকেতে হাটি,
সাফ করে দিবে সকল যাতনা হৃদয় করবে খাঁটি।
শিশুটাকে নিয়ে স্বপন বুনেছি সাজিয়েছি কত আশা,
পৃথিবীর সব সুখপাখি এসে হৃদয়ে বাঁধিছে বাসা।

কাঁশফুলেদের কানে কানে গিয়ে শরৎ সন্ধ্যাবেলায়,
খবর দিয়েছি ফুল-পাখিদের শুভ্র মেঘের ভেলায়।
গুমোট গরমে চারিদিকে চুপ নাই কোথা সমীরণ,
খুশির খবরে দোলে উঠে তবু কাঁশফুলেদের বন।
প্রজাপতি শুনে ফুলেদের কাছে সংবাদ দেয় ত্বরা,
হাসনাহেনার সুবাসের স্রোতে মেতে উঠে এই ধরা।
কাঞ্চন ফুলেতে গহনা গড়েছে বাবুই পাখির দল,
পারাবত এসে মুক্তা ছড়াবে পার হয়ে লোনা জল।
জোনাকিরা এসে আবদার করে ছুঁয়ে দিবে তার গাল,
রাঙা ধেনু নাকি পুষ্টি জোগাবে ছেড়ে দিয়ে তার হাল।
খুশির খবরে ঘোর আঁধারেও আলো দেয় সুধাকর,
আলোর মিছিলে ভরে উঠে যেন আমাদের কুঁড়েঘর।
বাবা হবো তাই খবর পেয়েছে আকাশের অধিপতি,
জলধর এসে ঘন বরষনে ভিজিয়ে দিয়েছে ক্ষিতি।
শিশিরের জল গোসল করাবে সুরুজ বিলাবে তাপ,
শিশুটাকে নিয়ে সুখ আয়োজনে অবনীটা সয়লাব।

নতুন শিশুর আগমনী গান শত সাধনার ফল,
সেই মধু সুরে প্রাণ ফিরে পায় হৃদয়ের শতদল।
পৃথিবীর সব সরাব জঞ্জাল পণ করি মনে মনে,
বাসযোগ্য হবে সারা ধরণী নতুনের আগমনে।

লেখাটা শেষ করে যখনই পোস্ট করবো ভাবছি তখনি শাট ডাউন মারলো কম্পিউটার। ফলাফল সব লেখা আবার নতুন করে সাজাতে হলো। ধন্যবাদ সবাইকে সাথে থাকার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:০৮
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার লেখা প্রথম বই

লিখেছেন ফারহানা শারমিন, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৩



ছোটবেলা থেকেই প্রচন্ড রকম কল্পনাপ্রবণ আমি। একটুতেই কল্পনাই হারিয়ে যাই। গল্প লেখার সময় অন্য লেখকদের মত আমিও কল্পনায় গল্প আঁকি।আমার বহু আকাংখিত বই হাতে পেয়ে প্রথমে খুবই আশাহত হয়েছি। আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- নয়

লিখেছেন করুণাধারা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০২



আগের পর্ব: নতুন জীবন- আট

অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমার বোন পেট্রার জন্মকে স্বীকৃতি দেয়া হল। আমাকে জানানো হল আমার একটা বোন হয়েছে। আমি বোন দেখতে গেলাম, দেখি মায়ের পাশে ছোট একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন নীল আকাশ, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩৬



[সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×