
আমাদের বাংলাদেশের মেয়েদের অনুর্ধ ১৬ ফুটবল দলের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর স্কুলে আসলে কি ঘটেছিল ?
আজ গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনা নিয়ে নানা ভাষ্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।বাংলাদেশের অনুর্ধ ১৬ ফুটবল দলের বেশিরভাগ মেয়েই কলসিন্দুর স্কুলের ছাত্রী। বাংলাদেশের জাতীয় স্কুল ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে কলসিন্দুর স্কুল সবার নজর কাড়ে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবলে তাদের নজর কাড়া সাফল্যের পর স্কুলের ফুটবলাররা প্রায় তারকা খ্যাতি পেয়েছে।কিন্তু সম্প্রতি স্কুলের শরীরচর্চার শিক্ষক একজন মেয়ের অভিভাবককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ উঠে। এই অভিযোগে তিনি থানায় মামলা করেন। ইতোমধ্যে শরীরচর্চার শিক্ষক জবেদ আলী তালুকদারকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানা যায়। যতদূর জানা যায় তিনি এখন পলাতক রয়েছেন।
এসব ঘটনার ব্যাপারে কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল মোহাম্মদ জালালউদ্দীন ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রিয়তোষ বিশ্বাস বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন । আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য দেখিয়ে দেশে ফেরা তাদের স্কুলের মেয়েদের নিয়ে এ পযন্ত যা হয়েছে বা যা ঘটেছে তার বিস্তারিত তারা বলেছেন বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রিয়তোষ বিশ্বাস জানান যে মেয়েদের দলটি ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর স্কুলে একটা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল মেয়েদের ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে। সেখানে মেয়েদেরকে মিষ্টিমুখ করানো হয় তাদের কৃতিত্বের জন্য।
তিনি আরো বলেন বৈঠকের এক পর্যায়ে আন্তস্কুল ফুটবল টুর্ণামেন্টে কলসিন্দুর স্কুল টিমের অংশগ্রহণ নিয়ে কথা হচ্ছিল। তখন স্কুলের শরীরচর্চা শিক্ষক জবেদ আলী তালুকদার জানান যে আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় কলসিন্দুর স্কুলের খেলা রয়েছে কুমিল্লায়। তিনি স্কুল টিমে খেলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন জাতীয় টিমে খেলা আসা কয়েকজন মেয়েকে। কিন্তু তারা জানান ১৭ই সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের সংবর্ধনা দেবে। সেজন্য তাদের ঢাকায় যেতে হবে। তাই তারা খেলতে পারবে না।
প্রিয়তোষ বিশ্বাস বলেন একথা শুনে শরীর চর্চার শিক্ষক একটু ক্ষেপে যান এবং মেয়েদেরকে বকাবকি করে বলেন যে স্কুল টিমে খেলে তোমরা এত বড় হয়েছে সেই স্কুলের নাম তাহলে আর মুখে নিও না। আর যদি নাও তাহলে তোমাদের দাঁত ভেঙ্গে দেব।
তিনি আরো জানান মিটিং শেষে অভিভাবকরা গ্রামের বাজারে রাতে এক চা দোকানে এই নিয়ে কথা বলছিলেন। তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন শরীরচর্চার শিক্ষক জবেদ আলী তালুকদার। সেখানে এই নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জবেদ আলী তালুকদার একজন অভিভাবককে লাথি মারেন বলে তিনি শুনেছেন।কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল জালালউদ্দীন তালুকদারও বিবিসিকে এই একই ধরণের ভাষ্য দিয়েছেন।
তবে স্কুল থেকে মেয়েদেরকে বহিস্কার করার হুমকি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন প্রিন্সিপ্যাল এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি দুজনেই।প্রিন্সিপ্যাল জালালউদ্দীন তালুকদার জানিয়েছেন শরীরচর্চা শিক্ষককে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।
রিপোটঃ বিবিসি বাংলা
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




