আমি আর রানা হাটছিলাম, হাতে ঝাল মুড়ি। খাওয়া শেষে ঠোংগাটাকে বলের মত করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে রানার দিকে তাকিয়ে দেখি সে মন দিয়ে ঠোংগাটার গায়ের লেখাটা পরছে। ঠোংগাটা পেপার দিয়ে বানানো, সেটাই পরছে।
আমি বললাম, এমনিতে রোমের খবরের কাগজটাতো ধরেও দেখস না। আজ একেবারে মুড়ির ঠোংগার মধ্যে কি পড়তে শুরু করলি।
জবাবে কিছু না বলে ঠোংগাটা আমার হাতে দিল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,"পাকিস্তানের দোসররা বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করার পাঁয়তারা করছে"(বোধ হয় তিনি বিরোধী দলকে বুঝিয়েছেন)।
আমি ঠোংগাটা রানার হাতে ফেরত দিয়ে বললাম,তো?
- পাকিস্তানের দোসররা যদি সফল হয়েই যায় তাহলে কি হবে ভাবছস।
- এইটা হলো পলিটিক্স। হাসিনা-খালেদা সবাই জানে এটা কখনোই হবে না।
- প্রধানমন্ত্রী যখন বলছে এটার সম্ভাবনাতো একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। যদি সত্য সত্য বাংলাদেশ পাকিস্তান হইয়া যায় ঘটনাটা কিন্তু মজার হবে।
আমি অবাক হয়ে রানার দিকে তাকাই। রানা ব্যাখ্যা করার ভঙ্গীতে বলল, মনে কর পাকিস্তান হয়েই গেল। তখন কি হবে? এখন যারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি তারা হবে রাজাকার আর রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা। এটা নিয়া রাজনীতি শুরু হবে। তখন হাসিনা খালেদারে বলবে ভারতের দালাল, খালেদা হাসিনারে বলবে ভারতের দালাল। এরশাদ কাকু তখন জাতিকে হাসানোর জন্য নতুন কিছু বলবে। শাহবাগীরা তখন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বাদ দিয়া যাত্রাগানের দল খুলবে। অবশ্য আমিও বসে থাকব না।
- কি করবি?
- একটা রাজনৈতিক দল খুলব।
- তোর দলে পাগল-ছাগল ছাড়া কেও যোগ দিবে না।
-বাংলাদেশে পাগল-ছাগল ছাড়া কেও রাজনীতি করে নাকি!
-তোর বাজে বকা বন্ধ কর।
-বাজে বকা না, তখন তুমিও জয় বাংলা বাদ দিয়া 'পাকিস্তান জিন্দাবাদ' বলবা।
-অর্থহীন রাজনীতি!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




