অনেক দিন পর সেই স্মৃতি মাখা গ্রামে যাব
যেখানে আমার জন্ম ধরিত্রীর বুকে, সেই গ্রামে
হয়তো চেনা পথ, অচেনা আজ। গ্রামের পথে
বাঁশের সাঁকো বদলে গেছে পাকা ব্রীজে,
পায়ে চলা মেঠো পথ আধাপাকা; শীতের শুষ্ক
খোলামাঠ সবুজ ধানের ক্ষেত।
বিরাট ঘন বন আজ আবাদ ভূমি,
লাঙ্গলের ফলায় ফালা ফালা জমিন আজ
ট্রাক্টরের বিরাট চাকার নীচে পিষ্ট।
ফসল চাই, বাড়তি ফসল।
নালার জমিনে আজ পুকুর,
ফিশারির চকচক চারদিক,
রুই, কাতলা পাঙ্গাস বাড়ে দ্রুত।
যেখানে ছিল অনেক বড় আমে গাছ
সেখানে বসতঘর, বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে ঘর।
কাঁঠালের ছায়ায় যেখানে জুড়াতো পরাণ,
শেখানে অচেনা বৃক্ষের ঝোপঝাড়।
পুকুর পাড়ের বড়ই গাছটা আর নেই,
বৃদ্ধ নারকেল গাছটা কোনমতে আছে বেঁচে
লেবু গাছের পাশেই ছিল বাঁধানো পুকুর ঘাট,
আজ সেখানে পুকুর ঘাট নেই।
পেছনে হিন্দু বাড়ির চেনা মুখ কেউ বেঁচে নেই
যারা আছে তারাও আধমরা,
মন্দিরের পুজার দেবী যেন সাজহীন।
সেই বাড়ির বউদির কলস ছুঁয়ে দিলে
আগুনে পুড়িয়ে করে নিত পবিত্র।
মানুষগুলো অনেক অচেনা, এক অশীতিপর বৃদ্ধা
চোখের পাতা কচলিয়ে কোনমতে চিনে নেন কন্ঠস্বর।
কেমন আছ বাবা?
সেই ভরাট আওয়াজ, আদর মাখা চাহনি!
বাবা, মাথার চুল পাক ধরেছে বুঝি?
অনেক দিন দেখিনা? বাড়ি আসনা?
কেমন আছেন?
জিজ্ঞেস করলেই একগাল হেসে, বলে ওঠে! বেঁচে আছি!
এই গ্রামেই তো প্রাণ।
আর কয়দিন, চলে যাবার সময় হইছে!
সমবয়সি যারা গ্রামেই ছিল,
বেঁচে আছে অনেক সন্তানের গর্বিত পিতা হিসাবে।
লম্বা পাকা দাঁড়ি, মাথায় টুপি, ভবিষ্যতের পুঁজি
করছে ভারী, জীবনের পরখ শেষে পরম আত্মার খুঁজে।
বাবার কবরে সবুজ ঘাসের আস্তর, ভারি ঘন,
রাশভারি মানুষ কেমন চুপচাপ, নিস্তব্ধ।
বাড়ির পাশেই, যেখানে পূর্ব পুরুষের ভিটা ছিল,
দীর্ঘ উঠোনে দম্ভ করে হেঁটে বেড়াত দাদার বাবা বা
তারও বাবা! আজ সেখানে
সারি সারি কবরে শায়িত শব, আধারে লুকানো অতীত।
এভাবেই ভবিষ্যত মিলে যাবে অতীতে,
শিশু, যুবক-যুবা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মৃত্যুর মিছিলে
সমবেত, গড় হাজির। তথাপী শরিক!
গ্রামের পুরানো গোরস্হান ভরে যাবে কবরে।
17/02/2017
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


