somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুনীলের মৃত্যুতে জয় গোস্বামীর লেখা অসম্ভব সুন্দর একটি কবিতাঃ ২৫ অক্টোবর,২০১২

০১ লা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার প্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।মূলত কবি হলেও তার উপন্যাস আর ভ্রমনকাহিনি পড়েই ভক্ত বনে যাই।'প্রথম আলো','সেই সময়','পূর্ব-পশ্চিম' এর মতো কালজয়ী উপন্যাসের এই রচয়িতা ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর মর্ত্যলোক ছেড়ে চলে যান।হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পরের বছরই তাঁর মৃত্যুতে অনেক দুঃখ পেয়েছিলাম।যাই হোক,দেশ পত্রিকা একটা সংখ্যা বের করে তাকে স্মরণ করে।সেই সংখ্যায় স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখার সাথে সাথে জয় গোস্বামীর একটা কবিতা প্রকাশিত হয় সুনীলকে নিয়ে।কবিতাটা এখানে সবার সাথে শেয়ার করলাম।


২৫ অক্টোবর,২০১২
জয় গোস্বামী

একবার আকাশ আর দু'বার আকাশ আর তিনবার আকাশ
এইভাবে সতেরো বছর
তারপর ক্রমাগত শেষ হয় আলো
সমুদ্রের দিকে ফেরে রক্তমাখা জ্বর
লোহাপাথরের শব্দ ঢুকে পড়ে মনের ভিতর
সেই অবকাশে
হাড়ের অন্দরে কীট একদিন দু'দিন তিনদিন
খেতে থাকে সব স্নেহঋণ
কীটদল ক্রমশ অঙ্গার
জ্বালা শুধু জ্বালা শুধু জ্বালা
যতটুকু নীল ছিল পুড়ে ছাড়খার
বড় হল আমার-ই অহং
অন্যের কারণে শুধু অন্যের কারণে অন্যদের কারণে কারণে
একদিন তোমার কাছ থেকে
সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনলাম
মন।

তুমি কিছু বলোনি তখন।
স্মিত হেসেছিলে শুধু।
পোড়া একটা হাওয়া উঠলো।কালো জল ঘূর্ণিপাক মেরে
উঠে গেল আমার মাথায়
যেদিকে তাকাই দেখি বিষ ভেসে যায় শুধু বিষ ভেসে যায়
সেই বিষস্রোত ধরে এতোদূর এসে পৌঁছলাম
রইল না ফেরার উপায়
যা হল তা হয়ে গেল।দিন গেল একের পর এক

বিরোধিতা করলাম অনেক।
তোমার সুস্পষ্ট বিরোধিতা।
আজ,তোমার মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে
মনে হয় ভুল-ই করেছি।মনে হয় সমস্ত কারণই অকারণ
সজোরে সমূহ বাধা ঠেলে একবার সামনে গিয়ে যদি বসতাম
একবার পা ছুঁতাম যদি
আবার আগের মতো পা ছুঁতাম যদি...

কিন্তু তা হওয়ার নয়। তুমি রইলে না
মানুষের মুখে মুখে রয়ে গেল আমাদের মধ্যেকার সেই বিষনদী
তুমি যে-স্নেহের ডালা হাতে দিয়েছিলে
তা কবেই ভেসে গেছে রক্তমাখা অহং-এর জ্বরে
সমুদ্র ছাপিয়ে যাওয়া তোমার নামের পাশে
আমার ধূলিকণার নাম
শোকের সুযোগ পায়না----
অনুশোচনায় পুড়ে মরে।



সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×