আমার প্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।মূলত কবি হলেও তার উপন্যাস আর ভ্রমনকাহিনি পড়েই ভক্ত বনে যাই।'প্রথম আলো','সেই সময়','পূর্ব-পশ্চিম' এর মতো কালজয়ী উপন্যাসের এই রচয়িতা ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর মর্ত্যলোক ছেড়ে চলে যান।হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পরের বছরই তাঁর মৃত্যুতে অনেক দুঃখ পেয়েছিলাম।যাই হোক,দেশ পত্রিকা একটা সংখ্যা বের করে তাকে স্মরণ করে।সেই সংখ্যায় স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখার সাথে সাথে জয় গোস্বামীর একটা কবিতা প্রকাশিত হয় সুনীলকে নিয়ে।কবিতাটা এখানে সবার সাথে শেয়ার করলাম।
২৫ অক্টোবর,২০১২
জয় গোস্বামী
একবার আকাশ আর দু'বার আকাশ আর তিনবার আকাশ
এইভাবে সতেরো বছর
তারপর ক্রমাগত শেষ হয় আলো
সমুদ্রের দিকে ফেরে রক্তমাখা জ্বর
লোহাপাথরের শব্দ ঢুকে পড়ে মনের ভিতর
সেই অবকাশে
হাড়ের অন্দরে কীট একদিন দু'দিন তিনদিন
খেতে থাকে সব স্নেহঋণ
কীটদল ক্রমশ অঙ্গার
জ্বালা শুধু জ্বালা শুধু জ্বালা
যতটুকু নীল ছিল পুড়ে ছাড়খার
বড় হল আমার-ই অহং
অন্যের কারণে শুধু অন্যের কারণে অন্যদের কারণে কারণে
একদিন তোমার কাছ থেকে
সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনলাম
মন।
তুমি কিছু বলোনি তখন।
স্মিত হেসেছিলে শুধু।
পোড়া একটা হাওয়া উঠলো।কালো জল ঘূর্ণিপাক মেরে
উঠে গেল আমার মাথায়
যেদিকে তাকাই দেখি বিষ ভেসে যায় শুধু বিষ ভেসে যায়
সেই বিষস্রোত ধরে এতোদূর এসে পৌঁছলাম
রইল না ফেরার উপায়
যা হল তা হয়ে গেল।দিন গেল একের পর এক
বিরোধিতা করলাম অনেক।
তোমার সুস্পষ্ট বিরোধিতা।
আজ,তোমার মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে
মনে হয় ভুল-ই করেছি।মনে হয় সমস্ত কারণই অকারণ
সজোরে সমূহ বাধা ঠেলে একবার সামনে গিয়ে যদি বসতাম
একবার পা ছুঁতাম যদি
আবার আগের মতো পা ছুঁতাম যদি...
কিন্তু তা হওয়ার নয়। তুমি রইলে না
মানুষের মুখে মুখে রয়ে গেল আমাদের মধ্যেকার সেই বিষনদী
তুমি যে-স্নেহের ডালা হাতে দিয়েছিলে
তা কবেই ভেসে গেছে রক্তমাখা অহং-এর জ্বরে
সমুদ্র ছাপিয়ে যাওয়া তোমার নামের পাশে
আমার ধূলিকণার নাম
শোকের সুযোগ পায়না----
অনুশোচনায় পুড়ে মরে।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৪:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



