somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেইসবুক সমাচার

৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময় :২ জুলাই, ২০১৫।
বিকাল ৪.০০।
জানি, এই মুহুর্তে ফেসবুক থেকে দূরে সরে গেলে হয়ত ভার্চুয়াল জগত থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়ব। কিন্তু এই ফেসবুক ই হয়ত ক্রিকেটার নাসিরের মত একদিন আমাকেও হতাশ করে তুলবে। আমিও হয়ত একদিন আমার বোনের ছবি আপলোড করে লাঞ্ছিত হব, ভার্চুয়াল ধর্ষণের শিকার হবে আমার বোন। আর আমাকে হয়ত নাসিরের মত চুপচাপ হতাশার দেয়ালে মাথা খুটে মরতে হবে।
আমি নাসিরের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই। সাথে আমার নিজের জীবনের ভুলগুলো তো আছেই।
একসময় ফেসবুক এমন ছিল যখন শুধু শিক্ষিত মানুষ গুলোই এটার ব্যবহার জানত। আর এখন মূর্খ বস্তির গাঁজাখোর দের ও একটা ফেসবুক আইডি আছে। আরো যে কত নিচু মানুষিকতার মানুষ আছে বলা মুশকিল। ইন্টারনেট সর্বজনীন করতে গিয়ে এখন হয়ে গেছে সর্বজনীন ফেসবুক আর পর্ণ ওয়েবসাইট।
পড়ালেখা জানা মানুষ গুলো ওপর ও এর প্রভাব লক্ষ্যণীয়। সম্মান আর অসম্মান এর জায়গা গুলো ও ভুলে গেছে মানুষ। কি বিচিত্র অমানুষিকতা!
একজন বড় ভাই বলেছিলেন যে পৃথিবীর সব জায়গায় ই কিছু চিরন্তন তেলাপোকা থাকবে। এদের অস্তিত্ব কখনো বিলুপ্ত হবার নয়। এদের এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আমার জনৈক উকিল বন্ধু বলেছিলেন যে, যেখানে তেলাপোকা র পরিমাণ বেশি সেখানে না যাওয়াই ভালো। উনাদের কথার প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান আছে। ফেসবুক টাও এখন তেলাপোকা দিয়ে ভরে গেছে। তাই মাশরাফি, নাসিরের মত ভালো মানুষ গুলো নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। পৃথিবীতে যেখানেই আজ পর্যন্ত এই তেলাপোকা রা গিয়েছে সেখান থেকে নিজেকে সরানের মত সুযোগ পেলে ভালো মানুষ গুলো নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। আমিও নিচ্ছি। আমি ভালো মানুষ না হলেও অন্তত তেলাপোকা নই।
এখন হয়ত অনেকে বলবেন যে, ফেসবুক ছাড়া থাকবেন কিভাবে? সেলিব্রেটি হবেন কিভাবে?
উত্তর : যতদিন ফেসবুক ছিল না তখন যেভাবে মানুষ ছিল সেভাবে। আর ফেসবুকের দুই-চারশত লাইক নিশ্চয়ই আপনাকে সেলিব্রেটি বানায় নাহ। এ পর্যন্ত যারাই সেলিব্রেটি হয়েছেন, ফেসবুক তাদের এ পর্যন্ত এনেছেন বলে মনে হয় নাহ। তারা সেলিব্রেটি হওয়ার পর ই ফেসবুক তাদের নিয়ে সেলিব্রেটি পেইজ খুলেছে। সুতরাং সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য ফেসবুক চালানোর প্রয়োজন নেই। সেলিব্রেটি হলে ফেসবুক ই আপনাকে খুজে নিবে।
আজকাল ফেসবুক আমাদের এতটাই ভার্চুয়াল আর কৃত্রিম করে তুলেছে যে এখন আমরা প্রিয়জন, বন্ধুদের সাথে সরাসরি কথা না বলে ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দেই চ্যাট করে। এতে করে একজন আরেকজন কে মন থেকে বুঝার সুযোগ ও চলে গেছে। আপনার ফেসবুকের ইমো নিশ্চয় ই আপনার প্রিয়জনের অনুভূতি র পূর্ণাংগ প্রকাশ করতে পারে না যতটা তার কন্ঠ অথবা চেহারা পারে। এই জন্য ই আমরা এখন ইমোশনলেস হয়ে যাচ্ছি। কারণ সত্যিকারের ইমোশন দেখার সৌভাগ্য এখন আমাদের হয় নাহ। তাই কারো মৃত্যু সংবাদ পেলে ও আমরা লাইকে ভরিয়ে দেই। ফেসবুক আমাদের এতটা ভার্চুয়াল করে তুলেছে।
এখন নিশ্চয় ই আপনার মাথায় প্রশ্ন জাগছে যে থাকবেন কিভাবে ফেসবুক ছাড়া? সবার সাথে যোগাযোগ রাখবেন কিভাবে? কিভাবে সামলাবেন নিজেকে প্রচারের কাজ?
উত্তর : ফেসবুকে যাকে একবার নক দিতেন পারলে তাকে একটা ফোন দিন। এখন প্রশ্ন হল সবার সাথে ফেসবুকে কানেক্টেড থাকা যায় কিন্তু সবাই কে ফোন নাম্বার দেয়া যায় নাহ, সবাইকেই নিজের লাইফে আনা যায় নাহ। তাহলে বলব, লাভ টা কি এই শুধুমাত্র ভার্চুয়াল রিলেশন রেখে? যাকে ফোন নাম্বার দিতে চান না তার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট করে নিজের জীবনের সময়ের অপচয় করলেন! এই সময় টুকু কি কাছের মানুষ গুলো কে দেয়া যেত নাহ?
সত্যি ই অবাক লাগে আমাদের ভার্চুয়াল মানুষিকতা টা কে!
আর
নিজেকে প্রচার করতে ফেসবুক ই লাগবে কেন?
এই পর্যন্ত যারা নিজেকে প্রচার করেছেন। নিজের সাফল্য প্রচার করেছেন তারা নিশ্চয়ই ফেসবুক দিয়ে করেননি। সর্বশেষ সেলিব্রেটি ক্রিকেটার মুস্তাফিজের কথাই যদি ধরি, তবে দেখুন। তার প্রচারণা করেছি আমরা তার স্লোয়ার লেগ কাটারের জন্য। সে কিন্তু ফেসবুক খুলে তার স্লোয়ার লেগ কাটারের কথা এসে আপনাকে বলেনি। সে মাঠে খেলেছে। আপনারা দেখেছেন আর তার জয়ধ্বনি গ্যালারি, ফেসবুক, টুইটারে পারলে গলা ফাটিয়ে জানিয়েছেন। এখানে ফেসবুকের হাত টা কোথায়?
যদি বলেন আপনি লেখক, মডেল, রাজনীতিবিদ, ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, উকিল আরো কত কি!
তবে বলব আপনি আপনার গোত্রের এমন একজন দেখান যার সাফল্যের মূলতত্ত্ব তার মেধা-অধ্যবসায় নয়, ফেসবুক। যদি দেখাতে না পারেন তবে বলব নিজের চোখ খুলুন, ভার্চুয়াল জগত থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকার জগতটা কে নিজের মত করে দেখুন। এতে হয়ত, আপনার মন, সম্মান দুই ই স্বস্তি পাবে।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ২:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×