somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকের চিঠি

২১ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোগ-বালাই কখনও বলে-কয়ে আসেনা। তাই যিনি অসুস্থ হন, তিনিই শুধু জানেন সেই অসহায়ত্বের করুণ দশা। আমার অতিপরিচিতি এক সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকের চিঠিটি প্রকাশ করছি এই আশায় যে, কোন সুহৃদ ব্যক্তি তাঁর পাশে এসে দাঁড়াতে পারেন এই চিঠি পড়ার পর। তাঁর চিঠির কিছু অংশ ...........


প্রিয় হাই,

শুভেচ্ছা জানবেন। আশাকরি ভাল আছেন। আপনার ফেরত মেইল পেয়ে ভাল লাগছে। প্রবাসীরা সাধারণত দেশের মানুষের কথা মনে রাখতে চায় না। তাই ছোট্ট করে লিখে ঝুঁকি নিয়েছিলাম। তো আপনি ভোলেননি দেখে খুবই ভাল লাগল।

মেইলের জবাব অনেক আগেই দিতাম। আসলে ৯/১১/২০১০ তারিখের পর আমি মেইলে বসতে পারিনি। আপনি হয়তো শুনে থাকবেন, আমি ১৯৯১ সাল থেকে জটিল প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগে ভুগছিলাম। ৯/১১/২০১০ তারিখে তা হঠাৎ বেড়ে যায়। ১০/১১/২০১০ তারিখে আমি নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। ১১/১১/২০১০ তারিখে আমাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আমার অবস্থার অবনতি হওয়ায় আমাকে ১২/১১/২০১০ তারিখ ভোরে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে। সেই থেকে আজও ঢাকায় চিকিৎসাধিন রয়েছি।

২/১২/২০১০ তারিখে আমার প্যানক্রিয়াস অপারেশন হয়েছে। আমার পিত্তথলিতেও পাথর আছে। শরীর ফিট হলে পিত্তথলি ফেলে দিতে ফের অপারেশনের টেবিলে শুতে হবে। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে। আপনার মনে আছে কিনা জানি না, আমার এক ছেলে এক মেয়ে। ওরা দু'জনই ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স পড়ে। আমার দু'টো অপারেশনের পর শরীরের অবস্থা কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে আশঙ্কার শেষ নেই। ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার কী হবে, কেমন করে হবে - এ নিয়ে আমি দারুণ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি। গত ৬ মাস ধরেই আমার শরীরের গতি ভাল যাচ্ছে না। তখন থেকেই আমি ইন্টারনেটে বসে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য ডোনার খুঁজছি। কিন্তু অনেক সার্চ করেও কোন ডোনার পাইনি।

আপনার ওপর আমার তেমন দাবি নেই। তবে আপনি যে আমাকে ভুলতে পারেননি, সেই সূত্র ধরে বলি- আমার তো খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই। লাখ দশেক টাকা হলেই আমার দু' ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শেষ করতে পারবে। গরিব সাংবাদিকের ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার জন্য দশ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার মত ডোনার আদৌ পাওয়া যাবে কিনা, আমার জানা নেই। না জেনেই আপনাকে ডোনার খোঁজার জন্য অনুরোধ করছি। আমি তো না জেনে আপনার কাছে দাবি রাখলাম।

আমার বয়স হয়েছে। শরীরের গতি ভাল না। ছেলেমেয়ের কথা ভেবে আগু-পিছু মনে আসেনি। আমার চাওয়ায় ভুল থাকতেই পারে। আর কী? আপনার মঙ্গল কামনা করি। আর ফেরত মেইলের প্রত্যাশা করছি।

13.12.2010

দ্বিতীয় চিঠির অংশ বিশেষ ......

প্রিয় হাই

আশাকরি ভাল আছেন। আমার শরীরটা ভাল যাচ্ছে না। আর এতেই নানা আশঙ্কায় দিন কাটছে। বিশেষ করে ছেলেমেয়ে দু'টির কথা ভেবে রাতে ভাল ঘুমও হচ্ছে না। আমার অবর্তমানে ওদের লেখাপড়া, ওদের সৎভাবে বেঁচে থাকা, ওরা কি পারবে জটিল-কঠিন পৃথিবীতে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে? এসব প্রশ্ন আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

আমি জানি, এসব কথা আপনাকে বলা সমীচিন নয়। আপনাকে অবশ্য খুব আপন ভেবেই বলছি। কারণ বলার মতো আপনজন আমার তেমন কেউ নেই। সত্যি কথা বলতে কি- বন্ধু-বান্ধবরাই আমার স্বজন। তাদের কাউকে কাউকে কখনও কখনও আমার খুব আপন মনে হয়। হয়ত আপনাকেও আমার তেমনটি মনে হয়েছে, তাই কষ্টের ঝাঁপিটা খুলে বসেছি। প্রথম চিঠিতে এ কারণেই ওদের জন্য আপনাকে কিছু একটা করার আবেদন করেছিলাম। কারণ আমার জন্য কিছু করার মতো এ দুনিয়ায় কেউ নেই।

ছেলেমেয়েরা এখনও লেখাপড়া শেষ করতে পারেনি। আর এতেই আমি কষ্ট বেশি পাচ্ছি। আমাকে যদি সত্যি সত্যি এখুনি চলে যেতে হয়, তাহলে ওরা কার কাছে গিয়ে দাঁড়াবে? আপনি দীর্ঘদিন এনজিওতে চাকরি করেছেন। এখন আছেন প্রথম বিশ্বে। যদি কোন সুযোগ থাকে এবং আমার ছেলেমেয়ে দু'টির জন্য কিছু করার ইচ্ছা জাগে। তবে চেষ্টা করে দেখবেন। এ আমার অনুরোধ।

আপনার গুনমুগ্ধ

১৫.০১.২০১১


আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য আমার শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক ভাইয়ের ই-মেইল ঠিকানা

[email protected]

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×