somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরু চোখের নিচে আর কতকাল

০৬ ই মে, ২০১০ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফয়সাল শাহজাদ, এই নামটির সাথে বোধহয় এখন আর পরিচয় করিয়ে দেয়ার কোন দরকার নাই। সবাই ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছেন এই নামের সেই ব্যাক্তিটির সাথে। যে সফল হলে আজকে হয়তঃ ব্লগ লিখতে পারতাম না। সেদিন ৫৭ স্ট্রীট আর ৬ এভিনিউর সেই বিখ্যাত ল্যাম্ব ওভার রাইস খেয়ে টাইমস স্কয়ারের দিকে যাচ্ছিলাম। শেরাটন ক্রস করার পর গাড়ির বিশাল জ্যাম দেখে মনে মনে ভাবছিলেম নিউ ইয়র্ক পুরাই ঢাকা হয়ে গিয়েছে। কারন সব গাড়ি থেমে আছে। নরমালি যত ভিড়ই হোক গাড়ি আগাতে থাকে। যাই হোক শনিবার বিকাল বেলা, লোকে লোকারন্যে জমজমাট টাইমস স্কয়ার। লাল সিড়ি ক্রস করে সামনে যাবার সময়, সম্ভবত ৫০ স্ট্রিট হবে দেখলাম রাস্তা বন্ধ। কেউ জানে না ঠিক কি হয়েছে। আমি কয়েক মিনিট দাড়িয়ে দেখলাম রাস্তা খুলে দেয় কিনা, কিন্তু দেখলাম এনওয়াইপিডি ব্লক আরও বড় করছে। এই ফাকে আমি ম্যারিয়ট দিয়ে ঢুকে ৮ এভিনিউ দিয়ে যেয়ে সাবওয়ে ধরি। রাতে এক বন্ধু ফোন করে কথাচ্ছলে বললো টাইমস স্কয়ারে নাকি এরিজোনার ইমিগ্রেশন ল নিয়ে প্রসেশন হয়েছে। আমি বললাম আমি ছিলাম ওখানে, কোন প্রসেশন দেখি নাই, তবে অনেক ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি দেখেছি। যদি ঐ টি শার্ট বিক্রেতা খেয়াল না করতো তাহলে ঠিক ঐ সময়েই ওখান দিয়ে আমিও যেতে পারতাম।

নিউ্ইয়র্ক সিটি টেররিস্টদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু সবসময়ই। বিশেষ করে সাবওয়ে। আর জানি না কিছু ফ্যানাটিক যদি সত্যি সত্যি কিছু করে বসে তাহলে প্রায় অচল হয়ে যাবে নিউ ইয়র্ক। বাংলাদেশে একজন আমজনতা হিসেবে শির্ষনেত্রীর খুব কাছে গিয়েছিলাম। অবশ্য ক্ষমতায় থাকা অবস্হায় যাই নি কখনও। বারাক ওবামার প্রাইমারির সময় কাধে একটা ঝোলা ঝুলিয়ে একদম কাছে চলে গিয়েছিলাম। হ্যান্ডশেকও করেছিলাম। কেউতো এসে চেক করে নি। আসলে এরকম আমজনতা যদি সত্যি চায় তাহলে সেটা রোধ করা কোন দেশের পুলিশের পক্ষেই সম্ভব না।

ফয়সাল শাহজাদ একজন এয়ার ভাইস মার্শালের পুত্র। কম্পিউটার সাইন্সে আন্ডারগ্রেড করেছেন আমেরিকাতেই। এমবিএও করেছে সম্ভবত (গুগল করতে ইচ্ছা করছে না)। চাকুরি করতো। বিয়ে করেছে। দুটি সন্তান আছে। বাড়ি কিনেছিল। যেটি অবশ্য গত জুলাইয়ে লে অফ হবার পর ফর ক্লোসারে চলে যায়। ফয়সাল শাহজাদের প্রতিবেশীদের কাছে সে স্বাভাবিক একজন মানুষ। দেখা হলে হাই হেলো। তার ছেলে মেয়েরা খেলতো প্রতিবেশীদের সাথে। সে তার এক প্রতিবেশীর মেয়েকে তার পুরাতন কম্পিউটারটি দিয়ে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোন ক্রিমিনাল রেকর্ড নাই। এখন কিভাবে এমন একজন মানুষ হঠাৎ করে একদিন টাইমস স্কয়ারে একটি বিষ্ফোরক ভর্তি একটা এসইউভি রেখে আসলো যাতে করে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়? আজকে পত্রিকায় শিরোনাম "How many more?" ফয়সাল শাহজাদের যে প্রোফাইল আমাদের অনেকের প্রোফাইলইতো অনেকটা তেমন। এখন আমরা একটি এলাকায় যেয়ে থাকা শুরু করলাম, কিভাবে আমার প্রতিবেশীটি বুঝবে যে আমি একজন টেররিস্ট না। কিভাবে আমি প্রমান করতে পারি যে আমি তাদের(টেররিস্টদের) একজন না। আমার নামে মোহাম্মদ আছে। আমি ড্রিনক করি না তার মানে তো ামি ইসলাম ধর্ম কিছুটা হলেও ফলো করছি। অনেক টেররিস্ট পাওয়া গেছে যারা নিয়মিত ক্লাবে যেত। জানিনা এসব তথাকথিত ধর্ম প্রেমীদের মাথায় কি কাজ করে? তারা আসলে কি অর্জন করতে চায়। কিন্তু তারা কোটি কোটি শান্তি প্রিয় মুসলমানকে বিব্রতকর অবস্হায় ফেলে দেয়। সিএনএন এ বলতে পারে ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়। মহানবীর জীবনী যতটুকু পড়েছি তিনি কোন ঘটনায় কখনও কোন নিরস্ত্র, নিরপরাধকে হত্যা করতে বলেন নি। এই সব সন্ত্রাসীরা কেন বারবার এসব ভুল করছে? এরাতো কোন মাদ্রাসায় শিক্ষিত ব্যাক্তি নয়? সেকুলার শিক্ষায় শিক্ষিত, সমাজের উচুতলায় যাদের বসবাস সব সময়। লাদেনও একজন ইন্জিনিয়ার, আরবের অন্যতম ধনি পরিবার থেকে এসেছে। তাহলে এরা কেন বারবার ইসলামের নামে নিরীহ মানব সন্তানদের হত্যা করতে উদ্যত হচ্ছে?

২০০১/০২ এর দিকে হবে, তখন "মনের মাঝে তুমি" তুমুল জনপ্রিয় সিনেমা। একদিন রাতে আমি আর আমার দুই রুমমেট মিলে মধুমিতায় গেলাম দেখতে। ফিরতে ফিরতে একটু রাত হয়ে গিয়েছিল। গুলিস্তানের আশে পাশে আমাদের রিকশা পুলিশ থামাল। আমরা বললাম সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। পুলিশ মহাশয় সবুজবাগের কোন এক এলাকার নাম বললো, যেটার নাম সেদিনই প্রথম শুনেছি সেদিনই শেষ। আমারতো প্রচন্ড মেজাজ খারপা হয়ে যাচ্ছিল। তারা টিকেট দেখতে চাচ্ছিল। আমি আবার টিকেট ফেলে দিয়েছি। যাই হোক একজনের কাছে তার টিকেট ছিল। পরে জিগ্গাসা করলো কোথায় পড়ি। বললাম। এরপর মামা আবার ভিপি জিএস এর নাম জিগ্গাসা করলো। বললাম। তারপর বললো পরে যেন টিকেট রাখি। আমরা রিকসায় উঠে চলে আসলাম। কিন্তু প্রচন্ড অপমানজনক লাগছিল তাদের এই জিগ্গাসাবাদ।

আজকে গরমের দেশের এই আমি বা আমরা যে হিমাংকের নিচের দেশে পড়ে আছি। কয়জন আছি একদম বিশুদ্ধ বিদ্যা আহরনের জন্য আছি? নিজেদের স্বপ্নটার কাছাকাছি যাবার জন্যইতো এখানে থাকা। কিন্তু তার জন্যকি আমাদেরকে অনাদিকাল ধরে আমার প্রতিবেশির সরুচোখের নিচে থাকতে হবে? আমাদের পরবর্তি জেনারেশনকে কি শুধু মাত্র তাদের নামের জন্য এটা প্রমান করে যেতে হবে যে না আমরা হত্যাকারি নই। সেদিন ঢাকার রস্তায় ৫/৬ মিনিটের জিগ্গাসাবাদে যেই অপমানজনক অনুভুতি হয়েছিল, সেই অনুভুতি কি সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। তাদের কোন দোষ আমি দেখি না। মেয়র ব্লুমবার্ বলেছেন, "There is always some bad apples". একজন ফয়সাল শাহজাদ যদি টেররিস্ট হতে পারে তাহলে যে কেউই হতে পারে। আর ফয়সাল শাজাদকে মে মাসের আগে কোনভাবেই একটা ব্যাড এপল বলা যা্য না। একটা ভাল এপল কিভাবে এই কাজ করলো?

সবার প্রতি আহবান থাকবে সকল রকম ভায়োলেন্স বর্জন করুন। ভায়োলেন্স দিয়ে পৃথিবিতে কোন চুড়ান্ত বিজয় আসে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৩ সকাল ৯:১৩
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×