somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্তরের বাগান;মারিফতের সবুজ বাগানে বিচরন ০০৯

১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৌন্দর্যের কারনে সৃষ্ট অহংকার

সৌন্দর্য ও অহংকারের কারন হতে পারে,

"এক সুুন্দর ময়ুর তার পাখা ছিড়ে ফেলছিলো,
তখন এক জ্ঞানী বললেন,কেন তুমি এই অকাম করছো,
ময়ুর বলল," এই সুন্দর পাখা আমাকে মহা বিপদে ফেলেছে।"

ময়ুরের নজর কাড়া পাখার কারনেই তার দিকে মানুষের চোখ থেমে যায়,যদি তার পাখা না থাকতো, তাহলেতো তার দিকে কেউ তাকাতো না।

"মধ্যবর্তী পথই সিরাতুল মুসতাকিম,
মধ্যবর্তী পথই নিরাপদ পথ।"
"সৃষ্টিকর্তার অপার সৌন্দর্য দর্শনে নিজেকে বিলিন করো,
তখন নিজের দিক থেকে তোমার চক্ষু সরে যাবে।"

"সৃষ্টির সৌন্দর্য তো তারই সৌন্দর্য,
সৃষ্টি তার অস্থিত্ব কোথায় পেলো?"

কেন সৌন্দর্যের অহংকার তৈরি হয়?
যকন মানুষ নিজেকে অন্যের থেকে বেশি রুপ লাবন্যে ভরপুর দেখে,তখন নফসানি রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি অন্যের উপর অহংকারে লিপ্ত হয়।শেতাঙ্গরা, কৃষ্ণাঙ্গদেরকে অনেকসময় মানুষ ই মনে করেনা, ভিন্ন কিছু মনে করে।

"হে ভাই,কৃষ্ণাঙ্গ বা কালো ব্যাক্তি তার নিজ জায়গায় সুন্দর,
আসল সৌন্দর্য তো অন্তরের সৌন্দর্য।"
সৌন্দর্য থেকে উদ্ভুত অহংকারের জ্ঞানমূলক চিকিৎসা।
"চিন্তা করবে,আমার এই সৌন্দর্যের মূলত কোনো দাম নেই,আমরা সকলেই কবরের মধ্যে চলে যাবো আর কবরের মধ্যে কালো সুন্দর সবাই সমান।কবরের মধ্যে তাক্বওয়া এবং অন্তরের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে,বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়।সুতরাং অহংকার মুক্ত অন্তরই সুন্দর অন্তর।অনেকসময় ভিতর সুন্দর হলে বাহির ও সুন্দর হয়ে যায়,এজন্যই অনেক কালো মানুষ ফর্সা মানুষের থেকেও চোখে সুন্দর লাগে,কারন তার ভিতর সুন্দর।"

"ত্বক সুন্দর কেন করছো,তোমার ভিতর সুন্দর করো,
তাহলে ভিতরের সৌন্দর্য বাহিরে ও প্রতিফলিত হবে।"

"আত্মশুদ্ধ সাধক আপনা থেকেই উজ্জল হয়ে যায়,
সাধকের প্রতি তাকালে চক্ষু নবজীবন ফিরে পায়।"
"সারাজীবন শুধু বাহির ঘষা মাজা করলে,
আর হীরাতূল্য অন্তরকে জঙ্গলে ফেলে রাখলে।"

"কেয়ামতের দিন অন্তরের সৌন্দর্য প্রকাশিত হবে,
যারা শুধু,বাহির ঘষামাজা করেছে,তারা সেদিন লাঞ্চিত হবে।"


বংশ মর্যাদা বা আভিজাত্যের কারনে সৃষ্ট অহংকার

বংশমর্যাদা আভিজ্যত্যের কারনেও অহংকার পয়দা হয়।

প্রত্যেক সম্পদশালী অভিজাত বংশের লোক,নিচু বংশের লোকদের ওপর অহংকার করে।অহংকার বাহিরে প্রকাশ না করলেও ভিতরে পোষন করে।অহংকারি ব্যাক্তির কাজ কথাবার্তায় তার ভিতরের অহংকার এবং অন্তরের রোগ প্রকাশিত হয়ে যায়।
অভিজাত শ্রেনীর লোকেরা নিচু শ্রেনীর লোকদের সাথে কথা বলতেও এবং একসাথে উঠাবসা করতেও সংকোচ বোধ করে।অবস্য হাজারে বা লক্ষের মধ্যে দু একজন ভিন্ন চরিত্রের হতে পারে।

আভিজাত্য থেকে সৃষ্ট অহংকারের জ্ঞানমূলক চিকিৎসা,
উভয় জাহানের সরদার হযরত রসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)অভিজাত এবং উঁচু বংশের লোক ছিলেন।বর্তমানের অভিজাতরা কি দেখে না নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের সাথে কেমন মিশুক ছিলেন।কিতাবে বর্ণিত আছে, কেউ নবীজির সাথে কথা বলা শুরু করলে হযরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চেহারা মুবারক ততক্ষন কথা বলা ব্যাক্তির দিক থেকে সরাতেন না,যতক্ষন না আগন্তুক নিজেই তার চেহারা সরিয়ে নিত।কিতাবে বর্নিত আছে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম এমন লোকদের সাথে বসে খাবার খেয়েছেন, যারা কুৎসিত এক প্রকার ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলো।

এখনকার কথিত অভিজাত, রা হয়ত বলবে তিনি তো নবী রসূল ছিলেন।নবীরসূলদের চরিত্রের সাথে কি সাধারন মানুষ পারবে?
এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়,নবী রসূলরা তো মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই প্রেরিত হয়েছেন।এমন সাধারন মানুষও পৃথোবীতে গত হয়েছে,যারা নবী রসূলদের চরিত্রের কাছাকাছি চরিত্র হাসিল করেছেন,অথবা করার চেষ্টা করেছেন।হিম্মত এবং সাহস করলে অনেক অসম্ভব ও সম্ভব হয়ে যায়।

"হে অনন্ত পথের পথযাত্রী,নবীদের চরিত্রে চরিত্রবান হও,
যাতে কেয়ামতের দিন নবী রসূলদের সঙ্গী হতে পারো।।
" খবরদার, কোনো সৃষ্টিকে ছোট মনে কোরো না,
তুমি জানোনা, তিনি কার অন্তরে কি দিয়ে রেখেছেন।

"তুমি যাকে ছোট মনে করছো,আল্লাহর নিকট হয়ত সে বড়,
আর তুমি যাকে বড় ভাবছো,আল্লাহর নিকট হয়ত সে ছোট।"

প্রকৃত আভিজাত্য সম্পদে নয়,তাক্বওয়ায়,
পুরো দুনিয়ার দাম আত্মিক জগতে মশার ডানা সমান ও নয়।

"চোখের উপর থেকে যখন পর্দা সরে যাবে,
তখন প্রকৃত অভিজাত কে তা হৃদয়ে দেখিবে।"

৫।পদ-পদবি থেকে সৃষ্ট অহংকার এবং প্রতিকার
এই পদ-পদবির অহংকার বর্তমান জমানায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।উঁচু পদস্ত কর্মকর্তারা নিচু পদের কর্মচারিদেরকে মানুষই মনে করেনা।তাদের সাথে কথা বলতেও সংকোচ বোধ করে।আর নিজেদেরকে নাজানি কি মনে করে।

কিতাবে আছে,দুইটি ক্ষুদার্ত ব্যাঘ্রকে বড় একটি বকরিপালের মধ্যে ছেড়ে দিলে,উক্ত ব্যাঘ্র বকরি পালের সেই পরিমান ক্ষতি করিতে পারিবেনা,পদের লোভ,সম্পদের লালসা মানুষের অন্তরের যেই পরিমান ক্ষতি করে ফেলে।

এই বিষয়টা আগামি পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করার আন্তরিক ইচ্ছা নিয়ে এই পর্ব এখানেই শেষ করছি ইনশা আল্লাহ।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি; বিএনপি ও এনসিপির সম্পর্কের ভেতরে এখন স্পষ্ট টানাপোড়েন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে পারস্পরিক অস্বস্তি ও বাকযুদ্ধ। এনসিপির সাম্প্রতিক আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুদ্ধিমান হোন, সঠিক কাজটি করুন!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১০:০৮



দক্ষিন স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চল।

এপ্রিলের ১৫ তারিখে এক সপ্তাহের জন্য এসেছি; গ্রানাডা, কর্ডোবা আর মালাগার রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছি। লোকাল কুইজিনের স্বাদ নিচ্ছি। বিশ্বখ্যাত স্থানগুলো ঘুরে দেখছি............পুরাই চিল মুডে। এলাকাগুলোকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরবানি: তাকওয়া না লৌকিকতা?— একটি ব্যক্তিগত অনুভুতি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো, আমি কোনো ইসলামিক স্কলার নই। ধর্মতত্ত্ব বা শরিয়তের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো গভীর জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য কোনোটিই আমার নেই। আমি এ সমাজের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×