somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঋদভিকা পাল
" I prefer to be a dreamer among the humblest, with visions to be realized, than lord among those without dreams and desires. "(Kahlil Gibran)

পাঠকবন্ধুর আয়না

১৪ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বসন বলে একটি মেয়েকে আমি বড় স্নেহ করি, ভালোবাসি। সে অমলেশদাকে ভালোবেসেছিল। উঁহু, "ছিল" বললে ভুল বলা হবে, সে অমলেশদাকে ভালোবেসেছে, কারণ এখনো যে বাসে তার প্রমাণ আমি পেয়েছি।

বসন বড় নিঃসঙ্গ। তবে এই নিঃসঙ্গতা তার ভেতরেই বসত করে, প্রকৃতি আর একাকীত্বের একান্ত মৌলিক সৌন্দর্যের কাছে বিলীন হয়ে নিজেকেও সে ভুলিয়ে ভালিয়ে, বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাখে। যদিও আমি যতবার তার বাড়ির তিন তলার বড়সড় ঘর তিনটেয় গেছি, ঠিক ততবার একটা হু হু নির্জনতা বুঝতে পেরেছি। সেই নির্জনতা, সেই চাপা অস্ফুট হাহাকার নান্দনিক ছবির উপকরণ নয়, তার ভেতর গরল হয়ে লুকিয়ে আছে অন্য জন্মের বেদনা, এ জন্মের আহত আত্মসম্মান।

শ্রীমদ্ভগবদগীতায় আছে, "লোকে যেমন পুরোনো, জীর্ণ পোশাক ত্যাগ করে নতুন পোশাক পরে, আত্মাও তেমনি পুরোনো দেহ ছেড়ে নতুন দেহে আশ্রয় নেয়।" বসন, বসন্তে জন্ম বলে যার নাম বসন, গোটা এক জন্ম জুড়ে নিজের অজ্ঞাত পাপের ক্ষালন করেছে ভালবাসার বিনিময়ে, গয়নার বাক্সের একশো ভরি সোনার জড় অলংকারের পায়ে নিজের প্রাণ, স্নেহ, মমতা সব সমর্পণ করে। তখন অবশ্য তার পুরোনো দেহের "আইডেন্টিটি" ছিল রসময়ী নামে। পুরুষতন্ত্রের ছোবল খেয়ে সে মরণে পা বাড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধকে স্বামী বলে বরণ করেছিল, বারো বছর বয়সে বৈধব্যের স্বাদ নিয়েছিল। তারপর এক জীবন, এক জন্ম সোনার গয়নার নিষ্প্রাণ ঝলমলানি আঁকড়ে সে বেঁচেছিল কারণ, সমাজের শিখিয়ে দেয়া ভাগ্যের মিথ বরণ করে, ভাইদের কপট আদরে বেঁচে থাকার পথটাই সে জানতো।

রসময়ী এবার বসন্তে জন্ম নিয়েছে। সম্ভবত, তাকে অজানা পাপের শাস্তি দিয়ে বিধাতার খানিক অনুশোচনা হয়েছিল, তাই তিনি তাঁকে ষড়ঋতুর শেষটায় নিয়ে এলেন। বসন বড় সুন্দর, পরিবারের আদরের। যৌবনের ধর্মে সে শুধু ভাব করতে চেয়েছিল "গুড বয়" অমলেশদার সাথে, চিঠি লিখে আলাপ করবার ইচ্ছেটুকু শুধু জানিয়েছিল। চিঠিটা পেয়ে অমলেশদা বসনদের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে কলেজ যাবার পথ বদল করলো। এই সামান্য ঘটনাহীন ঘটনাই জাগিয়ে তুলল বসনের গতজন্মের বিষণ্ণতা, দীর্ঘ বৈধব্যের হাহাকার।

আমি জানি, বসন জানে কী করে ভালোবাসতে হয়। সে বোঝে কাকে ভালোবাসা বলে। তাই যখন বান্ধবী নিজের প্রেমিকের গল্প শোনায়, বলে সে নাকি তার প্রেমিকের নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে বাস করে, তখন বসন শুনতে পায় বুলি সর্বস্ব প্রেমের ফাঁকা আওয়াজ। রসময়ী সত্য - মিথ্যের ফারাক জানতো না, সে শুধু স্বামী - সংসারের রূপকথা চেয়েছিল। কিন্তু, বসন শামসের "forty rules of the religion of love" জানে- সজ্ঞানে অথবা অজ্ঞানে।

প্রবল আত্মসম্মান নিয়ে জন্ম নেয়া বসন্তকুমারী গভীর অভিমানিনী। তবে যেদিন অমলেশদা সেই পুরাতনের প্রায়শ্চিত্ত করতে, বসনের কুষ্ঠ হওয়ার স্বেচ্ছাকৃত মিথ্যে প্রচারণা শুনেও আর দ্বিধা করেনি, সেদিনই তিনতলার বড়, আরামদায়ক ঘরগুলোয় প্রথম বসন্ত এসেছে। রসময়ীর কান্না সেদিনই সে ঘরের বাতাসে ঘুরপাক খেয়ে চিরতরে মিলিয়ে গেছে, বিধাতারও প্রায়শ্চিত্ত পূর্ণ হয়েছে।

বসনের জন্মঋতুতে জন্ম আমারও। ইচ্ছে রাখি, কখনো কোনো কন্যাশিশু যদি আমার মাতৃসত্তাকে পূর্ণ করে তোলে, তাকে ডাকব "বসন" বলে।

( শ্রী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য সৃষ্টি "গয়নার বাক্স" এর অনুপ্রেরণায়)
(সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত: @ ঋদভিকা পাল)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×