১৯৯৯ সাল । আমার বয়স ৭, পড়ি ক্লাস ২তে । মহামানবদের মাথায় ছোটবেলা সুপ্ত থাকে প্রতিভা, আর আমার মাথায় ছোটবেলা সুপ্ত ছিলো ইবলিশ (অনেকে বলে, এখনো আছে । তবে এইগুলা আসলে আমার নামে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা মাত্র)। সেই ইবলিশ মাঝে মাঝেই জেগে উঠে আমাকে নানারকম (অ)কাজ করার উপদেশ দেয় এবং আমিও সেই উপদেশ মাথা পেতে নেই । আমাদের এলাকায় অনেকগুলা চালের মিল ছিলো এবং সেই জন্যে অনেক ট্রাক আসতো । এত ট্রাকের আনাগোনার ফলে আমার একটা লাভ হইতো । ট্রাকের হেল্পারদের কথাগুলা আমার খুব মজা লাগতো এবং ট্রাকের শব্দ শুনলেই আমি দড়িছিড়া গরুর মত দৌড় দিতাম রাস্তার দিকে । তখন পৃথিবীর কোন শক্তিরই সাধ্য ছিল না আমারে দাবায়া রাখার । ট্রাক হেল্পারদের ৪/৫টা শব্দ খুবই মজার লাগতো । সেইগুলা হইলো “বেরেক”, “ডাইনে লন”, “বামে চাপেন”, “অই হপ” । দিবাস্বপ্ন দেখতাম যে বড় হইয়া আমিও একদিন…… ।। :#>
তো একদিন সকালে খেলতে বাইর হইলাম । কিছুদূর যাইয়া দেখি কারেন্টের খাম্বার সাথে ইয়া বড় এক গরু বান্ধা । গরু দেইখা মাথার ইবলিশ উঠলো ঘুম থেইকা । আমারে উপদেশ দিলো, “গরুটা তো তোর তুলনায় ট্রাকের মতই । শুরু কর ।” আমি খেলার কথা ভুইলা গরুর সামনে যাইয়া একটু ভালভাবে দেখলাম, তারপর একটা ভাব নিয়া কইলাম “ডাইনে লন।” গরু তো বান্ধা, সে ডাইনে লয়না । এইবার কইলাম, “বামে চাপেন ।” কিন্তু গরু একদমই নড়েনা । এতক্ষণে দেখলাম গরুর সাথে একটা বাছুরও আছে এবং সে বান্ধা না । আমার কথামত গরু না চাপলেও বাছুর দেখি নিজেরে আস্তে আস্তে আমার দিকে চাপাইতাছে । গরু আর নড়বেনা বুইঝা শেষচেষ্টা হিসেবে বাছুরের দিকে তাকাইয়া চিক্কুর মাইরা কইলাম “অই হপ, বেরেক ।” বাছুর এইটা শুইনা কি বুঝলো কে জানে (মনে হয় ভাবছিলো তারে “ময়ূরীর বাচ্চা” জাতীয় কোন একটা অপমান করা হইসে) সে আমারে দিলো দৌড়ানি । মাথার ইবলিশ কইলো, “অর্ণব, দৌড় দে” (জীবনে প্রথম এবং শেষবারের মত সে আমারে একটা ভালো উপদেশ দিছিলো) । এক মুহূর্তে উসাইন বোল্ট হইয়া গেলাম, বাসার ঝাইড়া দিলাম দৌড় । বাসায় আইসা মনে মনে কইলাম, “গরুর বাচ্চা যে গরুই হয়, সেইটা বুঝা গেল । আমার হেল্পার প্রতিভার কোন দামই দিলোনা ।” মনটা আফসুসে ভইরা গেলো । এরপরও সেই বাছুরের সাথে আরো কয়েকবার দেখা হইছে । তারে দেইখাই আমি বেরেক ধইরা উল্টাদিকে হাটা দিতাম আর মনে মনে কইতাম “আফসুস, বিরাট আফসুস ।”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



