somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গরু, বাছুর, প্রতিভা এবং বিরাট আফসুস… :( :(

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯৯ সাল । আমার বয়স ৭, পড়ি ক্লাস ২তে । মহামানবদের মাথায় ছোটবেলা সুপ্ত থাকে প্রতিভা, আর আমার মাথায় ছোটবেলা সুপ্ত ছিলো ইবলিশ (অনেকে বলে, এখনো আছে । তবে এইগুলা আসলে আমার নামে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা মাত্র)। সেই ইবলিশ মাঝে মাঝেই জেগে উঠে আমাকে নানারকম (অ)কাজ করার উপদেশ দেয় এবং আমিও সেই উপদেশ মাথা পেতে নেই । আমাদের এলাকায় অনেকগুলা চালের মিল ছিলো এবং সেই জন্যে অনেক ট্রাক আসতো । এত ট্রাকের আনাগোনার ফলে আমার একটা লাভ হইতো । ট্রাকের হেল্পারদের কথাগুলা আমার খুব মজা লাগতো এবং ট্রাকের শব্দ শুনলেই আমি দড়িছিড়া গরুর মত দৌড় দিতাম রাস্তার দিকে । তখন পৃথিবীর কোন শক্তিরই সাধ্য ছিল না আমারে দাবায়া রাখার । ট্রাক হেল্পারদের ৪/৫টা শব্দ খুবই মজার লাগতো । সেইগুলা হইলো “বেরেক”, “ডাইনে লন”, “বামে চাপেন”, “অই হপ” । দিবাস্বপ্ন দেখতাম যে বড় হইয়া আমিও একদিন…… ।। :#>
তো একদিন সকালে খেলতে বাইর হইলাম । কিছুদূর যাইয়া দেখি কারেন্টের খাম্বার সাথে ইয়া বড় এক গরু বান্ধা । গরু দেইখা মাথার ইবলিশ উঠলো ঘুম থেইকা । আমারে উপদেশ দিলো, “গরুটা তো তোর তুলনায় ট্রাকের মতই । শুরু কর ।” আমি খেলার কথা ভুইলা গরুর সামনে যাইয়া একটু ভালভাবে দেখলাম, তারপর একটা ভাব নিয়া কইলাম “ডাইনে লন।” গরু তো বান্ধা, সে ডাইনে লয়না । এইবার কইলাম, “বামে চাপেন ।” কিন্তু গরু একদমই নড়েনা । এতক্ষণে দেখলাম গরুর সাথে একটা বাছুরও আছে এবং সে বান্ধা না । আমার কথামত গরু না চাপলেও বাছুর দেখি নিজেরে আস্তে আস্তে আমার দিকে চাপাইতাছে । গরু আর নড়বেনা বুইঝা শেষচেষ্টা হিসেবে বাছুরের দিকে তাকাইয়া চিক্কুর মাইরা কইলাম “অই হপ, বেরেক ।” বাছুর এইটা শুইনা কি বুঝলো কে জানে (মনে হয় ভাবছিলো তারে “ময়ূরীর বাচ্চা” জাতীয় কোন একটা অপমান করা হইসে) সে আমারে দিলো দৌড়ানি । মাথার ইবলিশ কইলো, “অর্ণব, দৌড় দে” (জীবনে প্রথম এবং শেষবারের মত সে আমারে একটা ভালো উপদেশ দিছিলো) । এক মুহূর্তে উসাইন বোল্ট হইয়া গেলাম, বাসার ঝাইড়া দিলাম দৌড় । বাসায় আইসা মনে মনে কইলাম, “গরুর বাচ্চা যে গরুই হয়, সেইটা বুঝা গেল । আমার হেল্পার প্রতিভার কোন দামই দিলোনা ।” মনটা আফসুসে ভইরা গেলো । এরপরও সেই বাছুরের সাথে আরো কয়েকবার দেখা হইছে । তারে দেইখাই আমি বেরেক ধইরা উল্টাদিকে হাটা দিতাম আর মনে মনে কইতাম “আফসুস, বিরাট আফসুস ।” :( :(
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×