বেয়ন্স । সংগীতপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং পৃথিবীজোড়া বিখ্যাত একটি নাম । নটি গার্ল, ক্রেজি ইন লাভ, রিং দ্যা এলার্ম, ইফ আই ওয়্যার এ বয় সহ আরো অনেক জনপ্রিয় গানের গায়িকা ৩০ বছর বয়সী এই আমেরিকান । গায়িকা, গীতিকার, অভিনেত্রী, কোরিওগ্রাফার, ফ্যাশন ডিজাইনার ইত্যাদি অনেক বিশেষণেই তাকে বিশেষিত করা যায় । গিনেস বুকেও তার নাম আছে দুটি আলাদা রেকর্ড গড়ার কারণে । ২০১০ সালে তিনি এবং তার স্বামী, বিখ্যাত র্যা প গায়ক জে-জেড মিলে এক বছরে (২০০৯ সালে) ১২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে “পাওয়ার কাপল” হিসেবে গিনেস বুকে নাম লেখান । তার পরের বছর ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেয়ন্সের গর্ভধারণের খবরে ভক্তরা তার টুইটারে প্রতি সেকেন্ডে রেকর্ডসংখ্যক টুইট করে, যা স্থান করে নেয় গিনেস বুকে ।
বেয়ন্স নামটি আরেকবার হয়তো উঠতে যাচ্ছে রেকর্ডের পাতায় । তবে একটু বিষ্মিতই হবেন, যখন শুনবেন এই বেয়ন্স, প্রখ্যাত গায়িকা বেয়ন্স নোলেস নন । বিষ্ময়টা সীমা ছাড়িয়ে যাবে যখন আরো শুনবেন, গায়িকা তো দূরের ব্যাপার, ইনি মানুষই নন! হ্যা, ঠিকই পড়েছেন । এই বেয়ন্স গায়িকা নন, ইনি একটি কুকুরছানা । নর্দান ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রেস ফাউন্ডেশনে জন্ম এই ছানাটির । সপ্তাহ দুয়েক আগে ক্যাসি নামক এক জার্মান ডাক্স-হুণ্ট কুকুর জন্ম দেয় ৫টি ছানার । তাদের মধ্যে সবশেষে ভূমিষ্ঠ হওয়া ছানাটিই বেয়ন্স । জন্মের পর পরই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বেয়ন্সের, কয়েক মিনিট কেটে যায় কোনরকম শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়াই । গ্রেস ফাউন্ডেশনের পশুচিকিৎসক ডাঃ মাইকেল রাসেল অনেক চেষ্টা করেও যখন বেয়ন্সের শ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারছিলেন না, তখন এগিয়ে এলেন তার সহকারী বেথ ডিক্যাপ্রিও । বেয়ন্সের মুখে মুখ লাগিয়ে বেথ কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করলেন । আর তার ফলেই জীবনের প্রথম শ্বাস নিল বেয়ন্স । বেথ বলেন, “ওর মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেয়াটা মজার একটা অভিজ্ঞতা ছিল । কয়েকবার চেষ্টা করার পর সে ছোট ছোট শ্বাস নিতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণ পর একটি বড় শ্বাস নেয় । তারপরও আমি আরো কিছুক্ষণ শ্বাস দেয়া চালিয়ে যাই এবং একসময় তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে ।” এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কি এমন করেছে এই কুকুরছানা যার জন্য গিনেস বুকে উঠতে যাচ্ছে তার নাম ? আসলে জন্ম নেয়ার সাথে সাথেই একটি রেকর্ড করে ফেলেছে বেয়ন্স । বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কুকুর হিসেবে জন্ম নিয়েছে সে । তার সহোদরদের মধ্যে সেই আকারে সবচেয়ে ছোট । কত ছোট ? তার বর্তমান ওজন মাত্র ১২৪ গ্রাম! গ্রেস ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেয়ন্সের ওজন হয়তো আরো কিছু বাড়বে তবে প্রাপ্তবয়স্ক বেয়ন্সের ওজন হবে ১ কেজিরও কম । এতোই ছোট তার আকার যে, একটি আইফোনই তার পুরো শরীরটাকে ধারণ করতে যথেষ্ট, কারো কারো মতে একটু চেষ্টা করলে একটা চামচেই এটে যাবে ছানাটি । ক্যালিফোর্নিয়ার প্রানী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, “তার আকার একটি ক্রেডিট কার্ডের মতো । একটি আইফোনে তাকে খুব সুন্দরভাবে বসানো যাবে ।” তারা আরো বলেছেন, বেয়ন্সই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কুকুর হিসেবে রেকর্ড বুকে নাম লেখানোর দাবীদার । এই মর্মে গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে একটি আবেদনপত্রও পাঠানো হয়েছে ।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কুকুরের রেকর্ডটি বগলদাবা করে আছে আমেরিকার কেন্টাকি রাজ্যের ‘বো বো’ নামের একটি ১ কেজিরও কম ওজনের একটি কুকুর ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



