গত ২০শে মে ২০১৪ তারিখে ফেনী শহরে নৃশংস ভাবে খুন হন ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক। দিনে দুপুরে একদল সন্ত্রাসী প্রথমে গুলিবর্ষন করে, পরে কুপিয়ে এবং শেষে পুড়িয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে একরামুল হকের।
ব্যাস, শুরু হয়ে গেলো রাজনৈতিক সাপলুডু খেলা। আওয়ামী লীগ কর্তৃক বিএনপি কে দোষারোপ, বিএনপি কর্তৃক আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করা। বিশিষ্ট তোতাপাখি তার মুখস্ত বয়ান দিয়ে ফেললেন (সূত্র ) । এরমধ্যেই একদল বিক্ষুব্ধ লোক একরামুলের বিপরীতে নির্বাচন করা বিএনপি সমর্থিত নেতার ঘর-বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করলেন।
মারহাবা, মারহাবা। একেই না বলে সাপলুডু খেলা। কিন্তু বাগড়া দিলো র্যাব। নারায়নগন্জ্ঞের ঘটনায় ধরা পড়া/ফেঁসে যাওয়া র্যাব ঘটনার পরে দ্রুত পদক্ষেপ নিলো। প্রাথমিক তদন্ত, আটক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রীতিমত সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিলো ঘটনা আভ্যন্তরীন কোন্দলের। এরকম ক্ষেত্রে র্যাব কি আগে চুপি-চুপি কাজ করতো? নাকি এবার হালকার উপর ঝাপসা প্রতিশোধ নিচ্ছে মিডিয়ায় আয়োজন করে সংবাদ সম্মেলন করে। মিল্কী হত্যার পরে কি এভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিলো? না কি হয়নি? না হয়ে থাকলে এবারেরটা একটু অন্যরকম হয়ে গেলো না?
এবার আসি বাস্তবতায়। এই যে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দিলো, কারা এবং কেন এ কাজ করলো। ঐ প্রার্থীর ক্ষতিপূরন কি সরকার দেবে? না যারা অগ্নিসংযোগ করেছে তারাই দেবে? না, কেউই দেবে না। এবং মহামান্য আদালতও এখানে স্বপ্রনোদিত হবেন না। এখানে স্বপ্রনোদিত হয়ে কি লাভ? আর যারা অগ্নিসংযোগ করেছে, তারা কি এখন মূল দায়ীদের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করবেন?
এবার আসুন এ ঘটনার সাথে কিছু ঘটনা মেলাই। একটা সড়ক দূর্ঘটনা ঘটলো, একজন মারা গেলো, দায়ী গাড়ী সরে গেলো। একদল লোক এসে প্রতিবাদস্বরুপ রাস্তা অবরোধ করে অন্য গাড়ী ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ শুরু হলো।
এখন বলুন, ফেনীর ঘটনায় অগ্নিসংযোগকারী এবং বিভিন্ন দূর্ঘটনার পরে নিরপরাধ গাড়ীতে অগ্নি সংযোগকারীদের মধ্যে কি কোন পার্থক্য দেখছেন?
মূলকথা: আবেগ থাকা ভালো, তবে তার উপর নিয়ন্ত্রন রাখা সমীচীন। আবেগ দেখাতে গিয়ে নিরপরাধের ক্ষতি করার জঘন্য মানসিকতা পরিহার করা উচিৎ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



