somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ওজন মাপার যন্ত্রের আত্মকাহিনী

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জন্ম কোন দেশের কোন কারখানায় হয়েছে তা সম্পর্কে আমার খুব একটা স্পষ্ট ধারণা নেই । বডি লাগানোর পর থেকে(আপনারা যাকে বলেন জ্ঞান হওয়ার পর থেকে ;) ) নিজেকে অন্য জ্ঞাতি ভাইয়ের সাথে স্টেশনারী স্টোরে নিজেকে আবিস্কার করেছি । সেখানে অত্যন্ত একঘেয়ে দিন কাটছিল :-/ । এরপর একদিন আমার বক্স খুলল(আপনাদের ভাষায় কপাল খুলল) । একজন লোক এসে আমিসহ আমার দশ জ্ঞাতি ভাইকে কিনে নিতে এল । এরপর আমরা দশ ভাই একটি হলুদ পিকআপে করে আমাদের নতুন ঠিকানায় রওনা দিলাম !:#P !:#P !:#P

সেখানে পৌঁছবার পরে আমাদেরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মেঝেতে রাখা হল । যখন আমরা বুঝতে পারলাম আমাদেরকে এখন আলাদা করে নানা জায়গায় পাঠিয়ে দেয়া হবে তখন আমরা একজন আরেকজনকে উদ্দেশ্য করে শেষবারের মত ইনডিকেটরের কাঁটাটা খুব সূক্ষভাবে নেড়ে দিলাম :( :( :(( । সূক্ষ মানে আসলেই সূক্ষ, মানুষের চর্মচোখে তা কিছুতেই ধরা পড়বে না । এরপর যথারীতি আমরা আলাদা হয়ে গেলাম ।

আমাকে যে কক্ষে নিয়ে যাওয়া হল যেখানে অনেক যন্ত্রপাতি দেখতে পেলাম :| । কিছুদিন যাওয়ার পর বুঝতে আসলে এই কক্ষটি একটি অপারেশন থিয়েটার :-* । অপারেশন থিয়েটার হলেও সকালবেলার দিকে অনেক ভিড় থাকে । ডাক্তার, ইন্টার্নি, এপ্রন পরিহিত একগাদা ছাত্রছাত্রী, সিস্টার, ব্রাদার সবাই মিলে এক বিশাল অবস্থা । মেডিকেল স্টুডেন্ট আপু-ভাইয়ারাই আমার সবচেয়ে বেশি কাছে থাকেন । তারা যখন আমার ইন্ডিকেটরকে ‘শূন্য’দাদার সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকতে দেখেন, তখন তাদের বেশিরভাগই নিজেদের আর সামলাতে পারেন না X(( X(( X(( । আমার রিডিং নিয়ে রোগীকে ওটি টেবিলে ওঠানোর পরপর স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভয়াবহ অসচেতন ব্যক্তিরাও তাদের বিশাল বপু নিয়ে আমার ছোট্ট দেহের ওপর চেপে বসেন :-/ :-/ :-/ । এক-দুজন হলে তাও এক কথা ছিল, কিন্তু একজনের দেখাদেখি পর্যায়ক্রমে সবাইকে রিডিং দিতে বাধ্য হই আমি ।

সবাই অনেক উৎসাহ নিয়ে একজনের পর আরেকজন আমার ওপর দাঁড়িয়ে রিডিং দেখে, ৭০/৮০/৯০ কেজি রিডিং দেখেই তাদের বেশিরভাগের মুখ কালো হয়ে যায় । তখন আমার একধরণের পৈশাচিক আনন্দ হয় :-P :-P :-< । হবেই না কেন বলুন, আমি মানুষ না হতে পারি কিন্তু এত চাপাচাপি আর কাহাতক সহ্য হয়? সহ্য না হলেও উপায় নেই, শুক্রবার ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই চলে এই অত্যাচার ।

তবে সত্যি কথা বলতে, আমি হয়ত আপু-ভাইয়াদের সন্তুষ্ট করতে পারি না :-0 :-0 কিন্তু আমি রিডিং দেয়ার পর যেসমস্ত রোগীর অপারেশন হয়, তাদের সুস্থ হয়ে বাড়ি যেতে দেখলে নিজেকে কিছুটা হলেও স্বার্থক মনে হয় । প্রতিদিনের কাজের ‘চাপ’ এর মাঝে এটাই আমার একমাত্র তৃপ্তি :`> :``>> :)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৬
৩৬টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

=দূরের পাহাড় ডাকছে আমায়=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:০৯


তোমায় ছেড়ে যাচ্ছি বন্ধু
ডাকছে আমায় দূরের পাহাড়
দেখে আসি ঘুরে ফিরে
এই দুনিয়ার মোহ বাহার।

যাবে নাকি সঙ্গে আমার?
নাকি থাকবে ঘরে বসে?
কেমন করে রুখবে আমায়
যাচ্ছো বুঝি অংক কষে?

মানবো না আর নিষেধ বারণ
পাহাড় দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×