সাংসদ-সমর্থকদের তালা, ৩৮ দিন বন্ধ বিদ্যালয়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সকালে পত্রিকা হাতে নিতেই চোখ পড়লো খবরটায়.....
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাকসপোল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৮ দিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। স্থানীয় সাংসদ খান টিপু সুলতানের অনুসারীকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি না করায় বিদ্যালয়ের কার্যালয় ও শ্রেণীকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই নির্বাচনের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পাঁচজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে ২৪ জুলাই মনিরামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুককে কমিটির সভাপতি করা হয়। সেই কমিটি অনুমোদনের জন্য পরদিন যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, অভিভাবক সদস্যদের একজন যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাংসদ খান টিপু সুলতানের অনুসারী বলে পরিচিত মোশারফ হোসাইন ওরফে মাসুদকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বিবেচনায় নিস্তার ফারুক সভাপতি মনোনীত হন। এতে ক্ষুব্ধ হন মাসুদ। ২৬ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর মাসুদের অনুসারী স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তিন-চারজন ব্যক্তি বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রধান শিক্ষক জানান, ওই দিন তিনি মনিরামপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন সকালে গিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি তালা খোলা দেখতে পান।
প্রধান শিক্ষক জানান, এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে আবারও সাতটি শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষকদের বসার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তালা ভাঙার চেষ্টা করলে মাসুদের অনুসারীরা তাদের জীবননাশের হুমকি দেয়।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের দরজায় তালা লাগানো রয়েছে। তিনজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে জেএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও দাপ্তরিক কাজ করছেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না।
সহকারী প্রধান শিক্ষক কাইয়ুম আলী প্রথম আলোকে জানান, জেএসসি ও এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনেক বলে-কয়ে দুটি কক্ষের তালা খুলে নেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো রকমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান এবং ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বিষয়টি তদন্ত করেন।
জেএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী জুয়েল রানা বলে, ‘জিপিএ-৫ পাওয়ার আশা ছিল। এখন পাস নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতার তথ্যমতে, প্রধান শিক্ষক এস এম মোশারফ হোসেন চলতি মাসে এক দিনও স্কুলে যাননি। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘হাজিরা খাতায় সই করব কখন? এলাকায় গেলে লোকজন আমাকে মারতে আসে। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সাহায্যও পাচ্ছি না। বিষয়টি মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানালে তিনি বলেন, “তালা ভেঙে ফেলেন।” এমপি সাহেব বলেন, “স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে নেন।” ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করে গেছেন। বিষয়টি আমার জন্য লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছেলেমেয়েদের শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমি প্রধান শিক্ষক হয়েও কিছু করতে পারছি না।’
প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষর না করার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীরা চলতি মাসের বেতন-ভাতা তুলতে পারেননি।
অভিভাবক আশরাফ আলী মোড়ল জানান, স্কুলের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে অন্তত দুই মাস ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এতে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অভিভাবক শ্রীবাস হাজরা বলেন, ‘ছেলেকে যে অন্য স্কুলে ভর্তি করব, তারও সুযোগ নেই। জেএসসি পরীক্ষার তো আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে।’
যোগাযোগ করা হলে মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার চাচা ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তাই সভাপতি হওয়ার জন্য আমার একটি দাবি আছে। তা ছাড়া এমপি সাহেবও চাচ্ছেন, আমি স্কুলের সভাপতি হই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে সভাপতি হতে চাইনি। তবে স্থানীয় লোকজন চাইলে আমি তো আর তাদের না বলতে পারি না।’ মাসুদ দাবি করেন, স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।
মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে জানান, এমপি সাহেব বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া লোকজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ জন্য প্রশাসন কিছু করতে পারছে না।
সাংসদ খান টিপু সুলতান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে তালা দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে অচলাবস্থা নিরসনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বোর্ডে চিঠি দিয়েছি।’ একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ‘আপনি আপনার কাজ করেন, আমাকে আমার কাজ করতে দেন’ বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ইউএনও জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, ‘শিক্ষা বোর্ডের চিঠি পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিটি গঠনে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, বাকসপোল গ্রামের কাউকে সভাপতি করা হোক।
ইউএনও জানান, প্রতিবেদন পাঠানোর ২০ দিন হয়ে গেছে। বোর্ড থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আমিরুল আলম খান প্রথম আলোকে জানান, ইউএনওর তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত দিকটি দেখার জন্য শিক্ষা বোর্ডের আইন উপদেষ্টার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁর মতামতের প্রতিবেদন হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়, আর এমপিওভুক্ত হয় ১৯৮৮ সালের ১ জুন। বর্তমানে স্কুলে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, ১২ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন।
খবরটা এখানে
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।