somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্য ময় গল্পঃগভীর জ্বলের মাছ (শেষ খন্ড)

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।রহস্যময় গল্পঃ গভীর জলের মাছ ( ১ম খণ্ড )
২।রহস্যময় গল্পঃ গভীর জলের মাছ ( ২ম খণ্ড )
৩।

কাঞ্চনবাবু কমলকে বললেন হুম কমল মামলাটা কিছুটা জটিল হবে বলে মনে হচ্ছে । আচ্ছা কমল প্রদীবরায়ের কে একজন বোনের ছেলে আছে যে বললে উনি কোথায় থাকে ।

হ্যা দাদা ঐ একমাত্র বোনের ছেলেই যে প্রদীবরায়কে সব সময় দেখে শুনে রাখে । প্রদীবরায় তার বোনকে ঐ গ্রামের এক প্রভাবশালি ব্যক্তির ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন । সেই সূত্রে প্রদীবরায়ের বোনের ছেলের তাদের গ্রামে চারটি বিশাল বড় বাড়ি আছে তার মধ্যে একটি বাড়ি নিয়ে থাকতেন প্রদীবরায়ের বোনের ছেলে ।

হুম তা কমল প্রদীবরায়ের বোনের ছেলেটি করে কি?
না দাদা উনি তেমন কিছুই করেন না এক মাত্র মামাকে দেখা শুনা আর উনি মাঝে মাঝে জঙ্গলে শিকার করতে বের হতেন খুব ছোট থেকেই নাকি উনার শিকার করার নেশাটা হয়ে ওঠে । হুম সবই বুঝলাম ।

আচ্ছা আচ্ছা কমল টা ঘটনার দিন রাতে প্রদীবরায়ের বোনের ছেলে কোথায় ছিল ?
হ্যা দাদা ঘটনার দিন রাতে প্রদীবরায়ের বোনের ছেলের কয়েকজন বন্ধু শহর থেকে আছে তারা গ্রাম গুরে দেখার জন্য ।
ঘটনার দিন বিকেলে মামার সাথে দেখা করে বন্ধুদের সাথে নিয়ে রাতে শিকারে যাবে বলে ঐ দিন বিকেলেই তাদের বাড়ি চলে যায় । হুম তা কমল সে কি রাতে শিকারে গেছিলেন ।
হ্যা দাদা উনি ঐ দিন রাতে শিকারে গেছিলেন ।

কাঞ্চনবাবু কমলকে বললেন হুম কমল সবই বঝলাম মামলা বড় জটিল একটু খুটিয়ে দেখতে হবে ।
তা দাদা কি ভাবে মামলার তদন্ত শুরু করতে চান ।
কমল হ্যা দাদা বলুন কাজ যত বেশি জটিল হবে তত বেশি কাজ করে আমি মজা ও আনন্দ পাই ।কমল আমি তোমার এ কাজটি করে দিচ্ছি । তুমি এক কাজ কর কালকে প্রদীবরায়ের বোনের ছেলেকে বিকেলে বাড়িতে থাকতে বল আমি আর তুমি কালকে উনার সাথে কথা বলবো । ঠিক আছে দাদা তাই হবে আমি বরং এখনি তাকে ফোন করে দেই । হ্যা তাই কর তাহলে কমল আমি আজ ওঠলাম ঠিক আছে দাদা । ও হ্যা কমল তুমি আজ বিকেলে প্রদীবরায়ের পোষ্ট মডামের রিপটটি নিয়ে আমার বাড়িতে এসো ।
ঠিক আছে দাদা বলে কমল কাঞ্চনবাবুকে বিদায় দিলেন ।কাঞ্চনবাবুও কমলের কাছ বিদায় নিয়ে বাসায় চলে গেলেন ।

রাতে কমল প্রদীবরায়ের পোষ্ট মডেমের রিপোট নিয়ে কাঞ্চনবাবুর বাড়িতে চলে গেলেন ।
কাঞ্চনবাবু কমলকে জিজ্ঞেস করলেন কি কমল কোন রহস্য খুজে পেলে রিপটের ভিতরে । দাদা কিযে বললেন এত সহজে কি এ খুনের রহস্য খুজে পাওয়া যাবে ।
যাবে যাবে কমল সব রহস্যের যখন একটা শেষ আছে তখন মনে কর এর একটা শেষ আছে ।

বস কমল আজ রাতে দুজনে এক সাথে ডিনার করবো । কমল কাঞ্চনবাবুর হাতে প্রদীব রায়ের রিপটটি দিলেন । কাঞ্চনবাবু কমলের হাত থেকে রিপটটি নিয়ে সব কিছু দেখলেন ।
কাঞ্চনবাবু কমলকে বললেন হুম সব ঠিক আছেতো এটাই তো প্রদীব রায়ের রিপট নাকি ?
কমল কাঞ্চনবাবুকে বললেন হ্যা দাদা এটাই প্রদীব রায়ের রিপট ।
ঠিক আছে কমল চলো আমরা ডিনার শেষ করি রাত হতে চলছে
তোমাকেও বাড়িতে যেতে হবে হ্যা দাদা তাই করি চলুন অনেক রাত হতে চলছে ।
ডিনার শেষ কাঞ্চনবাবু কমলকে বিদায় দিলেন আর বললেন কমল কাল বিকেলে আমরা তাহলে যাচ্ছি কিন্তু প্রদীব রায়ের ভাগ্নের বাড়িতে । দাদা হ্যা যাচ্ছি আর আজকেই ফোন করে ওনাকে বলে দিয়েছি আমাদের কালকে যাওয়ার কথা সুতারাং কালকে আমরা যাবো ।বিদায় নিয়ে কমল চলে গেল ।


পরদিন বিকেলে কমল চলে গেল কাঞ্চনবাবুর অফিসে কাঞ্চনবাবু কমলকে সাথে নিয়ে চলে গেলেন প্রদীবরায়ের বোনের বাড়িতে ।
কাঞ্চনবাবু ও কমল ওখানে পৌছানোর পরে দেখলেন প্রদীবরায়ের বোনের ছেলে বাড়িতে নাই ।

কমল ঐ বাড়ির একজন কাজের লোকছিল তাকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করল তোমার কর্তা কোথায় উনি বলল দাদাবাবু আজ অনেক সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন যাওয়ার সময় বলছে উনি আসতে লেট হলে আপনাদের বসতে ।

দাদা আপনেরা বসুন আমি আপনাদের চা নাস্টা ব্যবস্থা করছি ।
কাজের লোকটি চা নাস্টা ব্যবস্থা করতে চলে গেলেন এর মধ্যে
কমল ও কাঞ্চনবাবু বাড়িটি একটু গুরে ফিরে দেখছেন ।

হঠাৎ করে কাঞ্চনবাবুর নজরে প্রদীবরায়ের বোনের ছেলে যে বন্দুকটি দিয়ে শিকার করে সে বন্দুকটি তার নজরে পড়লো । কাঞ্চন বাবু বন্দুক হাতে নিয়ে বন্দুকের ভিতরে থাকা গুলিগুলো চেক করলেন । কাঞ্চনবাবু দেখলেন বন্দুকে ভিতর থেকে শুধু একটি গুলি খরচ হয়েছে বাকি সবগুলো গুলি বন্দুকের ভিতরে আছে । সব থেকে বেশি চিন্তায় পরে গেলেন কাঞ্চনবাবু এই ভেবে প্রদীব রায়ের শরীরে যে গুলি পাওয়া গেছে সে গুলি আর এই বন্দুকের ভিতরে থাকা গুলি একই গুলি যাই হোক কাঞ্চনবাবু বিষয়টি মাথায় রাখলেন । কমলকে তখন কাঞ্চনবাবু কিছু বললেন না ।

কমল ও কাঞ্চনবাবু বসে কথা বলছেন এর মধ্যে অনেকটা সময় পার হতে চলছে কিন্তু ভাগ্নের কোন খবর নাই । তাই তারা চিন্তা করলেন ঐদিনকার মত চলে যাবে এরই মধ্যে প্রদীবরায়ের বোনের ছেলের কন্ঠ শুনতে পেলেন ।
উনি ভিতরে প্রবেশ করলো পরে তিনজন মিলে চা টেবিলে বসলেন চা খাওয়ার মাঝে কমল কাঞ্চনবাবুর সাথে ভাগ্নের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন ।

তো কাঞ্চনবাবু ভাগ্নেকে জিজ্ঞাসা করলেন যে সময় উনি মারা গেলেন সে সময় আপনি কোথাই ছিলেন । জি স্যার আমি ঐ সময়টা ঠিক মামা যে বনের পাশে পরেছিলেন গুলির আঘাত অবস্থায় আমি ঠিক সে সময় বনের ভিতরে ছিলাম সন্ধা তখন পুরপুরি হয় নাই কিছু আলো দেখা যাচ্ছিল এর মধ্যে আমি একটি হরিনের পিছু নিলাম এক সময় হরিণটিকে টার্গেট করে আমি গুলি করলাম হরিণটি পালিয়ে যায় আর তখন কে যেন একজন চিৎকার করলো সাথে সাথে বনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে দেখি ওখানে একটি পরে আছে আমরা তার কাছে গেলে দেখতে পাই উনি আর কেও না উনি আমার মামা ।
পরে মামাকে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে নিলে ডাক্তার তখন মামাকে মৃতু বলে আমাদের জানান ।
কাঞ্চনবাবু বলেন হুম বুঝেছি ঘটনা আচ্ছা ওখানে আপনেরা ছাড়া আর কেউ ছিল না স্যার ওখানে আমারা ছাড়া আর কেউ ছিলনা ।

কাঞ্চনবাবু তখন তার পকেট থেকে একটি গুলি বের করে ভাগ্নেকে দেখালেন দেখুনতো এই গুলিটি চিনুন কি না ভাগ্নে বল্ল হ্যা স্যার এটা আমার বন্দুকের গুলি ।

ঠিক ধরেছেন এই রকম একটি গুলি আপনার মামার শরীরে পাওয়া যায় ।

স্যার আপনি কি বলতে চাচ্ছেন একটু খুলে বলবেন ।
হুম বলছি আগে থানায় চলুন । হুম কমল তুমি ঘটনার রহস্য কিছু বুঝেছ হ্যা দাদা আমাকে আর কিছু বলতে হবে না আমি বুঝেছি ।

ভাগ্নেকে গাড়িতে উঠিয়ে নিলেন । কমল গাড়িতে উঠে কাঞ্চনবাবুকে বলেন দাদ আপনি আসলে একজন গভীর জ্বলের মাছ । আপনি না থাকলে এ রহস্যের কোন কূল কিনারা করতে পারতাম না । দাদা আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ ।



সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×