
আমাদের সমাজে একজন মেয়ে যখন প্রখমে গর্ভধারন করেন তখন সে অনেক কিছুই জানে না । এই সামান্য কিছু না জানা বিষয়ের জন্য অনেক ধরনের কুসংস্কার আমাদের সমাজ আমাদের নব মায়েদের উপরে চাপিয়ে দেয় । এজন্যই গর্ভধারন করার পরপরই একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে যে শুধু মা সুস্থ্য থাকবে তাই না বরং তার গর্ভে থাকা শিশুটিও নিরাপত্তায় থাকবে । সাধারনত্ব এ সময়টা নব গর্ভপতি মাকে অল্প কিছু নির্দেশ মেনে চলতে হয় । তেমন কিছু নির্দেশ লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হলো।


নিয়মিত নবজাতক মাকে নিয়ে চেকাপের জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে । চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে । এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ও তার দেওয়া নিয়ম নির্দেশ মেনে চলতে হবে ।


স্বামীদের তার স্ত্রীকে যততা পারবেন সময় দিবেন । এবং যততা সম্ভব হবে তাদেরকে বিশ্রাম দেওয়া । খোলা মেলা ও ভাল পরিবেশে রাখতে হবে । যাতে করে গর্ভবতী মায়ের চলা ফেরা করতে কোন সমস্যা না হয় । মাঝে মাঝে স্বামীদের গর্ভবতী অবস্থায় তাদের স্ত্রীদের ঘরের বাহিরে নিয়ে বেরিয়ে আসা ।
এবং আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন গর্ভ অবস্থায় কোন মাই যেন কোন ভারী কিছু বহন না করে ।
মাকে এ সময় যততা বেশি সম্ভব পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য ও অধিক আমিষ বা প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে সকলের খাদ্য তালিকায় শাক-সব্জি এমন পরিমানে যেনো রাখা হয় যাতে ভিটামিন এর কোন ভাবেই অভাব না হয়। একজন ৫০ কেজি ওজনের মায়ের জন্য আদর্শ খাবারে নুন্যতম ২৫০০ কিলোক্যালরি শক্তির যোগান থাকতে হবে।
একজন গর্ভবতী মাকে একটি সুস্থ্য সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য অনেকটা বাড়তি সময় বিশ্রাম ও ঘুমানোর প্রয়োজন আছে । দিনে ২ ঘন্টা থেকে ৩ ঘন্টা ঘুম সহ দৈনিক কমপক্ষে ১০ ঘন্টা ঘুমানো মায়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন মা এর যেনো কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দেখা না দেয়, এতে গর্ভের সন্তান্টির উপর চাপ পড়তে পারে এজন্য নিয়মিত মলাশয় খালি করতে হবে। বেশী বেশী শাক-সবজি খেলে এ সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
এসময় স্তন সামান্য বড় হতে পারে স্তনের বোটায় ও কিছু পরিবর্তন আসে স্তন সামান্য টনটন করাটাও স্বাভাবিক। এসব কারন মাথায় রেখে স্তনের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
গর্ভের প্রথম তিন মাসে যৌন মিলন না করাই উত্তম। গর্ভের শেষ ৬ সপ্তাহ ও যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ ভাবে মিলন করা যেতে পারে।
সম্ভব হলে গর্ভের প্রথম তিন মাস যে কোনো ধরনের লম্বা ভ্রমন এড়িয়ে চলা উচিত।
৭.টিকা :গর্ভের শুরুতেই টিটেনাস এর টিকা নিয়ে নিতে হবে। এই টিকা নেয়ার কারনে সন্তানের কোনো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই বরং না নিলে প্রসবের সময় ঝুকির সম্ভাবনা থেকে যায়।
গর্ভাবস্থায় কোনো অবস্থাতেই মায়ের ধুমপান করা চলবেনা, এমন অভ্যাস থেকে থাকলে সন্তানের ভালোর জন্য ঐ মুহুর্তে তা ত্যাগ করতেই হবে। গর্ভবতী মায়ের সামনে অন্যকেউ ধুমপান করলে তাও শিশুটির ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। যেসব মায়ের মদ্যপানের অভ্যাস আছে তাদের এসময়ে এ অভ্যাসটি থেকেও দূরে থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন শিশুর স্থায়ী ক্ষতির কারন হতে পারে।
দৈনিক গোসল করার অভ্যাস করতে হবে। ঢিলে ঢালা আরাম দায়ক পোশাক পরিধান করার জন্য সব চিকিৎসকই মা’দের উপদেশ দিয়ে থাকেন।
উচ্চ রক্তচাপ, প্রসাব কমে যাওয়া, পেটের উপর দিকে ব্যথা , মাথা ঘুরানো বা মাথা ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই সাথে সাথে আপনার চিকিৎসক কে জানাবেন।
মায়ের ভূমিকা একজন শিশুর জন্য ছবি ব্লগ।
শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধের বিকল্প আর কিছু নেই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
