প্রথমেই বলে নিতে হবে, ইসলামে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। মুসলমানদের যখন খুবই খারাপ অবস্থা, তখন এই বদর যুদ্ধে নবীজির নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেন একদল মুষ্টিমেয় সাহাবী। সেই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.)।

নবীজী পর্দা নেওয়ার পরে, খলিফা আবু বকরকে মানতে অস্বীকার করে আরবের অনেক গোত্র। সেই সময়ে, আবু বকরকে যাকাত দিতে মালিক ইবনে নুওয়ায়রা (রাঃ) অস্বীকার করেছিলেন কি না তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। ইবনে কাসীর আল বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকরের নির্দেশে খালিদ বিন ওয়ালিদ তামীম গোত্র আক্রমণের সুযোগ গ্রহণ করলে, মদীনার আনসারী সাহাবীরা সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
সেই গোত্র আক্রমনের এক পর্যায়ে মালিক ইবনে নুওয়ায়রা (রাঃ)-কে হত্যা করে বসেন খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং সেই রাত্রেরই মালিকের স্ত্রীকে বিয়ে করেন ইদ্দৎ পালনের সুযোগ না দিয়েই যা স্পষ্টত ধর্ষন ছিলো।
খালিদের এসব কাজের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) যিনি বদর যুদ্ধের সাহাবী ছিলেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থে আছে যে - নবীজী বলেন - "তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত করে দেওয়া হয়েছে।"
সেই অভিযানের সময়ে হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) খালিদকে বলেছিলেন যে - হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) ও তাঁর দল নামাজ আদায় করেছিলেন। কিন্তু, খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার দল তাতে কর্ণপাত করেন নাই। অর্থাৎ, খালিদ একজন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীর কথা শুনেন নাই।
যেই অভিযানের পরের দিন, হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) সেই জায়গা ত্যাগ করে মদীনায় চলে যান। তারপরে, খলিফা আবু বকরের কাছে অভিযোগ করেন যে - খালিদ বিন ওয়ালিদ একজন মুসলিমকে হত্যা করেছেন। এটা ছিলো স্পষ্ট একটা জুলুম।
===================
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এসব আলোচনা করে এখন কি লাভ?
আসলে, ইসলামের ভালো অনুসারীরা যদি জুলুমকারীদের অনুসরণ করে নিজেরাই জুলুম করা আরম্ভ করে দেন, তাহলে সমাজে ফেতনা ফ্যাসাদ আরম্ভ হবে না? সমাজ কি অন্যায়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে না?
তাই, প্রয়োজন, সঠিক ইতিহাস জেনে, নিজেদের কি করতে হবে তা ঠিক করে নেওয়া।
================================================================
সূত্রঃ
১) ইবনে কাসির, আল বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ, দার আবি হায়্যান, কায়রো, ১ম এডিশন, ১৪১৬/১৯৯৬, ভলিউম ৬ পৃষ্ঠা ৩৯৪
২) ইবনে কাসির, আল বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ (বাংলা), ভলিউম ৬ পৃষ্ঠা ৪৮৩ - ৪৮৫
৩) আত তাবারী, ভলিউম ২, পৃষ্ঠা ৫০১-৫০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


