somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শেষ বিকেলের আকাশ তাই কিছুটা আঁধার । শূন্য আকাশে শেষ বিকেলের সারাদিন কঠর পরিশ্রমকরে বাড়ি ফেরা উড়ন্ত শ্রমজীবি হিসেবে কিছু কালো কাক আর সাদা বক ছাড়া পুরো আকাশ ফাকা ।

সাদে ফুল গাছ গুলোতে আজ দেখা যাচ্ছে অনেক ফুল ফুটেছে। সাদে এক পাশে রক্তজবা কিছু গোলাপ ।সাদের চার দিকে ঝুলিয়ে দেওয়া ঝুমকোলতা তার ফাঁকে ফাঁকে অনেক ফুল ফুটেছে ।কিছু বেলী ফুলের চারাও এনেছিলেন রিনা আপু সেগুলো আজ অনেক বড় হয়েছে।

কিছু কিছু গাছে ফুল ফুটেছে।সেগুলো যেন কাজলের দিকে চেয়ে হাসে।

রিনা আপু শেষের দিকে দুটি কদম ফুলের চারা ও দুটি কাঠালিয়ার চারা এনেছিলো সেগুলো আজ অনেক বড় হয়েছে সেগুলোমাঝে এখন বেশ কয়েকটিতে ফুল এসেছে । রিনা আপুর হাতের পুরনো গোলাপ গাছ গুলোর বেশ কয়েকটি গাছ এখনো ভালো আছে ।


কাজল বাড়ির সাদে প্রতিদিন উঠে এই রকম শেষ বিকেলের ফাকা আকাশের নিচে রিনা আপুর নিজ হাতে সাজানো ছাদে থাকা বাগান ও বাড়ির দড়জায় লাগানো সেই কদম গাছের দিকে নির্ঝুম ভাবে চেয়ে থাকে ।

রিনা আপুর হাতের লাগানো ফুলের বাগান এখনো সেই রকম অক্ষত আছে শুধু নেই প্রিয় রিনা আপু। এখন আর কেও শোনায় না কাজলা দিদির বাঁশ বাগাঁনে মাথার ওপরে চাঁদ উঠার সেই কথা।

কাজলের মনে জমে আছে শুধু কিছু রক্তাক্ত বেদনাময় স্মৃতি যা কাজলে অজানতে তার মনের গহীনে দোলা দেয়। কাজল সে ভুলতে চাইলেও স্মৃতির পাতা তাকে মনে করিয়ে দেয় পিছনের দিনে ছিড়ে পড়া কিছু স্মৃতির পাতা ।

রিনা আপু আর তপু ভাইয়া যেমন মিল ছিল তেমন তারা দুজনে দুষ্টু ছিল । তপু ভাইয়া আর রিনা আপু প্রায় সময় দুজনে ঝগড়া করতো। আর সে জন্য মা বাবা তাদের দুজনকে সব সময় খুব বকতো ।তারা কথা শুনতো না বলে মা বাবা মাঝে মাঝে তাদের সাথে মিছে অভিমানে কথা বলতো না।

সেই দিনটি ছিল রবি বার সকাল তপু ভাইয়া রিনার আপু সাথে ঝগড়া করার মধ্যে ভাইয়া আপুর গালে চিমটি কেঁটেছিল
সে জন্য মা বাবা ভাইয়াকে সকাল বেলা কি বকনিই না দিয়েছিল।আর সে অভিমানে সেইযে ভাইয়া ঘর থেকে বেরিয়েছিল ভাইয়া আর সারাদিন ঘরে ফিরে নি ।

সে দিন ঢাকার রাজ পথে বাঙালিদে মুখে শুধু একটাই দাবী ছিল রাষ্ট্রিয় ভাষা মায়ের মুখের ভাষা বাংলা হবে ।কিন্তু সেই কালো শকুনের দলেরা বাঙালিদের এ দাবী কিছুতেই মেনে নিতে পাড়লো না ।বাঙালি চাইলো রাষ্ট্র ভাষা বাংলা হোক আর নেকড়ের দল চাইলো উর্দ্দু করা হোক ।

আর এই দাবীর জন্য ঢাকার রাজ পথে রক্তের হলি খেলাহলো
ভাষা নয় যেন সেই নেকড়ের দলেরা বাঙালীদের রক্তয়ই চেয়েছিল এবং সেই নেকরের বাচ্চরা দু চার জনের রক্ত নিয়ে শান্ত হলো না । শত শত মায়ের বুক খালি করলো ।
কেড়ে নিলো সালাম বরকত রফিক জব্বার সহ শত মায়ের সন্তানদের।

ভাষার দাবী নিয়ে ভাইয়াদের কলেজ থেকে একটি মিছিল বের হয় । আর সে মিছিলে ওপরে জাপিয়ে পড়ে সেই শত্রু বাহিনী সেই নেকড়ের দল উর্দ্দু বাসী।

সে মিছিলে ছিল তপু ভাইয়ার বন্ধু করিম ভাইয়া তাদের সাথে ছিল ভাইয়ার আরো কয়েকজন বন্ধু ।মিছিলে প্রথম লাইনে ছিল করিম ভাইয়ারা তার পরের লাইনে ছিল তপু ভাইয়া সহ তাদের সকল বন্ধুরা ।

নেকড়ে কুকুরের দলের একটি নেকড়ে কুকুরের প্রথম কামড়ের দাঁত এসে লাগে করিম ভাইয়ার বুকে ।
সেখান থেকে তপু ভাইয়া করিম ভাইয়াকে কোলে নিয়ে সরে যাওয়ার সময় আরেকটি নেকড়ের কামড়ের দাঁত লাগে তপু ভাইয়ার বুকে ।

সাথে সাথে তপু ভাইয়া করিম ভাইয়াকে কোলে নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন ।

ওখান থেকে ভাইয়ার কয়েকজন বন্ধুরা মিলে ভাইয়াকে ও তার বন্ধু করিম ভাইয়াকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নেন ।
হাসপাতালে যাওয়ার পথে করিম ভাইয়ের মৃত্যু হয় তাই করিম ভাইয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করলেন না। আর ভাইয়াকে হাসপাতালে রাখলেও ভাইয়া ঐ দিন রাত ১২কি তার একটু বেশি সময় পযন্ত বেঁচে ছিলেন কিন্তু অচেতন ছিলেন।

সারা দিন পার হয়ে যখন বাবা ঘড়িতে দেখলেন রাত১১টা বাজে তখনো ভাইয়া বাসায় ফিরে নাই তখন বাবা ভাইয়ার
বন্ধুদের বাসায় ও আমাদের আত্মিয়স্বজনদের বাসায় খোজ করতে লাগলো কিন্তু বাবা কোথাও কোন ছাড়া পেলেন না।

আমরা সকলে চিন্তিত হয়ে পড়লাম । ঐদিন রাত ১টার দিকে ভাইয়ার এক বন্ধু ভাইয়ার সাটের পকেটে একটি ছোট ডাইরী পান আর ডাইরী থেকে আমাদের বাসার ফোন নাম্বারটি নেন আর বাসায় ফোন দেন । ফোন পেয়ে বাবা হাসপাতালে চলে যান । রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় ঐদিন রাতে বাবা ভাইয়ার লাশ নিয়ে বাসায় আসতে পারলেন না।

পরদিন সকালে যখন বাবা ভাইয়ার লাশ নিয়ে বাসায় আসলেন আমাদের বাসায় শুধু নয় আমাদের পুরো মহল্লায় যেন এক শোকের ছায়া নেমে এলো ।

ভাইয়ার মৃত্যুতে সব থেকে বেশি কষ্ট পান রিনা আপু। ভাইয়ার মৃত্যুর সংবাদ শোনার পরে রিনা আপু সেই যে অচেতন হয়ে গেলেন তার পরে রিনা আপু স্মৃতি শক্তি হারিয়ে
কেমন জানি হয়ে যান । তার পরে রিনা আপু আর বেশিদিন বাঁচলেন না ।

এভাবে আমাদের সাজানো বাগানের ফুলগুলো অকালে ঝরে পড়লো। জানি আর কখনো কেও ফিরবেন না।আর কখনো কোন তপু ভাইয়া রিনা আপুর গালে ধরে ঝগড়ার ছলে চিমটি কাঁটবে না ।

আমাদের সাজানো বাগানটি এখনো আছে শুধু নেই সেই বাগানের সুভাস দেওয়া ফুল গুলো ।
এখনো এই বাগানের সামনে এসে দাড়ালে কানে ভেসে আছে সেই শব্দ রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই মায়ের মুখের ভাষা বাংলা চাই ।






সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৪২
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×