বাংলাদেশে 'নারীর অধিকার' একটি বহুল আলোচিত বিষয়। আমাদের সংবিধানেও এর সমর্থন মেলে। যেমন সংবিধানে বলা হয়েছে - ' রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন ' [ অনুচ্ছেদ ২৮ এর ধারা (২)]। 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী' ( অনুচ্ছেদ - ২৭)। ' জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করিবার ব্যবস্থা করিতে হইবে' (অনুচ্ছেদ - ১০)। ' প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে' ( অনুচ্ছেদ - ১১)।
তাহলে দেখা যাচ্ছে অধিকারের প্রশ্নে নারী বা পুরুষ নয়, একজন নাগরিক মানুষ হিসাবে কি অধিকার ভোগ করবে তা উল্লেখিত হয়েছে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে। সংবিধানের এ বলিষ্ঠতা আমাদের আশান্বিত ও অনুপ্রাণিত করে।
কিন্তু নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রচলিত ধারণা নিম্ন রুপ-
♦ নারীদের বুদ্ধি কম ও চিন্তা-চেতনা অযৌক্তিক।
♦ নারীর কাজ হলো রান্না করা, সন্তান ধারন ও লালন করা।
♦ নারীরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা কম।
♦ নারীরা দায়িত্ববান নয়। তারা ঝুঁকি নিতে পারে না।
♦ নারীরা শুধু ভোগের সামগ্রী। সৌন্দর্যই তাদের একমাত্র মূলধন।
♦ নারীরা হিংসুটে, সন্দেহপ্রবন, স্বার্থপর ও লোভী।
♦ নারীরা তরল পদার্থের মতো। যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রে আকার ধারণ করে।
♦ নারীদের নিজের কোন পরিচয় নেই, স্বামীর পরিচয়েই তাদের পরিচয়।
♦ নারীদের শিক্ষার প্রয়োজন নেই। লেখা পড়া শিখলে পুরুষদের মানবে না।
♦ নারীরা বেশি কথা বলে।
♦ বন্ধা নারীরা অপয়া।
♦ নারীদের দিয়ে বংশ রক্ষা হয় না।
নারীর প্রতি সমাজের এরুপ ধারণা দেখে হতাশ ও লজ্জিত হতে হয়। পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদেরকে বাদ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


