somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।শেষ পর্যন্ত খেলে যাওয়ার রসদও দরকার

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হ্যাঁ, আবার ভালো খেললো বাংলাদেশ। এ কি হঠাৎ জ্বলে ওঠা, নাকি স্বাভাবিক আগুনের দেখা, ঠিক বুঝতে পারাও কঠিন। আমি খুব ভালো ক্রিকেট বুঝিনা। তাই মন্তব্য করার আগেই এই সতর্ক অবস্থান।

গতকাল দ.আ. বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শুধু ভালো খেলেনি, অসম্ভব ভালো খেলেছে। গতকালের খেলা দেখে আগের দুই খেলার বিরক্তি, রাগ এবং ক্ষোভ অনেকটাই চলে গেছে অনেকের। বাংলাদেশের সবাই হেসে উঠেছে আনন্দে, আমিও। অভিনন্দন বাংলাদেশ, অভিনন্দন জানাই আমি আমাকেও, আমি এদেশেরই একজন হিসাবে।

এ জয় পুরানো পরাজয় দুটো ম্লান করে দিলেও আমার বারবার ঐ স্মৃতির কথাই মনে হচ্ছিলো। আর বাংলাদেশের পক্ষে তাই কিছু যুক্তিও দাঁড় করাচ্ছিলাম ঐ পরাজয়ের। এমন এক জয়ের পর আমার সল্প মেধায় ঐ পরাজয়গুলোই বিশ্লেষনের চেষ্টা করছি।

অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অবশ্যই খুব দক্ষ খেলোয়ার সমৃদ্ধ দুটি দেশ,এবং তারা অবশ্যই চমৎকার খেলেছে, কোন সন্দেহ নেই। তারা এতই ভালো খেলেছে যে সেমিফাইনালের টিকেট তারা নিশ্চিত করে ফেলেছে বলা যায়। বাংলাদেশের প্রথম দুটো খেলা পড়লো এমন দুই দলের সঙ্গে। সুপার এইটে উঠে বাংলাদেশ দলের মধ্যে তখন অনেকটাই স্বস্তির নিশ্বাস। দুটো খেলাতেই টসে হারলো বাংলাদেশ এবং ব্যাটিংয়ে পাঠালো বিপক্ষদল, আবার বাধ সাধলো বৃষ্টি। খেলা যখন বিঘনিত, খেলার পরিধি যখন ছোট হয়ে যায়, তখন বাংলাদেশ মনেহয় সিদ্ধান্তের জটিলতায়ও পড়েছিলো কিছুটা। কেননা,এমন বাধা পাওয়া, ছোট হয়ে যাওয়া ম্যাচ, তাও এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে,এমন অভিঞগতা বাংলাদেশের বেশি থাকার কথা না, আর দলের অধিকাংশ যখন নবীন তখন সমস্যা হওয়ারই কথা। দুটো খেলাতেই ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ দলকে আমার মনেহয়েছে বিভ্রান্ত। খুব ভালো ক্যাপ্টেনসির-দিক নির্দেশনার অভাব দেখেছি ওখানে। বিভ্রান্ত আমাদের ব্যাটসম্যানরা হয়ত ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি, কখন খেলার গতি কতটা বাড়াতে হবে বা কমাতে, রানও এলো না তেমন একটা তাই। ব্যাটসম্যানরা বোলারদের রসদ দিতে পারেনি যথেষ্ট, যুদ্ধ করবার। ফিলডারদেরও দেখেছি হতাশায় হারাতে। পুরো টিমের গতিই আর তাল মেলাতে পারেনি খেলার সাথে। পরিনামে পেয়েছি তুমুল পরাজয়।

গতকালের খেলায় আমি আশাবাদী হয়েছি আবার। শুরুটা খানিকটা ধীরে হলেও আশরাফুল, আফতাব, মাসরাফির ব্যাটং চমৎকার এগিয়ে নিয়েছে দেশটাকে, বোলারদের দিয়েছে দ.আ. ব্যাটসম্যানদের বেঁধে ফেলবার জন্য যথেষ্ট লম্বা একটা দড়ি। আমাদের মাশরাফি, রফিক, সাকিব, রাজ্জাক আর রাসেলরা কেউ শক্ত করে দড়ি জড়িয়েছে দ.আ. দলের গায়ে, আর কেউ দিয়েছেন শক্ত গিট। আর যাবে কই, বেঁধে ফেলেছে পুরোদলটাকে 50 ওভার শেষের আগেই। এই তো চাই, এই তো খেলা!

আমি মনে করি না, সহজ সমীকরণে, শীর্ষ দলকে হারিয়ে বাংলাদেশ খেলায় সবার শীর্ষে চলে গেছে, বাংলাদেশ এইবারই বাকি সবদলগুলোকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিয়ে আসবে। আবার বাংলাদেশের এজয়কে হঠাৎ জ্বলে ওঠাও মনে করিনা। এখনও বাংলাদেশের সামনে আমি জয়ের সম্ভাবনা দেখি অন্তত দুটো। একটা আয়ারল্যান্ড, আর বাকি শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের সাথে তুমুল প্রতিযোগিতায় অন্তত একটা জয় আমি আশা করছি। হঠাৎ জ্বলে উঠে শীর্ষদল হারানো নয়, আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই সাধারন দলগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয় আশা করছি।

শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। কিন্তু শুরুটাও ভালো খুব জরুরী, শেষ পর্যন্ত খেলাটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। তাই বাংলাদেশকে প্রথম বল থেকেই ভালো খেলতে হবে, বোলিং-ব্যাটিং দুটোতেই। শুরুটা সাথে নিয়েই যেন শেষ পর্যন্ত যেতে পারি আমরা,এ কামনা সবসময়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৩:০৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×