somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোলাহলের যুগে নীরবতার খোঁজ

১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চারপাশে এত শব্দ, এত ব্যস্ততা, এত অবিরাম দৌড়—মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীটা যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ ছুটছে। কেউ ক্যারিয়ারের পেছনে, কেউ স্বীকৃতির পেছনে, কেউ সম্পর্কের পেছনে, আবার কেউ শুধুই টিকে থাকার লড়াইয়ে। অথচ এই অসংখ্য দৌড়ের মাঝেও মানুষের ভেতরে জমে উঠছে এক অদ্ভুত শূন্যতা।

আজকের পৃথিবীতে সবকিছুই খুব দ্রুত ঘটে যায়। এক ক্লিকে সম্পর্ক তৈরি হয়, এক মেসেজে ভেঙেও যায়। মানুষ এখন অনুভূতির আগেই “রিপ্লাই” খোঁজে, অপেক্ষার আগেই “রেজাল্ট” চায়। অথচ একসময় অপেক্ষা ছিল ভালবাসারই অংশ। কারও চিঠির জন্য অপেক্ষা, বিকেলের দেখা হওয়ার অপেক্ষা, কিংবা হঠাৎ ফোন বেজে ওঠার অপেক্ষা—এসবের ভেতরেই ছিল অনুভূতির গভীরতা। তখন সময় ধীরে চলত, আর মানুষও হয়তো একটু বেশি অনুভব করতে পারত।

৯০ দশকের সেই সময়গুলোর কথা ভাবলে মনে হয়, পৃথিবীটা তখন অনেক কোমল ছিল। মানুষের জীবনে গতি কম ছিল, কিন্তু শান্তি বেশি ছিল। সবকিছু এত দৃশ্যমান ছিল না। কার ঘরে কী হচ্ছে, কে কোথায় গেল, কে কী খেল—এসব জানার জন্য মানুষের অস্থিরতা ছিল না। ব্যক্তিগত জীবন মানে সত্যিই ব্যক্তিগত ছিল। অনুভূতিরও একটা গোপন সৌন্দর্য ছিল।

এখন পৃথিবী বদলে গেছে। আমাদের চারপাশে অসংখ্য অপশন, অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য সংযোগ—তবুও মানুষ আগের চেয়ে বেশি একা। কারণ সম্পর্ক আছে, কিন্তু গভীরতা কমে যাচ্ছে। প্রকাশ আছে, কিন্তু অনুভূতির স্থায়িত্ব নেই। হাসি আছে, কিন্তু প্রশান্তি নেই। মানুষ যেন ধীরে ধীরে মেশিনের মতো হয়ে যাচ্ছে—কার্যকর, দ্রুত, ব্যস্ত; কিন্তু ভেতরে কোথাও ভীষণ ক্লান্ত।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, এই ক্লান্তির বড় একটা অংশ তৈরি হচ্ছে স্ক্রিনের ভেতরে। আমরা সারাদিন অন্যের জীবন দেখি, তুলনা করি, প্রতিক্রিয়া দিই, অথচ নিজের ভেতরের মানুষটার সাথে কথা বলার সময় পাই না। দিন শেষে হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের নিঃসঙ্গতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তাই হয়তো এখন অনেক মানুষ আবার নীরবতার দিকে ফিরছে। কেউ পাহাড়ে যাচ্ছে, কেউ নদীর ধারে বসছে, কেউ গাছের ছায়ায় বই পড়ছে, কেউ ফোন বন্ধ রেখে নিজের সাথে সময় কাটাতে চাইছে। কারণ প্রকৃতির কাছে গেলে এখনও মনে হয়—জীবন আসলে এত জটিল নয়।

সূর্য এখনও ধীরে অস্ত যায়। ফুল এখনও সময় নিয়ে ফোটে। নদী এখনও ধীরে বয়ে চলে। পাখিরা এখনও ভোরে গান গায়। প্রকৃতি আজও তাড়াহুড়ো শেখেনি। অস্থিরতা শুধু মানুষের তৈরি।

হয়তো এ কারণেই মানুষ আবার ধীর জীবনের খোঁজ করছে। এমন একটা জীবনের, যেখানে কিছুটা নীরবতা থাকবে, কিছুটা অপেক্ষা থাকবে, কিছুটা নিজের ভেতরে ফিরে যাওয়ার সময় থাকবে।

কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কোলাহলে নয়, শান্তিতেই বাঁচতে চায়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজ্ঞানীরাও একেশ্বরবাদী হতে পারেন - আইজ্যাক নিউটন তা প্রমাণ করে গিয়েছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪০



প্রত্যেক মহান বিজ্ঞানীই নিজের জীবনে ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে গিয়েছেন। এমনটাই আমার বিশ্বাস ছিলো। সামুতে আমি এই নিয়ে আগেও লিখেছি। তারপরও, কয়েক দিন স্টাডি করার পরে বুঝতে পারলাম-... ...বাকিটুকু পড়ুন

মত প্রকাশের স্বাধীনতা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



আমাদের দেশের সাধারণ ও অসাধারণ জনগণ সহ সকল প্রকার সংবাদ মাধ্যম “মত প্রকাশের স্বাধীনতা”র জন্য প্রায় যুদ্ধ করছেন। মত প্রকাশের সামান্য নমুনাচিত্র হিসেবে একটি সংবাদের ভিডিও চিত্র তুলে ধরছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×