somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামের ইতিহাসে কিছু মহাপুরুষ তাঁদের জ্ঞান, সাধনা, নৈতিকতা ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত জীবনের মাধ্যমে যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন। হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) তাঁদেরই একজন। তিনি ছিলেন একজন আলেম, ফকিহ, শিক্ষক, খতিব ও সুফি সাধক। কাদেরিয়া তরিকার ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর নাম গভীরভাবে যুক্ত।

তাঁর জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল জ্ঞানচর্চা, শরিয়তের আনুগত্য, ইবাদত, আত্মসংযম ও নৈতিক চরিত্রকে একই ধারায় প্রতিষ্ঠা করা। তিনি আধ্যাত্মিকতার কথা বলেছেন, কিন্তু তা কখনো জ্ঞান ও শরিয়তের বিধান থেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—আত্মশুদ্ধি শুধু কথায় নয়, বরং আমল, চরিত্র ও মানুষের সঙ্গে আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়।

গিলান থেকে বাগদাদ: জ্ঞানসন্ধানের যাত্রা

হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর জন্ম ৪৭০ হিজরি/১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গিলান প্রদেশের নায়েফ গ্রামে বলে প্রচলিত। তাঁর পিতা আবু সালেহ মুসা এবং মাতা উম্মুল খায়ের ফাতিমা সম্পর্কে জীবনীগ্রন্থে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। শৈশবেই পিতাকে হারানোর পর তিনি মায়ের স্নেহ ও পরিবারের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন।

ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে জ্ঞানার্জনের গভীর আকাঙ্ক্ষা ছিল। সে সময় বাগদাদ ইসলামী বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ৪৮৮ হিজরি/১০৯৫ খ্রিস্টাব্দে, মায়ের অনুমতি নিয়ে তিনি একটি কাফেলার সঙ্গে বাগদাদের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

বাগদাদে পৌঁছে তিনি বিশিষ্ট আলেমদের কাছে হাদিস, ফিকহ, ভাষা ও সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। আবু গালিব ইবন বকিল্লানি, জাফর সাররাজ, আবু সাদ আল-মুখাররিমি এবং অন্যান্য বিদ্বানের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন। দীর্ঘ অধ্যয়ন ও সাধনার মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞানশাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য গড়ে ওঠে।

পরবর্তী সময়ে তিনি সুফি সাধক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করলেও তাঁর জীবনের ভিত্তি ছিল কঠোর জ্ঞানসাধনা ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

জ্ঞান থেকে আত্মশুদ্ধির পথে

বাগদাদে অবস্থানকালে আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) তাসাউফের সাধকদের সংস্পর্শে আসেন। আবু খায়র মুহাম্মদ ইবন মুসলিম আদ-দাব্বাসের মাধ্যমে তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি তিনি আত্মসংযম, মুজাহাদা ও অন্তরের পরিশুদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করেন।

তাঁর জীবন সম্পর্কে প্রচলিত বর্ণনায় দীর্ঘ নির্জনবাস ও কঠোর সাধনার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর কারামাত ও অলৌকিক ঘটনাবলি নিয়ে পরবর্তী যুগে রচিত সব বর্ণনাকে একই মাত্রায় ঐতিহাসিকভাবে নির্ভরযোগ্য বলা যায় না। তাই তাঁর জীবনের প্রামাণ্য ইতিহাস এবং পরবর্তী কিংবদন্তির মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।

তাঁর প্রকৃত মাহাত্ম্য বোঝার জন্য অলৌকিক কাহিনির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। তাঁর জ্ঞান, শিক্ষা, ইবাদত, চরিত্র, আত্মশুদ্ধির সাধনা এবং মানুষের ওপর তাঁর দাওয়াতি প্রভাবই তাঁর জীবনকে মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বাগদাদে শিক্ষা ও ওয়াজের প্রভাব

দীর্ঘ সাধনা ও নির্জনতার পর ১১২৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে তিনি বাগদাদে প্রকাশ্যভাবে শিক্ষা ও ওয়াজ শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর শ্রোতা ছিল সীমিত; কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁর বক্তব্যের প্রভাব বিস্তৃত হতে থাকে। তাঁর শিক্ষা ও বক্তৃতা শুনতে মানুষের সমাগম বাড়ে এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো অনেক সময় শ্রোতাদের তুলনায় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।

ঐতিহাসিক ও জীবনীগ্রন্থগুলোতে তাঁর ওয়াজের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শ্রোতার সংখ্যা সম্পর্কে প্রচলিত কিছু বর্ণনা ঐতিহ্যনির্ভর হওয়ায় সেগুলোকে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্যের শক্তি ছিল মানুষের অন্তরে পৌঁছানোর ক্ষমতা। তিনি ধর্মীয় বিধান ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি নফসের নিয়ন্ত্রণ, অহংকার, লোভ, দুনিয়ার মোহ, তওবা এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার বিষয় তুলে ধরতেন। তাঁর শিক্ষায় সতর্কতার পাশাপাশি আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা ও আস্থার বার্তাও ছিল।

তাসাউফ ও শরিয়তের সমন্বয়

হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক চিন্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাসাউফকে শরিয়ত থেকে বিচ্ছিন্ন না করা। তাঁর কাছে আত্মশুদ্ধি শুধু নির্জনে জিকির বা সাধনার বিষয় ছিল না; বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আল্লাহর বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলাই ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা, ইবাদত, আনুগত্য, আত্মসংযম, নৈতিকতা ও অন্তরের পরিশুদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষার মূল ভাবনা ছিল—মানুষকে আল্লাহর বিধান অনুসরণ করতে হবে এবং নিজের নফস ও চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত উপদেশসমূহে আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি ও ধর্মীয় বিধানের প্রতি নিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেখা যায়। এই শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ ধর্মীয় পরিচয় ধারণের চেয়ে সেই পরিচয়ের নৈতিক দায়িত্ব পালন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একজন আলেম, শিক্ষক ও ধর্মীয় সংস্কারক

আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-কে ‘মুহিউদ্দিন’ উপাধিতে অভিহিত করা হয়। তাঁর সময়ে তিনি হাম্বলি ফিকহের একজন প্রভাবশালী আলেম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর শিক্ষা ও বক্তব্যে আকিদা, ইবাদত, ফিকহ, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির সমন্বয় দেখা যায়।

তাঁর পরিচয়কে শুধু সুফি সাধকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে তাঁর জীবনের জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাদানের দিকটি আড়ালে থেকে যায়। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক ও ধর্মীয় বক্তা, যাঁর মাধ্যমে বহু মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা লাভ করে।

তাঁর উত্তরাধিকার পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে শুধু একটি আধ্যাত্মিক তরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তাঁর নাম ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি বিস্তৃত ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

কাদেরিয়া তরিকার বিস্তার

হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর নামের সঙ্গে কাদেরিয়া তরিকার সম্পর্ক গভীর। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর স্মৃতি, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে এই তরিকার বিস্তার ঘটে। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কাদেরিয়া ঐতিহ্যের প্রভাব দেখা যায়।

এই ঐতিহ্যের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল আল্লাহর স্মরণ, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, আনুগত্য এবং মানুষের কল্যাণ। তাই কাদেরিয়া তরিকার ইতিহাসকে শুধু একটি সাংগঠনিক সম্প্রসারণ হিসেবে নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাধারার বিকাশ হিসেবেও দেখা যায়।

তাঁর রচনাসম্ভার ও শিক্ষার উত্তরাধিকার

আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর নামে বহু গ্রন্থ প্রচলিত থাকলেও গবেষণায় দেখা যায়, পরবর্তী সময়ে তাঁর নামে বিভিন্ন রচনা আরোপিত হয়েছে। ফলে তাঁর রচনাসম্ভার সম্পর্কে আলোচনা করার সময় গ্রন্থের প্রামাণিকতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

আল-গুনইয়া লি-তালিবি তারিকিল হক

আল-ফাতহুর রব্বানি

ফুতুহুল গায়ব

এসব রচনায় আকিদা, ইবাদত, নৈতিকতা, তওবা, তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার মতো বিষয় আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ফুতুহুল গায়ব তাঁর আধ্যাত্মিক চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত পরিচিত সংকলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তাঁর শিক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল জটিল ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিষয়কে সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা। এর ফলে তাঁর বক্তব্য শিক্ষিত সমাজের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

কারামাতের বর্ণনার বাইরে তাঁর প্রকৃত শিক্ষা

হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-কে ঘিরে মুসলিম সমাজে অসংখ্য কারামাত ও অলৌকিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। এসব বর্ণনা তাঁর জনপ্রিয়তা ও আধ্যাত্মিক মর্যাদার সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত। তবে পরবর্তী সময়ে রচিত কিছু মাকামাতগ্রন্থের বিবরণের ঐতিহাসিক নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তাই তাঁর জীবনকে বুঝতে হলে কেবল বিস্ময়কর কাহিনির দিকে মনোযোগ না দিয়ে তাঁর শিক্ষা ও চরিত্রের দিকে তাকানো অধিক অর্থবহ। তিনি মানুষকে তওবা করতে, নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে, হালাল-হারামের সীমারেখা মানতে, শরিয়তের বিধান অনুসরণ করতে এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা এবং জীবনে নৈতিকতা ও আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠা করা।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: স্মরণ ও আত্মসমালোচনার উপলক্ষ

রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ নামে পরিচিত। ‘ইয়াজদাহম’ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। প্রচলিত সুফি ঐতিহ্যে এই দিনটি হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর ওফাতের স্মরণে পালিত হয়।

তাঁর ইন্তেকাল ৫৬১ হিজরি/১১৬৬ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে ব্যাপকভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে মতভেদ রয়েছে। প্রচলিত ঐতিহ্যে ১১ রবিউস সানি বিশেষভাবে অনুসৃত হলেও তারিখের ঐতিহাসিক নির্ভরতা নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমকে শুধু আনুষ্ঠানিক স্মরণদিবস হিসেবে নয়, আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি উপলক্ষ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। একজন নেককার মানুষের জীবন স্মরণ করার অর্থ তাঁর শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা।

আজকের পৃথিবীতে জিলানি (রহ.)-এর শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমান সময়ে মানুষের হাতে তথ্য ও প্রযুক্তির অভাব নেই; কিন্তু জ্ঞানকে চরিত্রে রূপ দেওয়া এবং আত্মসংযম বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যোগাযোগের সুযোগ বেড়েছে, অথচ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও নৈতিক দায়িত্ব সবসময় সমানভাবে বৃদ্ধি পায়নি।

এই বাস্তবতায় আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত উন্নতি শুধু বাহ্যিক সাফল্য বা জ্ঞানের পরিমাণে নয়, বরং চরিত্রের উৎকর্ষে নিহিত।

ইবাদত যদি মানুষের আচরণে বিনয়, সত্যবাদিতা ও দয়া সৃষ্টি না করে, জ্ঞান যদি অহংকার বাড়ায় এবং ধর্মীয় পরিচয় যদি অন্যের প্রতি কঠোরতা তৈরি করে, তবে আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্য এখনো পূর্ণতা পায়নি।

তাঁর জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, আত্মশুদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এতে জ্ঞান, আমল, আত্মসংযম, নৈতিকতা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত।

আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে স্মরণ

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর জীবন স্মরণ করার সময় আমরা নিজেদের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখতে পারি—

আমি কি উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের সীমা মেনে চলছি?

আমি কি কথাবার্তায় সত্যবাদী ও আমানতদার?

আমি কি অন্যের অধিকার রক্ষা করছি?

আমি কি নিজের অহংকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি?

আমি কি অন্যকে ক্ষমা করতে শিখছি?

আমার জ্ঞান ও ইবাদত কি আমার চরিত্রকে সুন্দর করছে?

আমি কি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখছি?

এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির পথে দিকনির্দেশ দিতে পারে। কারণ সাধনা শুধু নির্জনতার বিষয় নয়; মানুষের সঙ্গে আমাদের আচরণও সেই সাধনার বাস্তব পরীক্ষা।

হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ছিলেন জ্ঞান, শিক্ষা, আধ্যাত্মিক সাধনা ও নৈতিক চরিত্রের এক সমন্বিত প্রতিচ্ছবি। তাঁর জীবন আমাদের দেখায়, আধ্যাত্মিকতা কেবল আবেগ বা আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; এটি জ্ঞান, আমল, আত্মসংযম ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের পথ।

শতাব্দী পেরিয়ে তাঁর নাম আজও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। কেউ তাঁকে ‘গাউসুল আজম’ নামে স্মরণ করেন, কেউ ‘মুহিউদ্দিন’ নামে, আবার কেউ কাদেরিয়া তরিকার পীর হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। এসব সম্মানসূচক পরিচয়ের পাশাপাশি ইতিহাসে তিনি একজন জ্ঞানসাধক, শিক্ষক, প্রভাবশালী বক্তা এবং আত্মশুদ্ধির আহ্বানকারী হিসেবে পরিচিত।

তাঁকে স্মরণ করার সবচেয়ে মূল্যবান উপায় হতে পারে তাঁর শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে ধারণ করা—জ্ঞানকে আমলে পরিণত করা, আমলকে চরিত্রে রূপ দেওয়া এবং চরিত্রের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অগ্রসর হওয়া।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেককার বান্দাদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার, নিজেদের নফসকে পরিশুদ্ধ করার এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সুন্দর জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন।

আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×