বাংলাদেশে ফুটবল একটা লস প্রোজেক্টের নাম । সারা বিশ্বে যে স্পোর্টসটি যুগ যুগ ধরে মানুষের প্রাণ কেন্দ্রে স্থান করে নিয়েছে ।"হাজার হাজার "কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যেখানে চলছে "লাখ লাখ"কোটি আয়ের চিন্তা ।সেখানে খেলাটা আমাদের দেশে হলেই হয়ে যাচ্ছে লস প্রজেক্ট !
অবস্থাতো এরকম হয়েছে- জাতীয় দলের কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্পন্সারের জন্য রিতিমত ঘাম ঝরাতে হয় কর্তৃপক্ষকে !নূন্যতম স্পন্সার পেতেও করতে হয় অনেক রকম হিসাব নিকাশ ।একসেট জার্সি দিয়েই পার করতে হয় গোটা মৌসুম অথবা তারও বেশি ।তখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বপ্নের ম্যাচ শেষে নিজের জার্সিতে নাম লেখা না থাকায় জার্সিবদলের স্বপ্নকে গুড়োবালি দিতে হয় মামুনুলদের । আবার এই প্রেক্ষাপট যখন দেশের প্রিমিয়ার লীগ- হাল তখন আরো নাজুক ।বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ থেকে অনলি ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ এটি হয়ে আছে সেই অনেক আগে থেকেই ।কর্তৃপক্ষের তাতেই সন্তুষ্টি- অন্তত হয়েছে তো! অবশেষে কখনো ব্যাংক থেকে কোটি টাকার লোন করে অথবা ফিফার অনুদানের কোন অংশে চলে যায় একটা মৌসুম ।। এতকিছুর পরও যদি দর্শক আসত মাঠে- হয়ত প্রাণ ফিরে পেত ,হারানো জৌলুষ ফিরে পেত ফুটবল ।কিন্তু সে আশায় গুড়োবালি ।আপেক্ষিক হাই ভোল্টেজ ম্যাচে যাও নূন্যতম দু-চারজন দেখা যায় তা সর্বসাকুল্যে ৫০ ছাড়াবে কিনা সন্দেহ!
মাঠের বাইরের যখন এই হাল ,মাঠের খেলার কি অবস্থা তা কি বলে দেওয়া লাগে ।প্রিমিয়ারের খেলা দেখলে বুঝার উপায় নেই এরা কি খেলছে- ফুটবল নাকি কাবাডি! কাবাডিই হবে হয়ত- না হলে সবাই একজায়গায় জটলা পাকিয়ে কি করে ওরা ওখানে ।স্রেফ কাদা ছোড়াছুড়ি ।
অথচ আশির দশকের সেই রমরমা ফুটবল এই দেশেই চলতো ।চায়ের কাপের ঝড় তুলতো আবাহনী-মোহামেডান সমর্থকরা । এই দুইদলের খেলা হলে তো কোন কথাই নাই- দিনভর যুদ্ধ ।সে যুদ্ধ আনন্দের যুদ্ধ ,হৃদয়ের স্পন্দন হাওয়া তোলা যুদ্ধ ।বিকাল ৫ টার ম্যাচ দেখার জন্য হাজার হাজার সমর্থক সকাল ১০ টায় টিকিট কেনার লাইনে দাড়াতে ।সোনার হরিণ সেই টিকিট যে পেত সে যেন ছিল ঈদের চেয়ে বেশি খুশি !! ফুটবলের সেই জৌলুষ আজ কোথায় হারিয়ে গেল ।আর কি কভু ফিরে পাবে সে তার হারানো যৌবন ??
উত্তরটা কারো জানে নাই ।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর সভাপতি কাজি সালিউদ্দীন ।আশির দশকে মাঠ কাঁপানো সেই তাঁরকা রাজির মধ্যে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ইনি ।টানা তৃতীয় মেয়াদে সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন ।দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা (সাফ) এর সভাপতিও তিনি ।আছেন অনেকদিন যাবত । উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তরটা তাই তার জানা থাকার কথা ।তিনি এখানে সবাক অথচ নির্বিকার ।নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে তিনি আজো ব্যর্থ ।ফাইনাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই কিছুদিন আগেই তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি ।
দেশের কোটি ফুটবলি প্রেমির শতকোটি প্রশ্ন জমা পরে আছে তার কাছে ।কিছু সদত্তোর আশায় ।তিনি হয়ত পারবেন ।ব্যর্থতার জাল থেকে বেড়িয়ে আসবেন বেড় করে আনবেন গোটা জাতিটাকে ।ফুটবল ফিরে পাবে তার প্রাণ ,সেই জৌলুষ আর ঘুনে ধরা যৌবনকে রেখে যাবে পিছনে ফেলে ।।
আশায় বুক বাঁধতেই পারি আমরা ।
=============================================
নিয়মিত ফুটবলের খোজ রাখেন যারা তারা এতক্ষণে সামুতে আমার এই পোস্টের হেতু বের করে ফেলেছন ।।তারা আমাকে ভাবছেন- আমি ইউরোপ আর আমেরিকার রমরমা ফুটবলকে নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাতামাতিকে অবঞ্জা করতে আমার এই লেখা ।তার ভাবছেন- আগামী ৩ তারিখে শুরু হতে যাওয়া "কোপা আমেরিকা"কে উদ্দেশ্য করেই আমার এই লেখা ।
অথচ এই বোদ্ধা সমাজ জানেনই না- আগামীকালকে তাজিকিস্তানের দুশানবে বাংলাদেশ দল এশিয়াকাপ বাছাইয়ের প্লে অফের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামতে যাচ্ছে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ।ইউরোপ আমেরিকার হাই কোয়ালিটির ফুটবল দেখে আমরা বিনোদিত হই ।তাই বলে দেশের ফুটবলকে সময় দেওয়ার মত নূন্যতম সময়টুকুনও নেই আমাদের???!!!!!!!!! আফসোস হয় ,আমরা দেশকে ভালবাসে গলাবাজি করি ।
পশেঃ সত্যি অর্থেই দেশের ফুটবল একটা লস প্রোজেক্ট ।এর আরো একবার প্রমাণ পেয়েছিনু আমি- সামুতে আমার সবচেয়ে ফ্লপ করা পোস্টটিও যে দেশের ফুটবলকে নিয়ে!!!!!!!এই পোস্টটা দেওয়ারও তাই ইচ্ছে ছিলনা ।কিন্তু আমি নিজে তো একটা হিট না- এটা ভেবেই আরো একটা ফ্লপ পোস্ট দিলাম ।
সামুর বাঘা বাঘা ব্লগাররা তো আর এই লস পোজেক্ট নিয়ে লিখতে আসবেনা ।তাই আমাদেরকেই লিখতে হবে ।
হাজার হাজার
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



