somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণজাগরণমঞ্চই গণমানুষের সরকার

০৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত দেড় দুই বছর ধরে আমি একটি গণজাগরণের স্বপ্ন দেখছিলাম। বছরখানেক যাবত আমার সহকর্মীদের বলছিলাম, ভিড়ের ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসবে নতুন নেতৃত্ব। যারা ঘুনে ধরা, পঁচে যাওয়া, নৈতিকতা বিবর্জিত, পরশ্রীকাতর, সার্থান্বেষী এবং দূর্ণীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত রাজনীতির রাহু থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে একুশের ভাষা আন্দোলন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় গড়ে তুলবে নতুন বাংলাদেশ। সেই দূরাগত আলোকোজ্জ্বল নেতৃত্বের আলোর ছটা আমি স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছিলাম।

ফেইসবুকে আমার এই রকম স্বপ্নবিলাসী একটি স্ট্যাটাস দেখে দারফুর থেকে সহকর্মী জহিরুল ইসলাম কিছুটা খোঁচা মেরে মন্তব্য লিখেছিলেন, ‘টিকেট কি কেটে ফেলেছেন?’ বছরখানেক আগে আ.স.ম. আব্দুর রব নিউইয়র্কে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। রব ভাইকে নিয়ে বসেছিলাম ম্যানহাটনের একটি রেস্টুরেন্টে। সাথে ছিলেন তার ছেলে রাতুল । রব ভাইকেও আমি আমার সেই স্বপ্নের কথা বলি। তিনি আমার সাথে একমত পোষণ করে বলেছিলেন, ‘একটি শক্তিশালী আন্ডার কারেন্ট তৈরী হয়ে আছে। এটাকে উস্কে দিতে হবে।’ তিনি তার মতো করে একটি রাজনৈতিক রূপরেখাও তাৎক্ষণিকভাবে তৈরী করেন। বড় দুই দল গত দুই দশকে পরস্পরের প্রতি ক্রমাগত বিষোধগার করে, প্রশাসনকে নির্বিচারে দলীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রকে পরিবারতন্ত্রের যাঁতাকালে পিষে আমাদের রক্তার্জিত গণতন্ত্রকে প্রায় মেরে ফেলেছে। এই মৃতপ্রায় গণতন্ত্রকে পূনরুদ্ধার কার জন্য এবং নতুন সহস্রাব্দের হাজারো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে পরিচালিত কার জন্য প্রথাগত এবং ইতিহাস নির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পরমতসহিষ্ণু, বিজ্ঞান নির্ভর এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব। বেশ কিছুদিন ধরেই বিজ্ঞজনেরা এই নতুন নেতৃত্বকে ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসাবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছেন। প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদের নেতৃত্বে একটি নাগরিক কমিটি দাঁড় করাবার প্রয়াস আমরা দেখেছি। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে বৈদেশিক শক্তিগুলোর কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করার জন্য দেশপ্রেমিক আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে ‘তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি’ গড়ে উঠেছে। এই আন্দোলনটিও আরো বেগবান হয়ে কাঙ্খিত নতুন নেতৃত্বে রূপ নিতে পারতো। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না একটি নাগরিক ঐক্য পরিষদ গঠন করেন সাত/আট মাস আগে, রব ভাইয়ের সাথে আমার আলোচনার কিছুদিন পরেই। আমি ঠিক জানিনা এটি তার পরামর্শেই হয়েছে কিনা। তবে আমি রব ভাইকে বলেছিলাম, নতুন প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যে নতুন শক্তির জাগরণ হবে সেখানে থাকতে হবে সকল পেশার, সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ। সংস্কৃতি কর্মী এবং সংবাদ কর্মীদেরও এর সঙ্গে সম্প্ক্তৃ করতে হবে।

সংস্কৃতিকর্মীরা এই কাঙ্খিত গণজাগরণ তৈরীতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনে আমরা ট্রাক ভাড়া করে ভ্রাম্যমান জাগরণ মঞ্চ তৈরী করবো। সেখানে সংস্কৃতি কর্মীরা এক নতুন জাগরণের সপক্ষে জনমত তৈরী করার জন্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রচারিত গানগুলির মতো গান করবে, পথনাটক করবে। এইভাবে দেশব্যাপী একটা গণজাগরণ তৈরী করা যাবে। ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকীদের প্রায়শই আমরা এক মঞ্চে দেখি। হয়ত তারাও একটি ভিন্নধর্মী জোট গঠনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু এর কোনোটাই তেমন কোন শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াচ্ছে না। এর মূল কারণ হয়ত তাদের প্রায় সকলের গায়েই প্রথাগত পচা রাজনীতির দূর্গন্ধ লেগে আছে। তাদের মধ্যে তারুণ্যের উন্মাদনা নেই। তারা বৃহৎ শক্তিগুলোকে ভয় পান। আমাদের প্রত্যাশা কেবল সেই নেতৃত্ব পূরণ করতে পারে যাদের মধ্যে উপরোক্ত সীমাবদ্ধতাগুলো নেই। তবেই কেবল একটি গণজাগরণ তৈরী হতে পারে।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে খুব বড় ধরণের গণজাগরণ প্রতি প্রজন্মে একবারই হয়। ১৯৫২ সালে যে প্রজন্ম ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে তারা বাংলাদেশের ভাষাপ্রজন্ম। ১৯ বছর পরে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছে তার পরের প্রজন্ম।এরা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম। এই প্রজন্ম আমাদেরকে দিয়েছে মহান স্বাধীনতা, রক্তের বৃত্তখচিত আমাদের প্রাণের পতাকা। এই প্রজন্ম কিন্তু আমাদের গণতন্ত্র দিতে পারেনি। বাকশাল গঠনের মধ্য দিয়ে মানুষের বাক-স্বাধীনতা তথা গণতন্ত্র হরণ, ১৯৭৫ সালে সপরিবারে সরকারপ্রধান খুন, ১৯৮১ সালে আবারো রাষ্ট্রপতি হত্যা। দেশে সামরিক শাসন জারি। এইসব ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম কিন্তু আর জেগে ওঠেনি। কারণ এক প্রজন্ম একবারের বেশী জেগে উঠতে পারে না। আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি কিন্তু গণতন্ত্র পাইনি। গণতন্ত্র পাওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে আবারো ১৯ বছর। ঠিক ১৯ বছর পর নতুন প্রজন্ম ১৯৯০ সালে গণতন্ত্রের দাবীতে ফুসে উঠেছে। স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্খিত গণতন্ত্র। এরা আমাদের গণতন্ত্র প্রজন্ম।

অল্প কিছুকাল যাওয়ার পরেই আমরা টের পাই, ১৯৯০ এ নূর হোসেন, ডাক্তার মিলনের রক্তে রঞ্জিত যে গণতন্ত্র আমরা পেয়েছি, তা ক্রমশই হয়ে উঠেছে গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। গণতন্ত্রের মোড়কে প্রকৃতপক্ষে পালাক্রমে বাংলাদেশ শাসন করছে দুটি পরিবার। দুটি রাজপরিবার। ক্রমশ এই দুই পরিবার এতোটাই দাম্ভিক হয়ে উঠেছে যে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারী/ কর্মকর্তা এবং মন্ত্রী/ এমপিদের তারা মনে করেন তাদের ব্যক্তিগত/পারিবারিক দাসানুদাস। এই ক্ষমতা তাদেরকে দিয়েছে সংবিধানের ৭০ ধারা। ৭০ ধারা অনুযায়ী কোন সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন না। যদি কেউ তা করেন তাহলে তিনি সংসদ সদস্যপদ হারাবেন। শুধু তাই নয়, কেউ যদি কোন কারণে দলের সদস্যপদ হারান তাহলে তার সংসদ সদস্যপদও বাতিল হয়ে যাবে। একজন জনপ্রতিনিধি এক/দেড় লক্ষ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন। কোন এক স্বেচ্ছাচারী দলীয় প্রধান কোন অজুহাতে যদি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন, তাহলে বহিস্কৃত সদস্য সংসদ সদস্যপদও হারাবেন। কি ঠুনকো সংসদ সদস্যপদ, কি হাস্যকর আইন। গণমানুষের ভোটের কি নির্মম অবমাননা। তাই এক দলের ১০০, ২০০ কিংবা যত সংখ্যক এমপিই সংসদে থাকুন না কেন, প্রকৃত পক্ষে একটি দলের একটিই কণ্ঠ, দলের প্রধান যা বলবেন, অন্যদের দায়িত্ব হলো শুধু জ্বী হুজুর করা। না হুজুর বললেই সংসদ সদস্যপদ বাতিল। অবিলম্বে এই ধারা বাতিল করা প্রয়োজন। এই ধারা বাতিল না হলে দলের মধ্যে কোনদিনও গণতন্ত্র আসবে না। ৭০ ধারা বাতিলের পাশাপাশি একটি ধারা সংযোজন করা প্রয়োজন। কোন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার সরকার প্রধান হতে পারবেন। এই ধারা সংযোজিত হলে গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ তৈরী হবে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে দুই রাজপরিবারের দু’একজন জ্ঞাতির সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তাদের এতোটাই উঁচু নাসিকা, এইসব দূরাত্মীয়রা পর্যন্ত মন্ত্রী/ সচিবদের ভৃত্যবৎ জ্ঞান করেন। বাংলাদেশের মানুষ এসব দেখেন এবং বোঝেন কিন্তু এর বিরুদ্ধে জেগে ওঠার জন্য যে শক্তি থাকা দরকার তা গণতন্ত্র প্রজন্মের নেই। তাই আমাদেরকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয়েছে পরবর্তি প্রজন্মের জন্য। এবারের অপেক্ষা ২২ বছরের। মানুষের আয়ু বেড়েছে। প্রজন্মেরও বয়সও বেড়েছে। তাই অপেক্ষার দৈর্ঘ্যও এবার তিন বছর বেশী।

২০১৩ সালের দ্বিতীয় মাসেই কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবী নিয়ে ফুসে ওঠে নতুন প্রজন্ম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দলের রাজনীতি রাজনীতি খেলার বিরুদ্ধেই তরুণদের এই অবস্থান। অতি দ্রুত সারা দেশের মানুষ তরুণদের এই জাগরণকে স্বাগত জানায়। এই গণজাগরণকে সমর্থন জানিয়ে তৃতীয় দিনের মাথায় আমি একটি গান লিখি। আমি নিশ্চিত এই সেই নেতৃত্ব, এই সেই প্রজন্ম, যাদের জন্য আমরা এতোকাল অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছি। টেলিভিশনের টক শোগুলোতে দেখি আমাদের বুদ্ধিজীবীরা জেগে ওঠা তারুণ্যের এই শক্তিকে ‘তৃতীয় শক্তি’ বলে অভিহিত করার চেষ্টা করছেন। আমি বলি, এটিই ‘প্রথম শক্তি'’। এই শক্তিই রুখে দেবে সকল অপশক্তিকে। কিন্তু আন্দোলনের বেশ কিছুদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন ওরা ওই একটি দাবীতেই অনড়। তখন আমি হতাশ হই। এই প্রজন্মের কাছে আমাদের দাবী গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার, পরিবারতন্ত্রের বিদায়ঘন্টা, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, দেশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সোপানে এনে দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয়, দূর্ণীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা। কেবল প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মধ্য দিয়েই আমরা এই সমস্যাগুলো দূর করতে পারি। আন্দোলনের চতুর্থ দিন, ফেব্রুয়ারীর ৮ তারিখে, গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে আমি একটি গদ্য লিখি। সেই লেখায় আমি আমার প্রত্যাশার কথা তাদের জানাতে চেষ্টা করি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে আমি ততই হতাশ হয়ে পরছি, কিছুটা শঙ্কিতও হচ্ছি, যখন দেখি দেশ ক্রমশ একটি গৃহযুদ্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আস্তিক-নাস্তিকের লড়াইটা কেমন যেন অশুভ দানবের মতো আমাদের সকল অর্জন, আমাদের সুদীর্ঘ স্বপ্নের প্রাসাদটিকে ভেঙে গুড়িয়ে দেবার জন্য থাবা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

এক পর্যায়ে দেখি, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ইমরান সরকার ঘোষণা করেন, সংবিধান সংশোধন করতে হবে। দ্রুত সংসদ বসে, সংবিধান সংশোধন হয়ে যায়। তিনি সরকার প্রধানের মতো বলেন, সবাই রাজপথে নেমে এসে তিন মিনিট নিরবতা পালন করুন। সকল মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারী কর্মচারী, পুলিশের সকল অফিসার, সিপাই রাজপথে নেমে আসেন, পালন করেন তিন মিনিট নিরবতা। তিনি হুকুম দেন, সকল সরকারী, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উড়বে, র্নিধারিত সময়ে সর্বত্র জাতীয় পতাকা উড়তে থাকে। আমি থমকে দাঁড়াই। বিজ্ঞজনেরা বলতে শুরু করেন, কে এই ইমরান সরকার? হুকুম দিচ্ছেন সরকার প্রধানের মতো আর প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা/ কর্মচারী, মন্ত্রী/ সাংসদ. এমনকি প্রধানমন্ত্রী সেই হুকুম পালন করছেন অক্ষরে অক্ষরে। সরকারব্যবস্থা যখন ভেঙে পরে, তখন গণমানুষের অংশগ্রহনে গড়ে ওঠে বিকল্প সরকার। গণজাগরণ মঞ্চ এখন সেই বিকল্প সরকার। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর সেই সরকারের রাজধানী এবং ইমরান সরকার সেই সরকারের প্রধান নির্বাহী । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে যেদিন ঘোষণা করলেন, গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিটি শব্দের সাথে তিনি একমত, কার্যত তখনি সরকার ভেঙে পড়ে এবং বিকল্প সরকার কার্যকর হয়ে যায়। বিরোধীদলীয় নেত্রী সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে এসে ১ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করনে। তিনি প্রজন্ম চত্বরে প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত না করে প্রথাগত সরকারের প্রতিই তার সমর্থন ব্যক্ত করলেন। কারণ এই প্রথাগত রাজনীতির তিনিও একজন সুবিধাভোগী, এই ব্যবস্থা টিকে থাকলে তিনি ভবিষ্যতে আবারো ক্ষমতায় আসতে পারবেন।

ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারো কোন ধর্মের প্রতি আনুগত্য না থাকাটাও তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। একজন মানুষ আস্তিক বা নাস্তিক তাতে রাষ্ট্রের কিছু যায়-আসে না। কিন্তু অন্যের বিশ্বাসকে আঘাত করার অধিকার কারো নেই। এটাই সভ্যতা, এটাই সভ্য সমাজের গণতন্ত্র। কিছু কিছু তরুণ ব্লগে ইসলাম ধর্ম এবং আল্লাহ ও রাসুল (স) কে নিয়ে কুরুচীপূর্ণ লেখালেখি করেছেন। নিহত ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার তাদেরই একজন। সেই রাজীবের লাশকে প্রজন্ম চত্বরের বিকল্প সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়াতে এই সরকারের প্রতি শুরুতেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। এটি পূনঃস্থাপনের জন্য প্রজন্ম চত্বর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই চেষ্টাটি যেন প্রথাগত রাজনীতির মতো কোন ধরণের নাটক না হয়, যেন এই চেষ্টাটি হয় আন্তরিক। প্রজন্ম চত্বরকে দাঁড়াতে হবে সত্যের মতো মজবুত ভিত্তির ওপর।

মার্চের ১ তারিখ পর্যন্ত আমি হতাশ ছিলাম। প্রজন্ম চত্বরের দিকে সারাক্ষণ কান পেতে রাখি কখন আসবে সেই ঘোষণা, 'আমরা এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো, মানুষের ভাগ্য নিয়ে, মানুষের বিশ্বাস নিয়ে, আর নয় প্রতারণা। আর নয় কলুষিত রাজনীতি। আমরা গড়ে তুলবো দূর্ণীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।' ২ তারিখ সকালে এক মেধাবী তরুণ, নাট্য নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রজন্ম চত্বরে দাঁড়িয়ে বলেন. ‘যুদ্ধাপারধীর বিচার দিয়ে শুরু, অন্য বিষয়গুলোও আসবে, তরুণ প্রজন্ম ছাড়বে না।’ এই ঘোষণাটির জন্যইতো আমি অধীর অপেক্ষায় আছি। গণজাগরণ মঞ্চ এখন আর শুধু তরুণ প্রজন্মের মঞ্চ নয়। এটি এখন ষোল কোটি মানুষের মঞ্চ। এই মঞ্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু এই পবিত্র মঞ্চে উঠতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, দূর্ণীতিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে। কারো গায়ে যদি প্রথাগত পচা রাজনীতির নোংরা জামা থাকে, দয়া করে সেই জামাটি গা থেকে খুলে এই পবিত্র মঞ্চে উঠবেন। প্রজন্ম চত্তরের আর পিছন ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। যদি তারা রণে ভঙ্গ দেয়, তা হবে ষোল কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। এই মহাজাগরণের মধ্য দিয়ে যদি আমরা শুদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করতে না পারি তাহলে মস্ত বড় এক ভুল করে ফেলবো, যে ভুল শোধরানোর জন্য হয়ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো এক প্রজন্ম।

২ মার্চ, ২০১৩
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:৫৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×