somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওয়াট সাকেত বা সোনার পাহাড়, ছবি ব্লগ

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যাংককের আকাশ ছোয়ার চেষ্টায় ওয়াত সাকেত বা গোল্ডেন মাউন্ট
পুর্ব ব্যাংককের ঐতিহাসিক এলাকার একটি অন্যতম আকর্ষন ওয়াট সাকেত যা গোল্ডেন মাউন্ট টেম্পল নামে পরিচিত। সবুজ বনানী ঘেরা কৃত্রিম পাহাড়ের উপর নির্মিত ওয়াট সাকেতকে দেখতে পুন্যার্থী ছাড়াও বিদেশী পর্যটকরাও আসে নিয়মিত। এক ব্যতিক্রমী নকশায় নির্মিত লোহা প্রাসাত আর বিশাল দোলনা-ওয়ালা ওয়াত সুথাত থেকে ৫ মিনিটের হাটা পথ এই ওয়াত সাকেত এই তিনটি স্থাপনা যা আপনি একদিনেই দেখে নিতে পারবেন।

সিড়ির পাশে পাথরের উপর ওয়াত সাকেত যা গোল্ডেন মাউন্ট এর নাম লেখা


মাথাপিছু ৫০ বাথ টিকিট কেটে সিড়ির গোড়ায় এসে দম নিলাম। ৩৪৪ টা সিড়ির ধাপ পেরিয়ে পৌছাতে হবে গোল্ডেন মাউন্টের চুড়ায়। মাটি থেকে ৮৮ মিটার উচু চুড়াটি ছিল শতাব্দী জুড়ে ব্যংককের আকাশসীমায় সর্বোচ্চ পয়েন্ট। সাম্প্রতিককালে দুটো বিল্ডিং তাঁর এই গৌরবকে ক্ষুন্ন করেছে একটি কিং পাওয়ার মহানাখন আরেকটি আইকন সিয়াম।

ডান দিকে ব্যাতিক্রমী নকশার কিং পাওয়ার মহানাখন ব্যাংককের আকাশ ছুয়ে আছে

৩৪৪ টা সিড়ির ধাপ পেরিয়ে পৌছাতে হবে গোল্ডেন মাউন্ট এর চুড়ায়

যাই হোক দম নিয়ে সিড়ির দিকে পা বাড়াতেই ডান দিকে পাথরের গায়ে লেখা সিড়ির সংখ্যা আর তাঁর উপরে তিনটি বিখ্যাত বাঁঁদর যা কানে শোনে না, চোখে দেখে না, মুখে বলে না । এক পা এক পা করে আমি একাই উঠছি, আমার সহ পর্যটক উঠবেন্না কারন এত সিড়ি বাইতে তাঁর কষ্ট হয়।

লতানো গাছে ছাওয়া সিড়ি দিয়ে উঠে যাচ্ছি মন্দির চুড়ায়

সিড়ির দুধারে নানা রকম মুর্তি তারই একটি ব্রোঞ্জের এই পৌরানিক ড্রাগন

নীচে পুরোনো ব্যংকক শহর

পাহাড়ের গায়ে ব্রোঞ্জে খোদাই করা ওয়াত সাকেত

মাঝে মাঝে থেমে ছবি তুলছি সেই আয়ুথিয়া আমলে তৈরি প্রাচীন মন্দি্র। তবে পরবর্তীতে চক্রী বংশের রাজা প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম রামার হাত ধরে এর প্রভুত সংস্কার হয়েছিল। বেড়েছিল উচ্চতা যা ৮৮ মিটার। থাই ঐতিহ্যবাহী নকশায় নির্মিত ওয়াট সাকেত কিন্ত কৃত্রিম পাহাড়ের উপর যা বহুদুর থেকেও দেখা যায়। শ্রীলংকা থেকে আনা গৌতম বুদ্ধের কিছু নিদর্শন এখানে রয়েছে যেমন হাড়, চুল দাত ।

এই ঘন্টায় শব্দ করলে তা সৌভাগ্যশালী হবে বাজনাদারের জন্য

উপরে উঠছি আর টুং টাং ঘন্টার ধ্বনি কানে আসছে । সেই শব্দ অনুসরন করে উঠে যাচ্ছি লাল চওড়া চওড়া ঘোরানো সিড়ি বেয়ে যার জন্য এতগুলো ধাপ পেরোতে কষ্ট হয়নি। ৩১৮ নম্বর সিড়ির সাথে আছে একটি কাফে যেখানে এক কাপ কফি খেয়ে পরের ধাপ গুলো ওঠার শক্তি জোগাড় করতে পারেন। এছাড়াও আছে পথের পাশে মজার মজার কিছু মুর্তি আর বড় বড় ঘন্টা যা বাজ্বালে বাজনাদারের জন্য নাকি সৌভাগ্য নিয়ে আসে।

অশথ গাছের নীচে ছোট্ট বুদ্ধের মুর্তি রয়েছে গোটা কয়েক

শায়িত বুদ্ধ, বুদ্ধধর্মীরা বিশ্বাস করে এটা তাঁর মৃত্যুশয্যা

সেই ঘন্টা বাজিয়ে ছবি তুলতে তুলতে অবশেষে মুল মন্দিরে হাজির হোলাম যেখানে শায়িত আছেন গৌতম বুদ্ধ । মাথার দিকে রয়েছে অশোক গাছ যার নীচে ধ্যান করে গৌতম বোধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন, এই জন্য অশোক গাছ বুদ্ধদের কাছে পুজনীয়।

ছোট ছোট ঘন্টা যা বাতাসের ঘায়ে অবিরাম টুং টুং করে বেজেই চলেছে,

মুল মন্দিরের চারিদিকের কার্নিশে ঝোলানো রয়েছে ছোট ছোট ঘন্টা যা বাতাসের ঘায়ে অবিরল টুং টুং করে বেজেই চলেছে, সেই সুর চারিদিকে ছড়িয়ে পরছে এক মিহি কাপন তুলে যা আমাদের হৃদয়ের তন্ত্রীতেও ঘা দিয়ে যাচ্ছে।

রাতের বেলা আলোকজ্জ্বল হয়ে ওঠে এই স্বর্ন মন্দির, আর নীচে ঝোলানো অশথ পাতায় মনের ইচ্ছা পুরনের জন্য লেখা

উপরে যে বিশাল চত্বর সেখানে অনেকে বড় বড় শিলাপাথরে খোদাই করা বুদ্ধের বানী পড়ছে কেউ বা নীরবে প্রার্থনা করছে আর কেউ কেউ শুধুই বসে বসে পাশেই ছাওপ্রায়া নদী থেকে হু হু করে ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাসে প্রান জুড়িয়ে নিচ্ছে সেই সাথে চারিদিকের দৃশ উপভোগ করছে। আমি ছিলাম শেষের দলে।

উপরের খোলা চত্বরে

বুদ্ধ ধর্মের কোন পৌরানিক চরিত্র নাম জানিনা

প্রার্থনারত একটি মেয়ে

পাহাড় চুড়োয় ওয়াত সাকেতের আংগিনায়

লাল রঙের চওড়া চওড়া ঘোরানো সিড়ি ধীরে ধীরে নেমে আসি মাটিতে

আফগানিস্তানের বিখ্যাত বামিয়ান গুহা যা তালেবানদের হাতে ধ্বংস হয়েছিল তারই একটি মডেল তারা বানিয়ে রেখেছে

কোন এক প্রাচীন মন্দিরের আর্চওয়ের সামনে ব্লগ লেখিকা

সব ছবি আমার তোলা, মহানাখন বিল্ডিং নেট আর শুধু শেষেরটা সহপর্যটক তুলেছে :)
ভাবছি থাইল্যান্ড ভ্রমন নিয়ে একটা বই লিখবো যাতে থাকবে সব খুটিনাটি ঘুরঘুর
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:০৮
৪০টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার কথা : তৃতীয় পর্বের পর

লিখেছেন সুম১৪৩২, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩০



“আসলে উনি কে…?”
এই শিরোনামের একটি লেখা দিয়েই আমার লেখালেখির শুরু।
সামুতে।
এটার পর, আমি এই গল্পের কয়েকটা পর্ব লিখেছিলাম। মোট তিনটি । শেষ পর্বটির নাম ছিল—“পশ্চিম পাড়ার পথে”।

গল্পটার সময়কাল ১৯৯০ সাল।
রহস্য আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধ ভাঙার আওয়াজ আজ আর কেন আ্ওয়াজ করছেনা ?

লিখেছেন সূচরিতা সেন, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩০



সত্যি করে বলছি মাঝে মাঝে ভাবি এটা কি সেই বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ? একটা সময় যে বাঁধ ভাঙা আওয়াজের
একটাই পরিচয় ছিল,বিশ্বের সব থেকে বড় বাঙলা ভাষীর ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৯



মুনা, আজ ঢাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম।
যদিও অনেকের কাছে এই শীত টুকুই অনেক শীত। আমার আবার শীত কম। তুমি শুনলে অবাক হবে এই শীতে আমি পাতলা একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান - বাংলাদেশ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০

ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একেবারে উথাল পাথাল অবস্থা। যেকোন সময়ে সরকার পতন হয়ে যেতে পারে।
এর আগে কয়েক বছর আগেও এমনটা হয়েছিল, হিজাব ইস্যু নিয়ে লোকজন সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শীতার্ত একটি শিশু ও দুটি কুকুর

লিখেছেন ইসিয়াক, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩২


রাত বাড়ে যত তাপমাত্রা নামে তত,
পা ফাটে, ঠোঁট ফাটে গভীর হয় ক্ষত।

একটা শিশু কাঁপছে শীতে ছাতিম গাছটার নীচে।
দুটো কুকুর গা ঘেঁষাঘেসি করে তাকে ছুঁয়ে আছে।

শীতার্ত সবাই তারা,সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×