
পুর্ব ব্যাংককের ঐতিহাসিক এলাকার একটি অন্যতম আকর্ষন ওয়াট সাকেত যা গোল্ডেন মাউন্ট টেম্পল নামে পরিচিত। সবুজ বনানী ঘেরা কৃত্রিম পাহাড়ের উপর নির্মিত ওয়াট সাকেতকে দেখতে পুন্যার্থী ছাড়াও বিদেশী পর্যটকরাও আসে নিয়মিত। এক ব্যতিক্রমী নকশায় নির্মিত লোহা প্রাসাত আর বিশাল দোলনা-ওয়ালা ওয়াত সুথাত থেকে ৫ মিনিটের হাটা পথ এই ওয়াত সাকেত এই তিনটি স্থাপনা যা আপনি একদিনেই দেখে নিতে পারবেন।

মাথাপিছু ৫০ বাথ টিকিট কেটে সিড়ির গোড়ায় এসে দম নিলাম। ৩৪৪ টা সিড়ির ধাপ পেরিয়ে পৌছাতে হবে গোল্ডেন মাউন্টের চুড়ায়। মাটি থেকে ৮৮ মিটার উচু চুড়াটি ছিল শতাব্দী জুড়ে ব্যংককের আকাশসীমায় সর্বোচ্চ পয়েন্ট। সাম্প্রতিককালে দুটো বিল্ডিং তাঁর এই গৌরবকে ক্ষুন্ন করেছে একটি কিং পাওয়ার মহানাখন আরেকটি আইকন সিয়াম।


যাই হোক দম নিয়ে সিড়ির দিকে পা বাড়াতেই ডান দিকে পাথরের গায়ে লেখা সিড়ির সংখ্যা আর তাঁর উপরে তিনটি বিখ্যাত বাঁঁদর যা কানে শোনে না, চোখে দেখে না, মুখে বলে না । এক পা এক পা করে আমি একাই উঠছি, আমার সহ পর্যটক উঠবেন্না কারন এত সিড়ি বাইতে তাঁর কষ্ট হয়।




মাঝে মাঝে থেমে ছবি তুলছি সেই আয়ুথিয়া আমলে তৈরি প্রাচীন মন্দি্র। তবে পরবর্তীতে চক্রী বংশের রাজা প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম রামার হাত ধরে এর প্রভুত সংস্কার হয়েছিল। বেড়েছিল উচ্চতা যা ৮৮ মিটার। থাই ঐতিহ্যবাহী নকশায় নির্মিত ওয়াট সাকেত কিন্ত কৃত্রিম পাহাড়ের উপর যা বহুদুর থেকেও দেখা যায়। শ্রীলংকা থেকে আনা গৌতম বুদ্ধের কিছু নিদর্শন এখানে রয়েছে যেমন হাড়, চুল দাত ।

উপরে উঠছি আর টুং টাং ঘন্টার ধ্বনি কানে আসছে । সেই শব্দ অনুসরন করে উঠে যাচ্ছি লাল চওড়া চওড়া ঘোরানো সিড়ি বেয়ে যার জন্য এতগুলো ধাপ পেরোতে কষ্ট হয়নি। ৩১৮ নম্বর সিড়ির সাথে আছে একটি কাফে যেখানে এক কাপ কফি খেয়ে পরের ধাপ গুলো ওঠার শক্তি জোগাড় করতে পারেন। এছাড়াও আছে পথের পাশে মজার মজার কিছু মুর্তি আর বড় বড় ঘন্টা যা বাজ্বালে বাজনাদারের জন্য নাকি সৌভাগ্য নিয়ে আসে।


সেই ঘন্টা বাজিয়ে ছবি তুলতে তুলতে অবশেষে মুল মন্দিরে হাজির হোলাম যেখানে শায়িত আছেন গৌতম বুদ্ধ । মাথার দিকে রয়েছে অশোক গাছ যার নীচে ধ্যান করে গৌতম বোধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন, এই জন্য অশোক গাছ বুদ্ধদের কাছে পুজনীয়।

মুল মন্দিরের চারিদিকের কার্নিশে ঝোলানো রয়েছে ছোট ছোট ঘন্টা যা বাতাসের ঘায়ে অবিরল টুং টুং করে বেজেই চলেছে, সেই সুর চারিদিকে ছড়িয়ে পরছে এক মিহি কাপন তুলে যা আমাদের হৃদয়ের তন্ত্রীতেও ঘা দিয়ে যাচ্ছে।

উপরে যে বিশাল চত্বর সেখানে অনেকে বড় বড় শিলাপাথরে খোদাই করা বুদ্ধের বানী পড়ছে কেউ বা নীরবে প্রার্থনা করছে আর কেউ কেউ শুধুই বসে বসে পাশেই ছাওপ্রায়া নদী থেকে হু হু করে ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাসে প্রান জুড়িয়ে নিচ্ছে সেই সাথে চারিদিকের দৃশ উপভোগ করছে। আমি ছিলাম শেষের দলে।







সব ছবি আমার তোলা, মহানাখন বিল্ডিং নেট আর শুধু শেষেরটা সহপর্যটক তুলেছে
ভাবছি থাইল্যান্ড ভ্রমন নিয়ে একটা বই লিখবো যাতে থাকবে সব খুটিনাটি ঘুরঘুর
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



