somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মুনা, আজ ঢাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম।
যদিও অনেকের কাছে এই শীত টুকুই অনেক শীত। আমার আবার শীত কম। তুমি শুনলে অবাক হবে এই শীতে আমি পাতলা একটা কাথা গায়ে দিয়ে ঘুমাই। রাতে আমি খালি গায় ঘুমাই। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। ফ্যান ছাড়ি। ঘুমের মধ্যে আমি বুঝতে পারি, আমার শীত করছে। ভোরের দিকে শীত বাড়ে। আমি শীতে কুড়কে থাকি। হ্যা নরম তুলতুলে কম্বল আছে। সেটা লন্ড্রীতে দিয়েছি। কোন লন্ড্রিতে দিয়েছি মনে নেই। স্লিপটা হারিয়ে ফেলেছি। বলো কেমন লাগে! শীতের রাতে ওমের প্রয়োজন আছে। শীত মানুষকে পাশাপাশি নিয়ে আসে। অথচ তুমি আমার পাশে নেই! ভাল্লাগে না।

মুনা, মাঝে দিয়ে বেশ অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম।
সচারাচর আমার অসুখ বিসুখ হয় না। অসুখ হয়েছে তবু ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি না। এদিকে শরীর সুস্থ হচ্ছে না। ডাক্তারের কাছে না গিয়েও বুঝতে পারছি আমার সমস্যা কি হয়েছে। রাতে অনেক কম সময় ঘুমাই। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠি। খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম। রেস্টুরেন্টে খাই। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করি। প্রচুর চা আর সিগারেট! জীবনটাকে বিষিয়ে তুলেছে। এদিকে বয়সও বেড়েছে। মাথায় বেশ কিছু সাদা চুল উঁকি দেয়। ডায়বেটিস হয়ে গেছে। প্রেসার হুট করে বেড়ে যায়। আজকাল অল্পতেই রেগে যাই। লোকজনের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি! পুরুষ মানুষ দীর্ঘদিন নারীর ভালোবাসা না পেলে, পাগল পাগল হয়ে যায়। আমায় একটু ভালোবাসতে পারো না? কি হয় এক আধটুকু চুমু দিলে, জড়িয়ে ধরলে? ঘ্রান নিলে?

মুনা, আমার বিশ্রাম দরকার।
কতদিন সমুদ্র দেখি না! পাহাড় দেখি না। এমনকি কোনো নদীর কাছে যাওয়া হয় না। দেখা হয় না স্বচ্ছ নীল আকাশ! ভাবছি একবার তোমাকে দেখতে আসবো। খুব আদর যত্ন কিন্তু করতে হবে। আমার প্রিয় খাবার গুলো রান্না করে খাওয়াবে। বিকেলে হালদা নদীর কাছে নিয়ে যাবে আমায়? আচ্ছা হালদা নদীর কাছে কি কোনো চায়ের দোকান আছে। জানো তো আমার আবার ঘনঘন চায়ের অভ্যাস। দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। চায়ে চিনি এখন অনেক কম খাই। চিনি না খাওয়াই উচিৎ। শুনেছি, তোমার স্বামী তোমাকে বাড়ির ছাদে চাঁদ দেখার জন্য ফোয়ারা করে দিয়েছে। সেখানে তুমি পদ্মফুল ফোটাবে! জোছনা রাতে পানিতে চাঁদের ছায়া পড়বে। একদিন আসবো পদ্মফুল দেখিবো, চাঁদ দেখিবো। হাতে থাকবে চায়ের কাপ! চা'য়ে চুমুক দিয়ে বলব, মুনা তুমি আমার পাশে থাকলেই মনে হয়, লাইফ ইজ বিউটিফুল।

আমি একজন ব্যর্থ মানুষ বলেই, তুমি আমার কাছ থেকে নিখোঁজ হয়ে গেলে!
নিখোঁজ হয়ে কি খুব ভালো আছো? না তুমি খুব ভালো নেই। আমি টের পাই। অবশ্য এজন্য তুমি নিজেই দায়ী। জিদ করেছো, আর একের পর ভুল করেছো। অন্যায় কিছু কম করোনি? ভুল এবং অন্যায়ের জন্য তুমি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছো। এক হিসেবে আমার তোমার একই অবস্থা। আমরা দুজনেই হতাশ, ভগ্ন এবং যন্ত্রণাবিদ্ধ। মিথ্যা বলব না, একা নিরলায় বসে তোমার কথা ভাবতে ভালো লাগে। এর মধ্যে একদিন তোমাকে স্বপ্নে দেখলাম। স্বপ্নে তোমাকে দারুণ আদর করেছি! রাগ করো না আবার। স্বপ্ন আমি ইচ্ছা করে দেখিনি। কেউ একজন দূরে বসে আমাদের স্বপ্ন দেখায়। এবং তিনিই হয়তো স্বপ্ন গুলো ভেঙে চুরমার করে দেন। আমাদের যখন কষ্ট হয়, আমি নিশ্চিত তিনিও কষ্ট পান। কারণ এইসব স্বপ্ন তিনিই আমাদের দেখিয়েছেন।

শোনো, সব কিছুতেই আমার দারুণ অবনতি হয়েছে।
এখন আমি বই পড়ি না। পত্রিকা পড়ি না। ছবি তুলি না। কোনো বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনের কাছে যাই না। আড্ডা দেই না। সেদিন বছরের শেষ রাতে একজন এক বোতল মদ দিলো। আমি ছুঁয়েও দেখিনি। এখন একা থাকতেই ভালো লাগে। সময় পেলে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে বসে থাকি চুপচাপ। তুমি তো জানো, গাছপালা প্রকৃতি বড় ভালো লাগে। বেঞ্চে বসে মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা গুলো নিয়ে ভাবি। রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে ভাবি। ধার্মিক মানুষদের হিংস্রতা নিয়ে ভাবি। ভাবতে ভাবতে মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়। তখন আমি বেঞ্চে শুয়ে পড়ি। তোমার কথা ভাবতে শুরু করি। আর কি আশ্চর্য মাথা ব্যথা কমতে শুরু করে। আমি তোমাকে নিয়ে চলে যাই ফুলার রোডে। তোমার হাত ধরে হাটতে থাকি। হাটতে হাটতে শহীদ মিনার পর্যন্ত যাই। বড় ভালো লাগে। নিজেকে মিশরের সম্রাট বলে মনে হয়।

মুনা, আমি যদি হুট করে মরে যাই তুমি জানতে পারবে না।
শেষ দেখা হবে না। আমার মৃত্যু কি তোমাকে কষ্ট দিবে? তোমার চোখ কি ভিজে উঠবে? হাহাকার করে উঠবে তোমার হৃদয়? আমার মৃত্যুর পর আমার কথা মনে হলে আকাশের দিকে তাকাবে। মুনা, তোমাকে আবার পরে সময় করে লিখব। রাত ১২ টা বেজে গেছে। এখন এক কাপ চা খাবো। তারপর একটা সিগারেট। এরপর বাসে করে বাসায় যাবো। আচ্ছা তোমাকে কি কখনো চুমু খেয়েছি? আমার কেন জানি মনে হয় এক বৃষ্টির দিনে তোমাকে চুমু খেয়েছি! রাগ করো না আবার চুমুর কথা বললাম বলে। জানো তো আমি সহজ সরল মানুষ। মানবিক এবং হৃদয়বান। ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না। ভালো থাকো। সুস্থ থাকো। জয় বাংলা।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৯
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খালেদা জিয়া নাকি শেখ হাসিনা! কে কাকে হত্যা করতে চেয়েছিল?

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৪০



সুপার এক্সক্লুসিভঃ খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করে মেরে ফেলেন শেখ হাসিনা – কতটুকু সত্য? খালেদা জিয়া যে মদ্যপায়ী ছিলেন এবং মদ্যপানের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

জাপানের ফুজি মাউন্টেন, ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ওরা এখনো বলে, শাপলা চত্বরে হেফাজতের জমায়েতে
কাউকেই নাকি হত্যা করা হয়নি।
গায়ে রং মেখে কিছু লোক ৫ মে ২০১৩... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষোভের দাবানলে পুড়ছে খোমেনির তখত-তাউস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

ক্ষোভের দাবানলে পুড়ছে খোমেনির তখত-তাউস।
=============================
ইরান আজ আর শুধু বিক্ষোভের দেশ নয় ইরান এখন একটি ক্ষুব্ধ জাতির নাম। খামেনির নেতৃত্বাধীন মোল্লাতান্ত্রিক জঙ্গি শাসনের বিরুদ্ধে যে গণজাগরণ শুরু হয়েছে, তা কোনো হঠাৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা নবীজিকে ভুল ভাবে অনুসরণ করেন, তারাই দিপু দাসকে হত্যা করেছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

ইসলাম বুঝতে আপনি কার আদর্শ বেশি অনুসরণ করবেন - নবীজির বংশধর নাকি তাঁদের বাইরের কারো? নবীজির কথা যারা ভুলে গিয়েছেন এবং আমাদের ভুলে যেতে অযাচিতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তারাই দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কথা : তৃতীয় পর্বের পর

লিখেছেন সুম১৪৩২, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩০



“আসলে উনি কে…?”
এই শিরোনামের একটি লেখা দিয়েই আমার লেখালেখির শুরু।
সামুতে।
এটার পর, আমি এই গল্পের কয়েকটা পর্ব লিখেছিলাম। মোট তিনটি । শেষ পর্বটির নাম ছিল—“পশ্চিম পাড়ার পথে”।

গল্পটার সময়কাল ১৯৯০ সাল।
রহস্য আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×