somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেলবোর্নের দিনলিপি-৯.... ব্রাইটন বীচের বেলাভূমিতে এক সন্ধ্যায়

২৪ শে মে, ২০২০ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এর আগের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ মেলবোর্নের দিনলিপি-৮ ... ‘চ্যাপমান’স পয়েন্ট’ এবং ‘আরথার্স সীট’ এ কিছুক্ষণ

সমুদ্র ও পাহাড়, দুটোই আমাকে আকর্ষণ করে, একেক সময়ে একেকটা। দুটোরই নিজস্ব ভাষা আছে। একটার সবাক- যখন উত্তাল তখন তার স্বরমাত্রা উচ্চাঙ্গ, যখন মৌনব্রতী, তখন অনুগত রমণীর মত নিম্নকন্ঠ। অপরটার ভাষা নির্বাক, সেটা মুনী-ঋষি-ভাবুকের আশ্রয়স্থল, কখনো তপস্যাস্থল। আজকের এ লেখাটা শুধু সাগর নিয়ে, মেলবোর্নের একটি শান্ত, স্নিগ্ধ সাগরতীরে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর ছবি নিয়ে, গোধূলি লগনে সাগর যখন মৌনব্রতী ছিল। সে সাগর সৈকতটির নাম ব্রাইটন বীচ।

১২ জানুয়ারী ২০২০। অন্যান্য দিনের মত সন্ধ্যের ঠিক প্রাক্কালে নয়, বিকেল সাতটা চল্লিশে, অর্থাৎ সূর্যাস্তের প্রায় এক ঘন্টা আগে আমরা ব্রাইটন এলাকার একটা বীচের পার্কিং লটে পৌঁছে দেখি সেখানে রাস্তার উপর অনেকগুলো সাদা, পেট মোটা পাখি (সী-গাল) বিশ্রাম নিচ্ছে, কেউ কেউ আবার সুখনিদ্রারত। মনে হলো, কিছুক্ষণ আগে জোয়ারে ভেসে আসা অনেকগুলো ছোট ছোট মাছ ও জলজ প্রাণী (plankton) এরা উদরস্থ করে কেবল রাস্তায় এসে বসেছে। এদেশে গাড়ী চালকেরা কখনো এদেরকে ডিসটার্ব করে না, গাড়ী থামিয়ে অপেক্ষা করে কখন এরা সরে যাবে। আমার ছেলেও তাই করছিল। গাড়ীর শব্দ পেয়ে ওদের কেউ কেউ সরে গিয়ে জায়গা করে দিলে একটি সুবিধেমত জায়গায় সে গাড়ীটা পার্ক করলো। একটি ঘুমন্ত পাখির নিদ্রার ব্যাঘাত না ঘটানোর জন্য তখন তার কাছাকাছি দুটি গাড়ী অপেক্ষা করছিল, কখন তার ঘুম ভাঙবে!

পড়ন্ত বিকেলটাতে আকাশের রঙ পানিতে প্রতিফলিত হওয়াতে সাগরের পানির রঙ নীলচে সবুজাভ দেখাচ্ছিল। আলো যত কমতে থাকে, পানির রঙ তত ছাই রঙের মত হতে থাকে। ছাই রঙের উপর রূপালী আলোর ঝিকিমিকি ছটা দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল। গোধূলির প্রাক্কালে সাগরজলের বিপরীতে বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা অথবা চলমান জনমানুষের ছায়াচিত্র (silhouette) দেখতে অপূর্ব লাগছিল। পশ্চিমের রোদ এসে এমনিতেই নানান রঙে রঞ্জিত উজ্জ্বল Bathing Box গুলোকে আরো বেশী বৈচিত্রময় করে তুলেছিল। তির তির করে শান্ত ঢেউগুলো যখন তীরে এসে ভিড়ছিল, এবং মাথার উপরে গাঙচিলগুলো নানা রকমের শব্দ করতে করতে উড়ছিল, তখন পরিবেশটাকে খুবই প্রশান্তময় মনে হচ্ছিল। এরকম পরিবেশে যে কেউ কিছুটা সময় নিয়ে ডুবন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে ভাবনার সাগরে ডুবে যেতে বাধ্য। আমরা এসব দেখতে দেখতেই একসময় সূর্যটা টুপ করে ডুবে যায়। একেবারে অন্ধকার নামার পর আমরা আরো কিছুক্ষণ একটা নিরিবিলি জায়গায় বসে থেকে আঁধারের নীরবতা উপভোগ করলাম। তারপর নিকটস্থ একটা ওয়াশরুমে গিয়ে ভাল করে হাত পা ধুয়ে গাড়ীতে উঠলাম। পেছনে রেখে এলাম একটি সুন্দর, রূপালী সৈকতসন্ধ্যার স্মৃতি।

ঢাকা
২২ মে ২০২০
শব্দসংখ্যাঃ ৩৫৫


জোয়ারে ভেসে আসা ছোট ছোট মাছ খেয়ে তৃপ্ত, কারপার্কে বিশ্রামরত পাখিকূল। কেউ কেউ সুখনিদ্রারত।


একটি বিশ্রামরত পাখির সরে যাবার অপেক্ষায় অপেক্ষমান একটি গাড়ী।


পড়ন্ত বিকেলে রূপোলী আলোর ছটা......


সূর্যাস্তের প্রস্তুতি শুরু......



ব্রাইটন বীচের 'বেদিং বক্সেস'। একজনের জলে নামার প্রস্তুতি...


প্রতিফলন....


পাখির উল্লাস, নিবিষ্ট দর্শক...


অর্ধ ডুবন্ত সূর্যের সোনালী বর্ণচ্ছটা....


এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়......


আঁধার নেমে এলো....


সারমেয়সহ দর্শনার্থী....


নিঝুম সন্ধ্যায় পান্হ পাখিরা....


বেলাশেষের ভোজ...
The last supper....


তীর ধরে হেঁটে যাওয়া এক যুগল দম্পতি....
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ৯:৩৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

(আবার ফিরে যাই ঝুমতলি)

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৮:১৮

রেললাইন বয়ে যায়।ভোরের প্রার্থনার বিপুল শক্তি।অন্ধকারকে আলো দিতে দিতে সকাল এগোয়! এমন সকাল এলেই ঝুমতলি যেতে ইচ্ছে করে! কুয়াশাঘেরা এক স্টেশনের রেললাইন ধরে হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে। কালো রং শাড়িতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে দিনের বেলা ভ্রমণ ........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:২৮


ঢাকা - বরিশাল/বরিশাল - ঢাকা নৌপথে দিনের বেলা বিগত বছরগুলোতে শুধু মাত্র গ্রীন লাইন জাহাজ কোম্পানির দুটি জাহাজ চলাচল করতো। যাত্রী সল্পতায় একটা জাহাজ বন্ধ করে, এক জাহাজেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর মোবাইল এপ্লিকেশনের ইউজার ইন্টারফেস কেমন হতে পারে !

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:২১



কয়েক দিন ধরে একটা অনলাইন কোর্সে ফটোশপ এবং ইলাস্ট্রেটরের বিভিন্ন টুলসের ব্যবহার শিখছি। তবে শিখতে গিয়ে যা টের পেলাম তা হচ্ছে আমার ভেতরে ক্রিয়েটিভি শূন্য। যাই হোক, সেখানকার একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Four Beautiful Ladies, বাংলাদেশী মডেলিং জগতে যাদের তুলনা ছিল শুধুই তারা - ওরা চারজন (পেছনে ফিরে দেখা)

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:১৫



মাঝে মাঝে এমন হয় যে, একটা দীর্ঘ এক ঘন্টার নাটকের চাইতে ৩০ সেকেন্ড বা এক মিনিট এর একটা বিজ্ঞাপন আমাদের মনে অনেক গভীর দাগ কেটে যায়। আর নব্বই এর দশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে নয় ঘন্টা

লিখেছেন আবদুল্লাহ আফফান, ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৪২


দিনটা অন্যান্য দিনের মতোই শান্ত। তবুও অন্যদিনের চেয়ে আলাদা। সংক্ষিপ্ত সফরে নারায়গঞ্জে যাচ্ছি। সকাল ১০টায় বাসা থেকে বের হলাম। হোটেলে নাস্তা খেয়ে কমলাপুরের নারায়ণগঞ্জ প্লাটফর্ম থেকে টিকেট কাটলাম। ট্রেন ছাড়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×