somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটবেলার স্মৃতিঃ কিছু স্বপ্ন আর সে সময়ের বাজারদর

২৬ শে মে, ২০২১ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নে প্রায়ই একটা কুকুর আমাকে তাড়া করতো। প্রায়ই হাঁপাতে হাঁপাতে আমার ঘুম ভেঙে যেত। চোখ খুলে যখন দেখতাম বিছানায় শুয়ে আছি, তখন স্বপ্ন সত্য না হওয়ায় স্বস্তি পেতাম। এ ছাড়া স্বপ্নে সাপ খোপও অনেক দেখতাম। স্বপ্নে খুব মজা পেতাম যখন আমি দেখতাম আমি খেলাচ্ছলে মাটি খুঁড়ছি আর অনেক মুদ্রা (কয়েন) পাচ্ছি। মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে প্রচুর মুদ্রা সংগ্রহ করছি। তখনকার দিনে ৬৪ পয়সায় এক টাকা হতো, ৪ পয়সায় এক আনা। কয়েনের মান ছিল আট আনা, চার আনা, দুই আনা, এক আনা, দুই পয়সা এবং এক পয়সার। আমি সাধারণতঃ স্বপ্নে বড় বড় মুদ্রাগুলোই পেতাম, অর্থাৎ ২, ৪ আর ৮ আনার। আইয়ুব খানের আমলে সম্ভবতঃ ১৯৬৪ সালের দিকে, বা তার কিছু আগে পরে কয়েনের মানে দশমিক ধারা চালু করা হয় এবং ৪ পয়সার স্থলে ৬ পয়সায় এক আনা, ১৬ পয়সার স্থলে ২৫ পয়সায় চার আনা এবং ৬৪ পয়সার স্থলে ১০০ পয়সায় এক টাকা সাব্যস্ত করা হয়। ঘুম ভেঙে যখন দেখতাম বিছানায় শুয়ে আছি, তখন স্বপ্নভঙ্গে নিরাশ হতাম, স্বপ্নে সঞ্চিত মুদ্রাগুলো না পাওয়ায় হর্ষোৎফুল্ল মনটা খারাপ হয়ে যেত। আমাদের সময় কাগজের নোট (এক, পাঁচ বা দশ টাকার) খুব ক্বচিৎ আমাদের বয়সের ছেলেমেয়েদের হাতে আসতো। আর এখনকার মত দুই টাকার কোন নোট তখন ছিল না। কয়েন দিয়েই স্কুলের টিফিন সারা যেত; দু'আনাই যথেষ্ট ছিল, এক আনাতেও কিছু না কিছু পাওয়া যেত। সে সময়ের কয়েনের মূল্য বুঝার জন্য তৎকালীন বাজারমূল্যের একটা ধারণা দিচ্ছিঃ

আমি যখন বাজার করতাম, তখন এই ঢাকার বাজারেই পাঁচ সিকে (এক টাকা পঁচিশ পয়সা) দিয়ে একটা বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যেত । ওজন এক সেরের (কেজি এর কাছাকাছি প্রায়) নীচে হলে এক টাকাতেই পাওয়া যেত। গরুর গোস্ত ছিল দুই টাকা সের, খাসীর তিন টাকা। চাল এর সের ছিল দশ আনা (বাষট্টি পয়সা), একটু নিম্ন মানের চাল হলে আট আনাতেও (পঞ্চাশ পয়সা) পাওয়া যেত। বাড়ী থেকে আমাদের বর্গাদাররা আব্বাকে চিঠি লিখে জানাতো, হাটে তারা আউশ ধান ১২/১৪ টাকা মণ দরে বিক্রী করেছে, আমন ধান ১৫/১৬ টাকা মণ দরে। ধানের এ দরটা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল বলে মনে পড়ে।

ভাবতে পারেন, আজকে মাত্র একটি ইউএস ডলার ভাঙিয়ে আমরা যে পরিমাণ টাকা পাবো, তখন তা দিয়ে ৪৩ কেজি বীফ কিংবা ১৩৮ কেজি চাল কিনতে পারতাম?

এ লেখাটা পড়ে অনেকের ইতিহাসে পড়া সেই শেরশাহী আমলের কথাও মনে জাগতে পারে!

ঢাকা
২৬ মে ২০২১
শব্দ সংখ্যাঃ ৩৬৭


সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২১ রাত ৯:৫৭
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×