আমার ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নে প্রায়ই একটা কুকুর আমাকে তাড়া করতো। প্রায়ই হাঁপাতে হাঁপাতে আমার ঘুম ভেঙে যেত। চোখ খুলে যখন দেখতাম বিছানায় শুয়ে আছি, তখন স্বপ্ন সত্য না হওয়ায় স্বস্তি পেতাম। এ ছাড়া স্বপ্নে সাপ খোপও অনেক দেখতাম। স্বপ্নে খুব মজা পেতাম যখন আমি দেখতাম আমি খেলাচ্ছলে মাটি খুঁড়ছি আর অনেক মুদ্রা (কয়েন) পাচ্ছি। মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে প্রচুর মুদ্রা সংগ্রহ করছি। তখনকার দিনে ৬৪ পয়সায় এক টাকা হতো, ৪ পয়সায় এক আনা। কয়েনের মান ছিল আট আনা, চার আনা, দুই আনা, এক আনা, দুই পয়সা এবং এক পয়সার। আমি সাধারণতঃ স্বপ্নে বড় বড় মুদ্রাগুলোই পেতাম, অর্থাৎ ২, ৪ আর ৮ আনার। আইয়ুব খানের আমলে সম্ভবতঃ ১৯৬৪ সালের দিকে, বা তার কিছু আগে পরে কয়েনের মানে দশমিক ধারা চালু করা হয় এবং ৪ পয়সার স্থলে ৬ পয়সায় এক আনা, ১৬ পয়সার স্থলে ২৫ পয়সায় চার আনা এবং ৬৪ পয়সার স্থলে ১০০ পয়সায় এক টাকা সাব্যস্ত করা হয়। ঘুম ভেঙে যখন দেখতাম বিছানায় শুয়ে আছি, তখন স্বপ্নভঙ্গে নিরাশ হতাম, স্বপ্নে সঞ্চিত মুদ্রাগুলো না পাওয়ায় হর্ষোৎফুল্ল মনটা খারাপ হয়ে যেত। আমাদের সময় কাগজের নোট (এক, পাঁচ বা দশ টাকার) খুব ক্বচিৎ আমাদের বয়সের ছেলেমেয়েদের হাতে আসতো। আর এখনকার মত দুই টাকার কোন নোট তখন ছিল না। কয়েন দিয়েই স্কুলের টিফিন সারা যেত; দু'আনাই যথেষ্ট ছিল, এক আনাতেও কিছু না কিছু পাওয়া যেত। সে সময়ের কয়েনের মূল্য বুঝার জন্য তৎকালীন বাজারমূল্যের একটা ধারণা দিচ্ছিঃ
আমি যখন বাজার করতাম, তখন এই ঢাকার বাজারেই পাঁচ সিকে (এক টাকা পঁচিশ পয়সা) দিয়ে একটা বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যেত । ওজন এক সেরের (কেজি এর কাছাকাছি প্রায়) নীচে হলে এক টাকাতেই পাওয়া যেত। গরুর গোস্ত ছিল দুই টাকা সের, খাসীর তিন টাকা। চাল এর সের ছিল দশ আনা (বাষট্টি পয়সা), একটু নিম্ন মানের চাল হলে আট আনাতেও (পঞ্চাশ পয়সা) পাওয়া যেত। বাড়ী থেকে আমাদের বর্গাদাররা আব্বাকে চিঠি লিখে জানাতো, হাটে তারা আউশ ধান ১২/১৪ টাকা মণ দরে বিক্রী করেছে, আমন ধান ১৫/১৬ টাকা মণ দরে। ধানের এ দরটা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল বলে মনে পড়ে।
ভাবতে পারেন, আজকে মাত্র একটি ইউএস ডলার ভাঙিয়ে আমরা যে পরিমাণ টাকা পাবো, তখন তা দিয়ে ৪৩ কেজি বীফ কিংবা ১৩৮ কেজি চাল কিনতে পারতাম?
এ লেখাটা পড়ে অনেকের ইতিহাসে পড়া সেই শেরশাহী আমলের কথাও মনে জাগতে পারে!
ঢাকা
২৬ মে ২০২১
শব্দ সংখ্যাঃ ৩৬৭
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২১ রাত ৯:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


