somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

খায়রুল আহসান
একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

রমজানের দিনলিপিঃ মধ্য রজনীর প্রার্থনা

২১ শে এপ্রিল, ২০২৩ সকাল ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ মধ্যরাতের 'কিয়ামুলল্লাইল' নামাযই ছিল সম্ভবতঃ এ রমজানের শেষ জামাতবদ্ধ 'কিয়ামুলল্লাইল'। ইমাম সাহেবের চমৎকার ক্বিরাত-তিলাওয়াৎ শুনতে শুনতে মনটা প্রশান্তিতে ভরে উঠেছিল। আট রাকাত নামায পড়াতে ইমাম সাহেব সাধারণতঃ সময় নেন ত্রিশ মিনিট, মুনাজাতে বার থেকে পনের মিনিট, সর্বমোট প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটে 'কিয়ামুলল্লাইল' নামায সমাপ্ত করেন। উনি পবিত্র ক্বুর'আনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহতা'লা মানুষকে যেসব প্রার্থনা শিখিয়ে দিয়েছেন, বেছে বেছে সাধারণতঃ সেসব আয়াত তিলাওয়াৎ করেই নামায পড়িয়েছেন। সেসব আয়াতের অনেকাংশ অর্থসহ আমার জানা আছে। তাই নামাযের মধ্যে প্রায়শঃই শাস্তির ভয়ে শিউরে উঠেছি, সৎ কর্মের পুরস্কারের কথা ভেবে আশান্বিত হয়ে আন্দোলিত হয়েছি, আবার একজন আত্মসমর্পনকারী হিসেবে পরম নির্ভরতায় প্রশান্ত হয়েছি। ইমাম সাহেবের কণ্ঠে শোনা প্রার্থনা ছাড়াও, এই পঁয়তাল্লিশ মিনিট জুড়ে আমার মন নিরন্তর নীরবে আওড়ে চলে আমার নিজস্ব কিছু নিবেদন, যার কোন বাঁধাধরা গতিপথ নেই। যখন শুনি, "প্রত্যেক প্রাণই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে", তখন আমি নিজেকে মৃত্যুশয্যায় দেখতে পাই, যেভাবে অনেক আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে পেটে-বুকে-নাকে নল গোঁজা অবস্থায় হাসপাতালে দেখেছি। নিজেকে ক্ববরে শায়িত দেখতে পাই, যেভাবে শায়িত রেখে এসেছি তাদের অনেককে। আবার যখন শুনি, ‘বরকতময় তিনি, তাঁর হাতে রাজ্যক্ষমতা আর তিনি সব বিষয়ে শক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন; যাতে পরীক্ষা করবেন তোমাদের কাদের কাজ ভালো। আর তিনি পরাক্রমশীল ও ক্ষমাশীল’ (সুরা-৬৭ মুলক, আয়াত: ১-২), তখন নিজেকে মুনকার-নাকির এর প্রশ্নের উত্তর দেয়া অবস্থায় দেখতে পাই ঠিক তেমনিভাবে, যেমনটি কর্মজীবনে দেখেছি ছাত্ররা আমার প্রশ্ন শুনে জানা প্রশ্নের উত্তর ভুলে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে। আমার প্রার্থনা তখন হয় এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে নিস্তার লাভ, এবং প্রার্থনাটি নিবেদন করি তাঁর কাছে, যিনি সকল শান্তির আধার ও অধিকারী, আর যার নামেই প্রবাহিত হয় অনন্ত শান্তির নিরন্তর ফল্গুধারা।

আমি প্রভুকে অন্তরে অনুভব করতে ভালোবাসি। কারণ, তিনি আমার স্রষ্টা, তাই নিশ্চয়ই তিনি আমাকে বিপদগ্রস্ত দেখতে চাইবেন না, দেখলেও আমাকে উদ্ধারে অবশ্যই এগিয়ে আসবেন। আর এই অনুভব লাভের জন্য মধ্য রজনীর প্রার্থনাই সবচেয়ে মোক্ষম সময়। এ সময়ে অন্তর সহজে বিগলিত হয়, প্রার্থনা অন্তর থেকে উঠে এসে কণ্ঠে ও জিহ্বায় কেন্দ্রীভূত হয়। তখন ভাবা সহজ হয় যে আমার ভ্রান্তি সসীম, তাঁর ক্ষমতা ও ক্ষমা পরিধিহীন, অসীম। তিনি আমার অভিভাবক, তিনি আমার প্রতিপালক, তিনিই আমার রব্ব। তিনি আমার হায়াত দানকারী, হায়াত দারা'জকারী, রুজি-রোযগার-রিযিক-ইজ্জত এ বরকতদানকারী, রোগ-ব্যাধিতে শিফা দানকারী, জান-মাল-ইজ্জতের হেফাযতকারী, বিপদে নাজাত দানকারী, অন্তরের ব্যক্ত-অব্যক্ত নেক ইচ্ছা পূরণকারী, শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি ও পেরেশানি অবসানকারী, সকল গতির সূচনা, নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চলকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ সুরক্ষাকারী এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সকল বিষয়ে অবগত সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রোতা, দ্রষ্টা ও ত্রাতা। এমন একজন সর্বশক্তিমান ক্ষমতাধর নিত্য বিদ্যমান সত্তার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে আমি চিরনিদ্রায় শায়িত হতে চাই, পুনরায় তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে জাগ্রত ও পুনরুল্থিত হবার অপেক্ষায়। মনে বড় আশা, তাঁর প্রেরিত কোন প্রতিনিধি এসে যেন আমায় ডাক দিয়ে যায়, "হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার রব-এর দিকে ফিরে এসো সন্তুষ্ট হয়ে এবং (তোমার রব-এর) সন্তুষ্টির পাত্র হয়ে। অতঃপর আমার (নেক) বান্দাদের মধ্যে শামিল হও। আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর"। (সুরাহ ফাজর, আয়াত ২৭-৩০)


ঢাকা
২১ এপ্রিল ২০২৩
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০২৩ সকাল ৮:১৪
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×