somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখকের প্রাপ্তি ও সন্তুষ্টি

০৭ ই এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন লেখক যখন কোন কিছু লিখেন, তিনি কিছু বলতে চান বলেই লিখেন। বলাটা সব সময় সহজ হয় না, আবার একই কথা জনে জনে বলাও যায় না। তাই লেখক কাগজ কলমের আশ্রয় নেন, হাল আমলে কম্পিউটার কী-বোর্ডের। অনেক লেখক গল্প বলতে চান, আমার বয়সের লেখকেরা স্মৃতিকথাও লিখতে পছন্দ করেন; কিন্তু তাদের কোন শ্রোতা নেই, এই ব্যস্ততার যুগে থাকা সম্ভবও নয়। তবুও তারা লিখে চলেন, সুযোগ পেলেই কোথাও না কোথাও তা প্রকাশও করে ফেলেন। যে লেখকের কোন সুনির্দিষ্ট শ্রেণির পাঠক নেই, তাদের জন্য আজকের যুগে এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে ফেসবুক। আগে নিজের প্রোফাইল পাতায় ‘ফেসবুক নোটস’ নামে একটি আলাদা জায়গায় কোন কিছু লিখে রাখার সুবিধে ছিল। এখন আর সে সুবিধেটা নেই, তবে তার চেয়ে আরও উন্নত মানের সুযোগ করে দিয়েছে বিভিন্ন ‘ফেসবুক গ্রুপ’ এর পেইজ, বিশেষ করে কিছু সাহিত্য গ্রুপের পেইজ। একজন লেখক তার পছন্দমত কোন বিষয়ের উপর একটা কিছু লিখে তার পাঠকের সাথে শেয়ার করার জন্য সেই লেখাটা সেসব পেইজে প্রকাশ করতে পারেন এবং পাঠকের মন্তব্য প্রাপ্তির পর তাদের সাথে লেখাটা নিয়ে আরও বিশদ আলাপচারিতায় অংশ নিতে পারেন।

সাধারণতঃ ফেসবুক এর এসব ‘গ্রুপ পেইজ’ এর পাঠকেরাই আমার যেকোন লেখার প্রথম পাঠক। তার পরে আছে হোয়াটসএ্যাপ এর কিছু ‘গ্রুপ পেইজ’। তার পরে আমি মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে কিছু লেখা বিভিন্ন ম্যাগাজিনে ছাপার জন্য পাঠাই। সম্পাদকমণ্ডলী পছন্দ করলে সে লেখাটি তারা ছাপিয়েও ফেলেন। তেমন নামকরা কোন লিটল ম্যাগাজিনে নয়; যেসব ম্যাগাজিনে সেসব লেখা প্রকাশিত হয়, তাদের পাঠক সংখ্যা খুবই সীমিত। যেমন এলাকার কমিউনিটি ম্যাগাজিন, পেশাগত জীবনের সতীর্থদের গোষ্ঠীভিত্তিক ম্যাগাজিন, বিগত শিক্ষাজীবনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোন আনুষ্ঠানিক পর্ব বা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ম্যাগাজিন, ইত্যাদি। তেমনিভাবেই আমাদের এলাকার কমিউনিটি ম্যাগাজিন “দীপশিখা” এর ডিসেম্বর ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশের জন্য আমি একটা লেখা পাঠিয়েছিলাম। লেখাটার শিরোনাম ছিল “বর্ষণমুখর দিনের বিক্ষিপ্ত ভাবনা”। কোন এক বর্ষণমুখর শুক্রবারের কিছুটা সময়ের বিক্ষিপ্ত ভাবনা নিয়ে লিখেছিলাম। খুবই সাধারণ একটা ঘটনা নিয়ে লেখাটা শুরু করেছিলাম। কিন্তু ঘটনা সাধারণ হলেও, লেখার সময় ভাবনাগুলোকে তো আর কেবল সেই ঘটনার সাথে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। তাই যদিও লেখাটা একটানে শেষ করেছিলাম, কিন্তু লেখার ঐটুকু সময়ের মধ্যেই ভাবনাগুলো ‘টাইম এ্যান্ড স্পেস’ এর সকল সীমারেখা অতিক্রম করে ছুটে গিয়েছিল দেশে মহাদেশে, কৈশোর যৌবনের আরও বহু ছোট ছোট ঘটনার কাছে। সেসব ভাবনার সম্মিলিত সমাহারই ছিল “বর্ষণমুখর দিনের বিক্ষিপ্ত ভাবনা”।

“দীপশিখা” প্রকাশিত হবার পর আমার হাতেও একটি সৌজন্য সংখ্যা পৌঁছেছিল। হাতে পাবার পর আমি নিজের লেখাটি আরেকবার পড়েছিলাম। আমার ভালো লেগেছিল। নিজস্ব কিছু অনুভূতি ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে দেখে আমি খুশি হয়েছিলাম। তারপর ভুলে গিয়েছিলাম লেখাটির কথা। একদিন অভ্যেসবশতঃ আমি আমাদের এলাকার পুকুড়পাড়ে হাঁটছিলাম। হাঁটার সময় দেখি আমার এক এক্স-সিনিয়র কলীগ অপর দিক থেকে হেঁটে আসছেন। আমরা কখনও একই স্টেশনে কর্মরত ছিলাম না। ফলে চাকুরিকালীন সময়ে আমাদের মাঝে কোন কথা হওয়া তো দূরের কথা, কোনদিন দেখা সাক্ষাৎও হয়নি। তবে অবসর গ্রহণের পর থেকে এখন একই এলাকায় থাকি বলে মাঝে মাঝে এখানে সেখানে দেখা হয়েছে এবং টুকটাক আলাপচারিতাও হয়েছে।

উনি আমাকে দেখে একটু দূর থেকেই উষ্ণ হাসি হেসে হাত বাড়িয়ে দিলেন করমর্দনের জন্য। কাছে এসে সস্নেহে ঘাড়ে হাত রেখে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন, এবারের দীপশিখায় প্রকাশিত আমার লেখাটি তার খুবই ভালো লেগেছে। আমার ‘বিক্ষিপ্ত ভাবনা’র অনেকগুলোর সাথেই উনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে রিলেট করতে পেরেছেন। যার সাথে আমার তেমন কোনো ইন্টারএ্যাকশন নেই, এমন একজনের মুখ থেকে লেখাটির ভূয়সী প্রশংসা পেয়ে আমিও যারপরনাই অভিভূত হ’লাম। এর পর থেকে যখনই আমাদের একে অপরের পথ অতিক্রম করেছে, উনি থেমেছেন, খানিক কথা বলেছেন, তারপর শুভকামনা জানিয়ে চলে গিয়েছেন। সব লেখকই হয়তো চান, তার লেখার মাঝে পাঠক নিজেরও কিছু কথা খুঁজে পাক, নিজেকেও খুঁজে পাক। তার কোন লেখা কোন গৃহকোণে পড়ে আছে, লেখকের পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। তবে কোনো পাঠক যদি তার লেখা পড়ে তার সাথে নিজেকে রিলেট করতে পেরে তা লেখককে জানান, লেখকের জন্য তা হয়ে ওঠে এক বিরাট সন্তুষ্টির কারণ। আমার মনে হয়, একজন লেখকের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় পাওনা।


ঢাকা
০৬ এপ্রিল ২০২৫
শব্দ সংখ্যাঃ ৬০৬

এর পরের প্রাসঙ্গিক পোস্টঃ একটি বর্ষণমুখর দিনের কিছু বিক্ষিপ্ত ভাবনা
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৮:০৪
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পারলে একবার সোহাগী ঘুরে যেও।

লিখেছেন রাজা সরকার, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

পারলে একবার সোহাগী ঘুরে যেও।

আজ সারাদিন কোনো কাজ করিনি,,কারো কথা শুনিনি, যা যা কাজের কথা বলা হয়েছিল তার সব উত্তর হয়েছিল ‘পারবো না, পারবো না’। আজ সারাদিন সূর্যের দেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা নব বর্ষের সেকাল একাল

লিখেছেন কালো যাদুকর, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

৯০ দশকের বাংলা নব বর্ষ বেশ ঘটা করে পালন হত । শহরে এই দিনটি পালনের সাথে আনন্দ উদযাপন, গান , পথ নাটক, বাংলা ব্যান্ডের বিশাল আয়োজন , পান্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ফেইল করবেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ফেইল করবেন। তিনি এখনও ২০০১-০৬ সালে আটকে আছেন। সেই সময়ে যখন তিনি শিক্ষা মন্ত্রী হয়েছিলেন তখন শিক্ষায় নকল সমস্যা ছিল সব থেকে বড় সমস্যা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা সবাইকে ❤️

লিখেছেন সামিয়া, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪০



নরম রোদের স্পর্শ পেয়ে
পুরনো দিনের ক্লান্তি ক্ষয়,
বুকের ভাঁজে জমে থাকা
অভিমানগুলো ভেসে যায়।

পহেলা বৈশাখ এল যখন,
রঙিন হাওয়ায় মেলা বসে,
বৈশাখী ঢাকের তালে তালে
মনটা নাচে হাসিমুখে।

শুভ নববর্ষ ডাকে ধীরে,
যাক পুরাতন স্মৃতি সব,
যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গুদের সমস্যা কি ইসরায়েল নিয়ে?

লিখেছেন অর্ক, ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮



ফিলিস্তিন দেশ না হলেও তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো আছে। এক ধরনের ছায়া সরকারের মতো ব্যাপার আরকি। ইয়াসির আরাফাত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এখন মাহমুদ আব্বাস। সে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্সন আঘাবেকিয়ান শাহিন সম্প্রতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×