somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মামাবাড়ী, ইশকুল ... ২০

০৬ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব-
মামাবাড়ী, ইশকুল ... ১৯

খেজুর গাছ কাটা

এখানে খেজুর গাছ কাটা বলতে গোড়া থেকে গাছ কাটা বোঝানো হয়নি। শীতকালে খেজুর রস সংগ্রহ করার জন্য গাছের ওপরের অংশে দা দিয়ে চামড়া তুলে খেজুর রস সংগ্রহ করাকে বুঝিয়েছি। আমাদের বাড়ীর চারপাশে রাস্তা এবং উঁচু জমির আইলে সারবাঁধা খেজুর গাছ ছিলো। এখনো কিছু আছে। শীতের শুরুতে সব গাছের ওপরের অংশে পাতার নীচে সাফ করা হতো। এই কাজের জন্য স্পেশাল কিছু দক্ষ লোক ছিলেন। তাঁদেরকে নিয়ে আসা হতো এই কাজের জন্য। সেজন্য তাঁদেরকে টাকা দেয়া হতো। নেট থেকে এর একটা ছবি দিলাম বোঝার সুবিধার্থে।



এরপর প্রতিদিন বিকালে গাছের সে অংশের হালকা একটা অংশ কেটে ফেলে রসের খালি হাঁড়ি ঝুলিয়ে দেয়া হতো। দু'পাশ থেকে খাঁজ কেটে মাঝ বরাবর বাঁশের চোঙ্গা কেটে গাছের গায়ে আটকে দেয়া হতো। সেই চোঙ্গার নীচে হাঁড়িটি ঝোলানো হতো। ফজরের নামাজ পড়ে সব গাছ থেকে রসে ভরা হাঁড়ি নামিয়ে আনা হতো। এই গাছ কাটার কাজ করতেন আমার সেজ জ্যাঠা সিদ্দিকুল্লাহ সাহেব। গাছ কাটার সময় হাঁড়িটা পেছনে ঝুলিয়ে নিতেন। গাছ কেটে সেটা গাছে ঝুলিয়ে নেমে পড়তেন। এর জন্য কিছু সাজ সরঞ্জাম লাগতো। একটা বাঁশের লম্ব ঝুড়ির মধ্যে ধারালো রাম দা ধরনে লম্বা দা আর কাঠ বা বাঁশের একটা ভারী টুকরা থাকতো। একটা মোট দড়ি থাকতো গাছ কাটার সময় গাছের সাথে কোমর পেঁচিয়ে বাঁধার জন্য। ফলে দুই হাত ব্যবহার করে গাছ কাটা সহজ হতো। জ্যেঠা সবক'টি গাছে একটা করে বাঁশের টুকরা বেঁধে নিতেন দাঁড়ানোর সুবিধার জন্য। ধারালো দা গাছের সাথে লাগিয়ে কাঠ বা বাঁশের ভারী টুকরাটি দিয়ে দায়ের পেছনে ঠুক ঠুক করে হালকা বাড়ি দিয়ে গাছ কাটা হতো। শেষ ফিনিশিং দেয়া হতো দুই হাত দিয়ে টেনে টেনে। এরও একটা ছবি দিলাম নেট থেকে।



আমার সেই জ্যেঠা মারা গেছেন বছর দশেক আগে। তিনি বৃদ্ধ হয়ে যাবার পর বাইরের লোক দিয়ে আমাদের গাছগুলো কাটা হতো। গত সা আট বছর আর সেটাও হচ্ছে না। কারণ গাছ পরিষ্কার করা বা গাছ কাটা জানের এমন কেউ নাকি আমাদের এলাকায় নেই। তবে সুখের কথা দেশের কিছু অঞ্চলে বিশেষ করে যশোহর, ফরিদপুর, নওগাঁ, বগুড়ায় এখনো গাছ কাটা হং বলে আমরা খেজুর রস পাই আর খেজুরে গুড়্ও পাই। যাঁরা এখনো কাজটা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা জানাই।

রস চোরের দল

কষ্ট করে গাছ কাটার পর সকাল বেলা যে পুরো রস পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তা ছিলো না। চোরের দলের তালিকাটি অনেক লম্বা। প্রথমত বাদুড়, নিশাচর পাখির দল বাঁশের নলের সাথে মুখ লাগিয়ে পেট ভরে রস খেয়ে যায়। ফলে হাঁড়িতে কিছু রস কম পড়ে। পোকামাকড়ের দলেরও যে মিস্টি খেজুর রসের প্রতি লোভ আছে সেটা লেখাই বাহুল্য। সেই দলের শিরোমনি হলেন পিঁপড়ার দল। এর পরে আসে দ্বিপদের দল। কিছু আছে হাঁড়িসহ রস চুরি করা আদি ও আসল চোরের দল। আর আছে ভদ্রবিশী চোরের দল। সেই দলের লোক ছিলাম আমরাও। শোভা ভাই আর আবু ভাইয়ের নেতৃত্বে গভীর রাতে গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামিয়ে পাতিলে জমানো হতো। কষ্ট করে আবার হাঁড়িটা গাছে ঝোলানো হতো। বাকি রাতের রসটুকু যেনো মূল মালিকের ভাগে যায়। জমানো রস দিয়ে রান্রা করা হতো রসের সিন্নি। মোটা চালের সেই সিন্নি গরম গরম খাওয়া হতো। মা চাচীরা এই সব অপকর্ম টের পেতেন। জ্যেঠা বা দাদা টের পেতেন না। টের পেলে যে খবর ছিলো সেটা বলাই বাহুল্য।


ভোর বেলা রস নামিয়ে বাড়ীর পথে



(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×