বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ বন্ধঃগ্রামের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ভঙ্গের ষড়যন্ত্র নয়তো !!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
গত ১৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালায় একটি নতূন শর্ত যোগ করেছে।আর তা হচ্ছে, এখন থেকে ভর্তি পরীক্ষায় একবারের বেশি কেউ অংশ নিতে পারবে না।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় হঠাৎ এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত কেন নিল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বসবাস করছে না ,তারা তো বাংলাদেশের ভূখন্ডের মধ্যে অবস্থিত।বাংলাদেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী এখনো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে।তাদের মা-বাবা অনেক কষ্টে ছেলেমেয়ের পরীক্ষার ফি যোগার করে এবং স্বপ্ন দেখে তার সন্তান এইসএসসি পাস করে যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে স্বল্প খরচে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবে ।কিন্তু বর্তমান শিক্ষার বানিজ্যিক করনের খবর তো আর গ্রামের খেটে খাওয়া সেই বাবা-মায়ের জানা নেই,সেতো আর জানে না বিশ্ববিদ্যলয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে এখন হাজার হাজার টকা খরচ করে কোচিং সেন্টারের দোকানে ভর্তি হতে হয়।কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় যে আজগুবী প্রশ্ন করা হয় তা শিক্ষার্থীকে তার দীর্ঘ শিক্ষা জীবনে কোথাও পড়তে হয়নি।তাই মেধা থাকা সত্বেও অনেক সময় গ্রাম থেকে আসা বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বুঝতেই পারে না ,ফলশ্রুতিতে তাদের পক্ষে উত্তীর্ন হওয়া দুরূহ হয়ে যায়।অনেকেই আবার নিজের পছন্দমতো বিষয়ে ভর্তি হতে না পেরে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ গ্রহণ করে।এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সেই গ্রহণের সুযোগ বন্ধ ক রে দিল।গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ যে কিনা ঘাম ঝরানো অর্থ খরচ করে তার ছেলে-মেয়ের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রেখেছিলো,আজ বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের স্বপ্নভঙ্গ হবে।কারণ বাংলাদেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নামে যে দোকান খুলে বসেছে, যেখানে টাকার বিনিময়ে শিক্ষাসনদ পাওয়া যায় সেখানে পড়ানোর মত আর্থিক স্বচ্ছলতাতো এই শিক্ষার্থীদের নেই।তাহলে গ্রামের এই শিক্ষার্থীরা কোথায় যাবে ?তাকি আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা একবারের জন্যে ভেবে দেখেছেন?এখানে আর একটি বিষয় বলা দরকার একটি দেশে শিক্ষা নীতিমালায় এতটা পার্থক্য থাকতে পারে না,যেখানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কোনো সময়ের সীমাবদ্ধতা নেই ,সেখানে যখন খুশী ভর্তি হওয়া যায়। যার বেশির ভাগ শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে সচ্ছল বাবা-মায়ের ছেলেমেয়েরা, অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নিয়মের বেড়াজালে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে আমাদের লাখো গ্রামের গরীব কষক ,শ্রমিক দিন মজুর মা-বাবার ছেলেমেয়েরা।এটা চরম বৈষম্যমুলক সিদ্ধান্ত নয়?এক দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে দুই নিয়ম চলতে পারে না।অতএব আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বছর অংশ নেয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখার বিণীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
(পূনশ্চঃঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছিল তৎকালীন পুর্ব বাংলার পশ্চাদপদ গরীব মুসলিম পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সুযোগ প্রদানের জন্য।সেই বিশ্ববিদ্যালয় আজ বুর্জোয়া মানষিকতায় আচ্ছন্ন হয়ে শিক্ষা সংকোচন পদ্ধতি গ্রহণ করবে,যাতে গ্রামের গরীব ছেলেমেয়েরা বঞ্চিত হবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।)
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
হায়ার সেলফ্

শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন
এফএম রেডিও

শিরনাম হীন
তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন
ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান
এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।