
বাবার পঞ্চাশ বছর ধরে হুমিওপ্যাথি
চিকিৎসার পুরানো বইটি
বাবার বিশ বছর বয়সে কেনা মোটা বইটি
একটুও নষ্ট হয়েছিল না বাবা বেঁচে থাকা কালিন
সেভাবেই ছিল আলমারিতে
যেই বাবা মরে গেল বইটিতে ময়লা পড়ে গেছে
আমি সেটা পড়ার চেষ্টা করি
পঁচা পৃষ্ঠাগুলো নাড়লেই ছিড়ে যাই
সাধু ভাষায় লেখা
বাবার অনেক যত্নের বই এটা
ছোটবেলায় দেখতাম প্রতিদিন সন্ধ্যায়
এক দল রুগী বাবার কাছে ঔষুধ নিচ্ছে
শিশুদের সর্দি কাশি কিংবা বড়দের রোগ
বাবায় গ্রামের একমাত্র হুমিওপ্যাথী ডাক্তার
মাত্র পাঁচ টাকাতেই বাবা ঔষুধ দিচ্ছে
কত জন মাত্র পাঁচটা টাকায় দিত না
বাবা বৃদ্ধ মুখে হু করে হেসে খুব
খুশি মনে এটা মেনে নিত
ছোট্ট একটি ঔষুধের বাক্স থেকে
বাবা ছোট ছোট শিশিতে পাঁট টাকার ঔষুধ দিত
বাবা নেই এই তার ঔষুধের বোতলগুলো আছে
এখন গ্রাম ভর্তি ডাক্তার হয়েছে
চিকিৎসা করতেও অনেক টাকা লাগে
রোগও সহজে সারে না
বাবার পুরানো হুমিওপ্যাথী বইটে দেখে দেখে
ভাবছি বৃদ্ধ বাবার ঔষুধ নাড়ার শব্দ
হুমিওপ্যাথী শিশির বোতলের শব্দ
জানালার পাশে দাড়িয়ে চশমা চোখে
বাবার ঔষুধ দেওয়ার দৃশ্য
সে দৃশ্য আমার চিরজীবন মনে রবে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


