
আরণ্যক এখন ক্লাস এইটে পড়ে। সবেমাত্র মা মারা গেছে। জামা কাপুড় ধোয়া খাওয়া দাওয়া সব দিকে তার নিজেকেই নজর দিতে হয়।
শাহ হাবিব স্যার এসেম্বলিতে বলে দিয়েছে প্রত্যেক ছাত্রকে স্কুলে জুতা পরে আসতে হবে ।বাবাকে আরণ্যক সন্ধ্যা রাতে তা জানাল। বাবা বলল ঠিক আছে। পরের দিন বাবা দু জুড়া জুতো কিনে আনল। যে দুটো পায়ে ফিট হবে সে দুটো রেখে বাকি দুটো দোকানে ফেরৎ দিয়ে আসতে হবে।
দুপুর বেলায় স্কুল থেকে এসে আরণ্যক দেখল দুজোড়া জুতা। এক জুড়া লাল ও সাদা কালারের কিন্তু সাইজে খুব বড়। আরেক জুড়া লাল ও কালো কালারের । সেদুটো পায়ের সাথে একদম ফিট।আর দেখাদেখি নেই । ফিট জুতো দুটোই আরণ্যকের চায়। কিন্তু মেজো ভাই বলল যে না বাড়ন্ত শরীর । সুতরাং পায়ের সাইজ বড় হবে। তাই বড় সাইজের জুতা দুটো রাখতে হবে । তাতে কয়েক বছর চলে যাবে।
বড় বোনও তাই বলল । বড় জুতো দুটো রাখা যাক। কিন্তু আরণ্যক বলল ঐ ফিট জুতা দুটো তার খুব পছন্দ। ভাই ও বোন যাতামাতা বুঝিয়ে তাকে বড় সাইজের জুতো দুটো নিতে বাধ্য করল।বাবাও বলল বড়টাই থাক।
পরের দিন বড় দুটো জুতো জুতো পরে আরণ্যক স্কুলে গেল। না মানাচ্ছে না। মন পড়ে আছে ফিট জুতো দুটোর কাছে। ইশ ফিট জুতো দুটো কি সুন্দরই না ছিল!
ঢিল জুতো দুটো পরে হাটলে বারে বারে পা বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই কাগজ আর গাছের পাতা জুতোর ভেতরে দিয়ে আরণ্যককে স্কুলে যেতে হচ্ছে।
প্রায় ছয় মাস হল। জুতো দুটো এখনও পায়ের সাথে ফিট হল না। কারণ আরণ্যকের শরীর সেই রকম বাড়েনি। এখন বছরের মাঝামাঝি । সুতরাং এসেম্বলিতে স্যাররা আর জুতা পরার চাপ দেয়না। যে কোন পোশাক পরে স্কুলে গেলেই চলে।
জুতা দুটো সিঁড়ি ঘরে পড়ে রয়েছে। ঢিল জুতো ঢিলই রয়ে গেল। আরণ্যকের পা ছোট হয়ে রইল। জুতো পরতে তার আর ইচ্ছে হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


