somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জীবনের খাতা
আমি একজন উন্নয়ন কর্মী। জীবনের খসড়া পৃষ্ঠাগুলি থেকে মূল্যবান বিষয়গুলি আলাদা করে পাকা একটি খাতা তৈরী করার আপ্রাণ চেষ্ঠা থাকবে।

বাংলা নববর্ষঃ (ভাগ-১) (পুনঃ উপস্থাপন)

১১ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পহেলা বৈশাখের তাৎপর্য জানার জন্য চেষ্টা করে যতটুকু জেনেছি তা হলো, মুঘল সম্রাটগণ হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। মূল হিজরী পুঞ্জিকা চন্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চন্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। একারণে চন্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না, আর চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনিভর। এজন্য মোগল সম্রাট আকবর প্রচলিত হিজরী চন্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রুপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
সম্রাট আকবর তার দরবারের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোর্তিবিদ আমির ফতুল্লাহ শরাজীকে হিজরী চন্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খৃস্টাব্দে সম্রাট আকবর এ হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি উনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসন আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলেনের নির্দেশ দেন। এভাবে ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। উল্লেখ্য, ৯৬৩ হিজরী সালের মহররম মাস মোতাবেক বাংলা সালের মাস ছিল বৈশাখ, বিধায় বৈশাখ মাসকে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস হিসাবে গণনা শুরু হয়।
সে সময়ে রাজ্যের নিয়ম ছিল যে, প্রজারা চৈত্রমাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পহেলা বৈশাখে জমিদারগণ প্রজাদের শিষ্টিমুখ করাতেন। এতে একটি আনন্দঘন পরিবেশ তৈরী হতো। পহেলা বৈশাখ মুলতঃ রাষ্ট্রিয়, সামাজিক, অথনৈতিক বিভিন্ন নিয়ম-কানুনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে কাজ-কর্ম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ছিল। এ বিষয়গুলি ইসলামে নিষিদ্ধ বলার কোন যৌক্তিক কারণ নেই।
কিন্তু বর্তমানে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে যে কর্মকান্ড করা হচ্ছে তা কখনই পূর্ববর্তী সময়ে বাঙ্গলীরা করেনি। বর্তমানে যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরীরা অশ্লীলতা ও বেহায়পনার মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করছে। কোথাও কোথাও বৈশাখী মেলা উপলক্ষ্যে সারা রাত ধরে অশ্রীল নিত্য হচ্ছে। অশ্রীলতারও একটা সীমা থাকে। যারা এই অশ্রীলতা দেখেছে তাদের ভাষ্য যে, ঐ এলাকার ২/৪ কিলোমিটারের মধ্যে কোন শয়তানও থাকেনা।
মহাগ্রন্থ আল কোরআন এর ২ নম্বর সূরা আল বাকারাহ এর ১৬৮ ও ১৬৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়া’লা এভাবে বলছেন, “হে মানবমন্ডলী, পৃথিবীর হালাল বস্তুসমগ্রী ভক্ষণ কর, আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না, সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো এ নির্দেশই তোমাদের দিবে, তোমরা অন্যায় ও অশ্রীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে বলতে থাক যা তোমরা জান না।” এভাবে আমরা আজ শয়তানের নির্দেশিত পন্থায় পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করছি।
পহেলা বৈশাখের প্রকৃত উৎস হলো, প্রজাগণ চৈত্র মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করবে আর জমিদারগণ বৈশাখের ১লা তারিখে প্রজাদের মিষ্টি খাওয়াবে বা আহার করাবে। আজকে যদি সমাজের ধনীগণ দরিদ্রদের আহার করানো, বস্ত্র প্রদান, অর্থ প্রদানের মাধ্যমে আমাদের এই মহৎ সংস্কৃতিকে ধারণ করে পহেলা বৈশাখ উৎযান করতেন তাহলে সমাজে অনেকাংশে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হতো এবং পহেলা বৈশাখ উৎযাপন আক্ষরিক অর্থে স্বার্থক হতো। চলবে---
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৪:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×