somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাদ্য খাচ্ছি না বিষ খাচ্ছি ?

১৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খাদ্য ভেজাল, বিশ্বের মানুষের জীবন নাশের একটি বড় প্রভাব। আমি মনে করি, বিশ্বে যদি কোন দেশে খাদ্য ভেজাল না দেওয়া হয় তবে ১০০% থেকে ৮০% মানুষ সুসাস্থ নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবে। সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৬০ কোটি মানুষ অসুস্থ হচ্ছে, ৪ লাখ ২০ হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে প্রতিবছর দূষিত খাবার খেয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে এবং অসুস্থ হচ্ছে ১৫ কোটি মানুষ। বলা হয়েছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী, বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদির কারণে খাবার দূষিত হয়।

আর এই রকম অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ক্যান্সার, কিডনিতে পাথর, ডায়াবিটিকস, হার্ট এ্যাটাক, শ্বাসরোধ, মস্তিষ্ক, স্নায়ুর, মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার এরকম বড় বড় রোগ হচ্ছে সকল ধরণের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ, শিশু-কিশোর, প্রবীণদের। এছাড়াও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট, ব্রেন স্টোক, পাকস্থলী, ব্লাড ক্যান্সার, হাঁচি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, অরুচি,বদহজম, আলসার, অন্ধত্ব, ত্বক- চোখের সমস্যা, চর্মরোগ ইত্যাদি রোগগুলো মানুষের জীবনটা ধ্বংস করে দিচ্ছে প্রতিদিন। তিলে তিলে মেরে ফেলছে মানুষগুলোকে অসাধু ব্যবসায়ীকরা।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে এই প্রভাবটি বাংলাদেশ সব থেকে বেশি পড়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ বিষক্রিয়ার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। আর সব থেকে বড় কথা হলো লিভার, হৃদরোগ ও কিডনি আক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে এই বিষযুক্ত খাদ্যকে।

বাংলাদেশে প্রতিদিন হাসপাতাল হাসপাতাল গুলোতে লক্ষ লক্ষ রোগীরা সিরিয়াল দিচ্ছে উপরোক্ত এই সব রোগে আক্রান্ত হয়ে। ফরমালিন, ক্যালসিয়াম, কার্বাইড এগুলো ব্যবহার করা বৈধ কিন্তু মানুষের খাবার হিসেবে না। মানবদেহের জন্য এগুলো ভয়ংকর ক্ষতিরকারণ। এই পদার্থগুলো ব্যবহার করা হয় আসবাবপত্র, ল্যাবরেটরি, ইনডাস্ট্রি নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যবহার করার জন্য। ফরমালিন হল ননফুড গ্রেডের প্রিজারভেটিভ তাই খাদ্যে ব্যবহার খুবই ভয়ংকর। ক্যালসিয়াম কার্বাইড এটা ধূসর কালো দানাদার রসূনের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ এটা ব্যবহার করা হয় ইস্পাত কারখানায়, ধাতব বস্তু কাটাকাটির কাজে, অ্যাসিটিলিন গ্যাস ও বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরির জন্য এবং পলিথিন তৈরির কাঁচামাল কাজে জন্য ব্যবহার করা হয়। আর এই সব ভয়ংকর রাসায়নিক দ্রব্য আমরা প্রতিদিন প্রত্যেকটি খাবারের সাথে খাচ্ছি। আর দিনে দিনে অসাধু ব্যবসায়ীকরা আমাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে।

মাছ, দুধ, মিষ্টি-চিনি, দেশী-বিদেশি বিভিন্ন ফলে মিশানো হচ্ছে ফরমালিন। বিভিন্ন সবজীতে মিশানো হচ্ছে বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড, কেমিক্যাল মিশানো হচ্ছে, রং মিশানো বিভিন্ন কাচা সবজীতে। এমন কোন খাবার নেই যে খাবারে অসাধু ব্যবসায়ীরা বিষ ঢেলে না দিচ্ছে। আর আমরা খাচ্ছি সেই বিষ জেনে না জেনে, বুজে না বুজে। আমরা নিজেরাই নিজেদের তিল তিল করে ধ্বংস করে দিচ্ছি। আমরাই বা কি করবে বেচে থাকতে হলে তো খেতে হবে। তাই বিষ খেয়ে বেচে থাকি দিন দিন।

এর বিরুদ্ধে আইন, কর্তপক্ষ, সরকার কোন ব্যব্স্থ নিতে পারছে না আর মনে হয় পারবেও না। কারণ দিনে দিনে এর পরিনত ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে। জানিনা অসাধু ব্যবসায়ীরা এই ভয়ংকর খেলা আর কতদিন খেলবে। যখন কোন প্রিয় খাবার মুখে দিতে চাই তখনি মনে হয় এই বুজি মৃত্যুপুরি মুখে দিলাম, এই বুজি প্রাণটা বেরিয়ে যাবে আমার। কত খাবার ইচ্ছে থাকা শর্তে খেতে পারিনা। মাছ-গোশত, পুষ্টিকর ফল, পুষ্টিকর সবজ্বি মানুষ খায় বেচে থাকার জন্য আর সেগুলোই এখন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। আমি আপেল, কমলা, আঙুর, প্যাকেট দুধ এইগুলো খাওয়ার জন্য হাতে তুলি কিন্তু মুখে দিলে অভক্তি করে চোখ-মুখ বন্ধ করে অনিশ্চায় শর্তও খেতে হচ্ছে।

আমরা কি পারি না এর থেকে বের হয়ে আসতে, একটু চেষ্টা করলেই তো পারি তাই না?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১২
১০টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×