সঙ্গীতের মূল আকর্ষণ ও উপজীব্য বিষয় হলো কথা, সুর ও তাল। সঙ্গীতের সতত প্রকাশ শিল্পীর কণ্ঠে ও বাদ্যযন্ত্রের নিপূণ ব্যবহারে। সঙ্গীত মানেই শব্দের অনুপম মূর্চ্ছণা আর সুরের মায়াবী জাল। আর এই শব্দের সকল কারুকাজ ধারণ করে আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়। কিন্তু শুধুমাত্র শ্রবণেই সন্তুষ্ট নয় সকলে। নিজস্ব একটা ভাললাগার ব্যাপার আপনা থেকেই চলে আসে। সবার পছন্দ এক নয়। সবাই একই রকমের সঙ্গীতে আসক্ত নয়, শুনে অভ্যস্তও নয়। এখানেই মানুষের বৈচিত্র সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। রবীন্দ্র, নজরুল, আধুনিক, ধ্রুপদী, গজল, লোকসঙ্গীত, আধ্যাত্মিক, বাউল বা মরমী যে কোন সঙ্গীতের প্রতি যে কোন মানুষের দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে যে কোন সঙ্গীতের সবটুকু ভাললাগা প্রকাশ পায় শিল্পীর কণ্ঠ, একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও উপস্থাপনায়। প্রতিটি মানুষের রুচি বা পছন্দ এক নয়। তাই সঙ্গীত বা শিল্পী বিশেষে সবার নিজস্ব পছন্দের একটা জায়গা রয়েছ।
মানুষের জীবনটা মনে হয় শব্দের মাঝে থেকেও এক শব্দহীন সঙ্গীত। সব মানুষের জীবন একই সুরে বাঁধা নয়। আমাদের চারিপাশে হাজারো শব্দের রেশ। নানা ব্যঞ্জণায় নানা মূর্চ্ছণায় অবিরাম বেজে চলেছে তারা নিরন্তর। সেই সঙ্গীতে শব্দ আছে, সুর নেই। কথা আছে, তাল নেই। কখনোই তা সুরে বাজে না, বড্ডো বেসুরো সেই সঙ্গীত। তাতে রাগ আছে, রাগিনী নেই, প্রয়োগ আছে, চর্চা নেই। যথেচ্ছা প্রকাশ আছে, অথচ রেওয়াজ নেই। সেই সঙ্গীত বাজছে তার ইচ্ছেমত। মানুষ জীবনালেখ্য সৃষ্টির অনবদ্য কারিগর, তাই নিপূণ দক্ষতায় নিজ নিজ জীবনকে বেঁধে নিয়েছে এক বেসুরো একতারায়। জীবনের নৈবদ্য সঙ্গীতে প্রতিদিন বেজে চলেছে হাজারো শব্দ। তাতে আছে কিছু কথা, কিছু আলাপন, কিছু প্রহসন, কিছু বিনোদন, কিছু হাসি, কিছু কান্না। আর আছে অসংখ্য কষ্টের কিছু দ্রুতলয়ের চিৎকার। জীবন সঙ্গীতে এদের বিস্তৃতি ব্যাপক, স্থায়িত্ব অনাদিকাল।
মানুষের মনের ক্যানভাসে অহরহ দাগ কাটছে নানা কথোপকথন। প্রতিদিন সেখানে ফুটে উঠছে নানা কথার প্রতিচ্ছবি। জমা হচ্ছে প্রস্ফুটিত আর বিকশিত হবার জন্য অপেক্ষমান না বলা আরো অনেক কথা। সেই কথার মাঝে থেকে যাবে কারো প্রযত্নে বয়ে আনা না বলা কথার নীরব আক্ষেপ। জীবনের কাছে জন্ম যেমন এক নিসর্গতার আমন্ত্রন, তেমনি কখনো কখনো সেই নিসর্গতায় পরে কালির ছোপ। জীবনের উজ্জ্বলতা তখন ম্লান হয়ে যায়। এটা একটা দারুন আলো-আধাঁরি খেলা। মনের মলিনতা একদিকে যেমন ক্ষণিকের স্থবিরতা অন্যদিকে সেটাই আবার তীব্র গতিতে বয়ে আনা এক অনাকাংখিত ভবিতব্য। কখনো তা হঠাৎ থেমে যাওয়া সুখের জীবন কখনো তা উল্টোরথে পাড়ি দেয়া দুঃখের আয়োজন।
সখী ভালোবাসা কারে কয়? কবির এই শ্বাশত ও নিরন্তর প্রশ্ন ছিল সুদূরের কোন এক অলক্ষ্যে লুকিয়ে থাকা অচেনা এক সখীর কাছে। ভালোবাসার যেমন কোন সঠিক সংজ্ঞা নেই, তেমনি নেই তার কোন নির্দিষ্ট অবয়ব। তবুও কী ভালোবাসা সত্যি নয়? তবুও কী মানুষ ভালোবাসার জন্য বিচলিত নয়? মানুষ চিরকালই ভালোবাসা পেতে ও দিতে অভ্যস্ত। আর সেই সত্যকে বুকে ধারন করেই মানুষ অদ্ভুত এক খেলায় নিজেকে সর্মপণ করে দেয়। ভালবাসার গান গেয়ে চলে অহর্নিশি। আরো একবার নিজেকে সঁপে দেয় ভালবাসায় সিঞ্চিত শিশির সমীপে। বিশুদ্ধতার প্রত্যাশায় শিশিরকণাগুলো তখন নিজেকে মেলে ধরে সার্বিক সত্যের সুন্দরতম প্রত্যুষে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



