somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দরবেশ - কহলিল জিব্রানের The Prophet-এর বঙ্গানুবাদ - ১৪

২৪ শে মে, ২০০৮ রাত ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৩.
একজন বাগ্মীবক্তা বলল, তুমি আমাদের স্বাধীনতা বিষয়ে বল
এবং জবাবে সে বলল:

নগরের দ্বারে এবং আগুনের পাশে আমি তোমাদের আভূমি প্রণত হ’য়ে স্বাধীনতার আরাধনা করতে দেখেছি
যেমন করে ক্রীতদাসরা তাদের অত্যাচারী প্রভুর সামনে নতজানু হয় আর তার প্রশস্তি করে যে প্রভু তাদের নিত্য নিধন করে, (এমনও তো আমি দেখেছি)।
দেখেছি দেবালয়ের নীপবাসে নগরদূর্গের ছায়া-উপচ্ছায়ায় তোমাদের সবচেয়ে স্বাধীন যারা তারা স্বাধীনতার জোয়ালে বাঁধা আর হাতে তাদের স্বাধীনতার হাতকড়া
হৃদয় আমার তাই বিদীর্ণ হয়েছে রক্তাক্ততায়, একমাত্র তখনই শুধু স্বাধীন হ’তে পারবে তোমরা যখন তোমাদের ইচ্ছালাগাম অদম্য হ’য়ে উঠবে মুক্তির আকাঙ্খায় বাধাবন্ধন হারা
আর যখন লক্ষ্য ও ইচ্ছাপূরণে স্বাধীনতার দস্তুর ভাবনার আবহে তোমরাও হ’য়ে উঠবে বাধাবন্ধন হারা।
তোমরা তখনই যথার্থ স্বাধীন হবে যখন তোমাদের দিবস হবে দুর্ভাবনাহীণ আর যামিনী হবে অভাবহীণ দুঃখভারহীণ
এইসব কিছুই তোমাদের জীবন জুড়ে থাকে হয়ত’ বা নিত্যদিন, তবুও তোমরা উঠে আসবে নিরাবরণ নিরাভরণ বাধাবন্ধহীণ।

এবং কী করেই বা তোমরা দিবসযামিনীর ঊর্ধ্বে উঠে আসবে যদি না তোমরা তোমাদের বোধোদয়ে যে শৃঙ্খলে আবদ্ধ কর তোমাদের দ্বিপ্রহরকে তাকে ভাঙ্গতে পারো অবহেলায়?
বস্তুতঃ তোমরা যাকে স্বাধীনতা বল তা-ই তোমাদের জোরালো শৃঙ্খল যার আংটা ঝলমলে দিবসালোয় তোমাদের চক্ষু ধাঁধিয়ে দিয়ে যায়।
তোমাদের সত্তার ভগ্নাংশসমূহ আর কী-ই বা যা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তোমরা স্বাধীন হ’তে পারো?
যে অন্যায় বিধানকে তোমরা রদ করতে চাও সেই বিধান তোমাদের নিজেদের হাতে ললাটের লিখন বলেই ভাবতে পারো
আইনের বিধান পুড়িয়ে কিংবা সমুদ্রসিন্ধুর জল বিচারকদের ললাটে ঢেলেও তোমরা সেই বিধানকে মুছে সাফ করতে পারো না
এবং যদি কোন স্বৈরাচারীকে তার সিংহাসন থেকে উৎখাত করতে চাও তবে পরখ করে দেখ তোমাদের অভ্যন্তরে গড়ে তোলা সিংহাসনকে তোমরা আগেই ভেঙ্গে ধসিয়ে ধূলিসাৎ করতে পারো কি না
স্বেচ্ছাচারীরা কী করে শাসন করবে স্বাধীন আর আত্মগর্ব্বীদের, স্বেচ্ছাচারীরা নিজেরাই যে নিজেদের স্বাধীনতায় স্বেচ্ছাচারী আর আত্ম-অহমিকায় নিজেরাই নির্লজ্জ্ব অহঙ্কারী?
যে উদ্বেগকে ঝেড়ে ফেলতে চাও তোমরা তা তো তোমাদের স্বেচ্ছারোপিত, তোমাদেরই নিজেদের মনে গড়া মনচারী
এবং যে শঙ্কা যে ভয়কে নিরসন করতে চাও তোমরা সেই ভয়ের সিংহাসন তো তোমাদের অন্তর অন্দরাবাসেই, তা তো ভয়াল ভয়ঙ্করের করতলগত নয়, (বৃথাই তুমি শঙ্কিত ভীতচারী)।
বস্তুতঃ সবকিছুই সতত তোমাদের সত্তায় অর্ধ্ব-আলিঙ্গনে সঞ্চরমান, কাঙ্খা ও শঙ্কা অনুরাগ ও বিরাগ প্রণতি আর যা সবকিছু থেকে তোমরা পালিয়ে যেতে চাও কেনই বা
এই সবকিছুই তোমাদের অন্তরে আলো-ছায়ার মত দোহারবন্ধনে জড়িয়ে আছে (কেমন করে তোমরা পালাবেই বা)
যখন সেই ছায়াসব বিশীর্ণ হ’য়ে সড়ে যায় আলোর রেশ থাকে না আর, সেই ছায়া জেগে ওঠে পুনর্বার অন্যকোন আলোকের ছায়া হ’য়ে
আর তোমাদের স্বাধীনতাও তেমনই তার শৃঙ্খল হারিয়ে আবার স্বাধীনতা হ’য়ে ওঠে অন্যতর কোন মহোত্তর স্বাধীনতার শৃঙ্খলবেড়ী হ’য়ে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×