"কোঈ নাহি হ্যায় রাহগুজার যা হো..."
- মির্জা গালিব
একা, একান্ত, এক অনন্ত নিস্তব্ধতায় কেউ বসে আছে। হয়তো একটি জানালার পাশে, হয়তো ছাদের ধারে, বা হয়তো হৃদয়েরই এক গভীর কোণে। সেখানে আলো এসে থমকে দাঁড়ায়, ছায়া এসে ধীরে ধীরে গা ছুঁয়ে যায়। এক মুহূর্তে বোঝা যায় না আলোটা সত্যি, নাকি কেবল ছায়ার ভ্রান্তি।
এই আলো নয় আলো- এ যেন ছায়ার অন্তর্বয়ন থেকে ফেঁসে ওঠা এক চেতনাবিন্দু, যা চোখের পাতার ভাঁজে এসে প্রতিফলিত হয়ে আবার মুছে যায়। আলো আর ছায়া মিলেমিশে এক ‘অস্পষ্টতা’ সৃষ্টি করে, যার মধ্যে বসে মানুষ, ভাবতে থাকে- সে কি আছে? না, সে কেবল ভাবছে সে আছে?
ছায়া বলে- আমি আলো ছাড়া কিছুই নই।
আলো বলে- আমি নেই, যতক্ষণ না তুমি আমাকে ভেবে ফেলো।
আর এই কথোপকথনের মধ্যে ঢুকে পড়ে এক অনামা ক্লান্তি, যা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে অস্তিত্বের প্রতিটি কণায়। হৃদয়ের ঘাসে, চোখের পাতায়, ঘুমহীন বারান্দায়।
আর এই সময়েই আত্মা কেমন এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়- সে বুঝি শরীরকে ধরে রাখে, বাঁচিয়ে রাখে, যেন কোনো এক অচেনা শিল্পের টানে। সেই শিল্পও সবসময় সত্য হয় না; বরং সেই মিথ্যার ভেতরেই মানুষ খুঁজে নেয় সৌন্দর্য, খুঁজে নেয় বেঁচে থাকার অজুহাত। একটি সুন্দর মিথ্যা, কেমন করে জানি, দিনগুলোকে রঙিন করে তোলে, সম্পর্কগুলোর ছেঁড়াফাঁড়া ঢেকে দেয় কল্পনার সুতো দিয়ে। সত্যের কঠোরতা যেখানে দহন আনে, এই মিথ্যা সেখানে একপ্রকার শীতল প্রলেপ।
এভাবেই কেউ একদিন সরে যায়, কিন্তু যাওয়াটা ঠিক যাওয়াও নয়। একটি শব্দ ঝরে পড়ে, কিন্তু তা শোনা যায় না। একটি পদচিহ্ন রেখে যায়, কিন্তু মাটি তা ধারণ করে না। ঠিক যেন এক দূরাগত ধ্বনি, যা প্রথমে কানে লাগে না, পরে হৃদয়ের গভীরে এসে হাহাকার তোলে।
গালিব, সত্যিই কোথাও কেউ নেই।
ছায়ারা সকলেই বিদায় নিয়েছে। এখন মুখোমুখি বসে আছে শুধু এক নিশ্চুপ আঁধার-
জানা-অজানা সবকিছুর শূন্যতায়।
শুধু এক রৈখিক শূন্যতা,
যা সময়ের পাশে বসে থাকে-
মুখোমুখি, কিন্তু নিরুত্তর।
.
ছবি: আন্তর্জাতিক পুরষ্কারজয়ী আলোকচিত্রী Mahfuz Shutterworks

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০২৫ রাত ১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



