“চাহে আন্ধি আয়ে রে,
চাহে মেঘা ছায়ে রে,
হামে তু উস পার লেকে জানা মাঝি রে…”
নৌকাটির ছবি তোলার সময়ই এই কয়েকটি লাইন আমার মাথায় এসেছিল। কথাগুলো যেন ঠিক ছবিটার সঙ্গে এক অদৃশ্য প্রাণের বন্ধনে বাঁধা। নদীর ধারে একাকী, প্রায় ডুবে যাওয়া একটি নৌকা; নির্বাক, নিঃসঙ্গ, তবুও টিকে আছে, বাঁধা আছে যেন অপেক্ষায় আছে কাউকে নিয়ে যাওয়ার, জীবনকে আবার বহন করার।
এই নৌকাটা যেন আমাদেরই প্রতিচ্ছবি। তুমুল ঢেউয়ে হেলে পড়া, ভার সইতে না পেরে জলে ডুবন্ত, তবুও কোথাও একটা ভরসা থেকে যায়- মাঝি আসবে! আর মাঝির কাছে সেই নিরব অনুরোধ, যতই ঝড় আসুক, যতই আকাশ ঢেকে যাক মেঘে, তুমি আমাকে ওই পারে নিয়ে চলো।
নদীর ওপারটা কেবল ভৌগোলিক এক পাড় নয়; ওটা হয়ে ওঠে মুক্তির প্রতীক, পরিত্রাণের প্রতীক। ডুবন্ত নৌকাটা তখন আর শুধু কাঠের তৈরি নয়; ওটা হয়ে ওঠে ক্লান্ত জীবন, ভেঙে পড়া আশা, আর শেষ আশ্রয়ের এক শব্দহীন রূপক।
জলতলে আধা-ডোবা নৌকাটি যেন সময়ের গায়ে লেখা এক অনুচ্চারিত কবিতা। যেখানে জীবন এক নদী, আর আমরা সবাই নৌকা। বাঁচার জন্য কারো হাতের ভরসায়, কারও নীরব প্রার্থনায় অপেক্ষা করি- তুমি এসে বাঁধন খুলে দিও মাঝি রে...
মনের ভাবনার মাধুর্য দিয়ে তোলা এই চিত্র আর গীত- উভয়েই যেন একই জীবনের দুটি ভাষা। একটিতে শব্দ আছে, আরেকটিতে নিঃশব্দ চিৎকার। তবুও দুটোই বলে- ভেসে যেতে চাই… ওই পারে, যেখানে আলো আছে।
সেই আলো হয়তো আশার ছায়া, হয়তো ভালোবাসার স্পর্শ, কিংবা নিঃশ্বাস ফেলার একটুকরো নির্ভরতা।
আর মাঝি?
সে হয়তো আসে না ঠিক সময়মতো, তবু তার প্রতীক্ষাই আমাদের বেঁচে থাকার সাহস দেয়। কারণ জীবন যতই ডুবুক, একটা নৌকা ঠিক ভেসে থাকে আমাদের ভেতরেই- নিঃশব্দ, ধৈর্যশীল, কিন্তু প্রস্তুত।
- আব্দুল্লাহ খালিদ
৪ জুলাই, ২০২৫ইং
ছবির স্থান: পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২৫ রাত ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



