সেদিন হাওয়া হঠাৎ দিক বদলে দিলো
মেঘগুলো যেন তাড়াহুড়ো করে ছুটছিল কোথাও,
যেন কারও খোঁজে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।
আমি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে,
দূরের ঝড়ের পথ বদলানো দেখছিলাম নীরবে।
জীবনেরও কিছু পথ আছে
যেগুলোর শেষ দেখা যায় না।
মানচিত্রে নেই, ঠিকানাহীন
তবুও বয়ে নেয় অদৃশ্য নদী,
যার স্রোত কেবল ভেতরের মানুষটি শুনতে পায়।
সব দরজা তখন বন্ধ-
সম্পর্কের, যোগাযোগের কিংবা যে পথগুলো
একদিন নিখিলেশের জন্য খোলা ছিল।
তবুও মন…
তার কোনো লাগাম নেই।
ফাঁক পেলেই পালিয়ে যায় বনলতার দিকে,
যেন বৃষ্টির দিনে হঠাৎ খুলে যাওয়া জানালা।
সেই জানালার ওপারে ছিল কিছু চিঠি
যা ঠিকভাবে পাঠানো হয়নি।
কিছু আবার অসমাপ্ত, অর্ধেক লেখা,
হয়তো অভিযোগের ভেতরে লুকানো অনন্ত অনুরাগ।
ঠিকানা জানা ছিল,
তবুও পথের মাঝেই কাঁটা,
অদৃশ্য এক দেয়াল
তাই চিঠিগুলো হয়তো পৌঁছাতো,
কিন্তু সময়ের ভেতরে নয়।
কখনো ভোরের আগে,
কখনো গভীর রাত পেরিয়ে
অকারণে এসে পড়ত সেই চিঠিগুলো-
যেন দূরের কোনো বার্তা
অপ্রস্তুত মুহূর্তে দরজায় কড়া নাড়ে।
আমি চুপচাপ পড়তাম,
ভেতরের শব্দগুলো না খুলেই।
রাতের গভীরে হাওয়ার গায়ে ভেসে আসত
অদ্ভুত এক গন্ধ-
যেন কোনো অচেনা ফুল
ফুঁটেছে অদেখা বাগানে।
আমি জানি, তার মালিক কেউ নয়,
তবুও মনে হতো
আমার সাথে তার এক নীরব চুক্তি আছে।
যা উচ্চারণের প্রয়োজন হয়নি,
তবুও বৃষ্টির রাতে
বনলতার চোখেও ভিজে থেকেছে নীরবে।
এখন আমরা দুইজন, দুই স্রোতে
পথ আলাদা, দিক আলাদা।
তবুও মাঝে মাঝে মনে হয়
কিছু অদেখা কণিকা ভেসে আসে আমার দিকে।
কেউ দেখে না-
কিন্তু আমি টের পাই।
জীবন চারপাশে আরেক জীবনকে জড়িয়ে রাখে
তাদের ঘিরে থাকে কিছু অদৃশ্য বাঁক।
তাই যত অভিমানই থাকুক,
থেমে থাকার সুযোগ নেই-
এগিয়ে যেতেই হবে।
কিন্তু এই ভেতরের অসুখ…
যা দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি,
এটা যাবে তো?
যা দেখা যায় না, দেখানোও যায় না।
শুধু অনুভব করা যায়,
যেন এক খণ্ড আকাশ
যেটা দিনের বেলা কখনো দেখা যায় না।
আর সেই আকাশের চাবি
হয়তো আমার হাতেই আছে,
কিন্তু দরজা খোলার সাহস…
আজও পাইনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



