somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আব্দুল্লাহ খালিদ
আমি মূলত একজন পাঠক, ভাবতে ভালোবাসি। মনের ভিতর শব্দেরা জেগে উঠলে কখনও লেখার চেষ্টা করি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছি প্রায় এক দশক আগে। চাকরি, ব্যবসা, ব্যর্থতা সব পেরিয়ে এখন আবার চাকরি করছি। জীবন থেকেই শিখছি।

ডাকসু নির্বাচন-২০২৫

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগামীকাল ৯ই সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে DUCSU-ডাকসু নির্বাচন। দীর্ঘ বিরতির পর এ আয়োজন নিয়ে শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, বরং সারা দেশে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও এর একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম উষ্ণতায় গড়ে উঠেছে, তবে এর পেছনে গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের সহজাত আবেগও কাজ করছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভোট মানেই গণতন্ত্র- এই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।

যদিও ভোটার কেবল বর্তমান ঢাবি শিক্ষার্থীরাই, তবুও পুরো দেশবাসী এক ধরনের কৌতূহল ও প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। প্রায় ৪০,০০০ তালিকাভুক্ত ভোটার এর বিপরীতে ২৮ পদে শতাধিক প্রার্থী হয়েছেন (আবাসিক হলের নির্বাচন বাদে)। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, ফলাফল যেন গ্রহণযোগ্য হয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসে- এটাই সবার প্রত্যাশা। পাশাপাশি নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও ফলাফল গ্রহণযোগ্যতার কারণে এটি জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিধ্বনি তুলতে পারে।

এই নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রচলিত “আওয়ামী মডেল” থেকে বের হয়ে আসা। অতীতে যেমনটা হয়েছিল, তেমনি সব দলের মধ্যে পদ বণ্টনের মাধ্যমে একটি আপসকামি নির্বাচন আয়োজন করা হলে সেটি শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করবে না। পাশাপাশি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটকেন্দ্রে আনা জরুরি। হলভিত্তিক ভোটে দলীয় প্রভাব থাকলেও ক্যাম্পাসের বাইরের (৫০ শতাংশ) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণই আসল চিত্র তৈরি করবে। তাই যে প্রার্থী বা প্যানেল তাদের আস্থা অর্জন করবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কিংবা সাবেক ছাত্র নই। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বিবেচনায় না আনলে মূল ক্যাম্পাসে প্রবেশের অভিজ্ঞতাও জীবনে একবারের বেশি নয়। তাই সরাসরি এখানকার অংশীদার না হয়েও নির্বাচন প্রসঙ্গে লিখছি কেবল প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ বলে।

২০১৯ সালে নূরুল হক নূর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই আমার দেখা দ্বিতীয় ডাকসু নির্বাচন। সে সময় কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তী ধারাবাহিকতায় নির্বাচন আলোচিত হয়েছিল। তবে এবারের উত্তাপ অন্য মাত্রার। জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পর, তার স্পিরিট বহনকারী একাধিক প্রার্থী প্যানেল হাজির হয়েছে। এবার আলোচনায় আছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও, যাদের মধ্যে থেকে হয়তো প্রথমবারের মতো নেতৃত্বের লড়াইয়ে কেউ (অনেকে) বিজয়ী হবেন। তবে আলিয়া মাদ্রাসাকে আমি স্কুল সিলেবাসেরই এক ভিন্ন ফরম্যাট হিসেবে বিবেচনা করি, যেমন ইংরেজি মাধ্যম আরেকটি ভিন্ন ফরম্যাট। কিন্তু নামের সাথে মাদ্রাসা শব্দ থাকায় অনেকের মধ্যে বাড়তি সমালোচনা জেগে ওঠে।

ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কাউকে প্রভাবিত করা গণতান্ত্রিক সৌন্দর্যের পরিপন্থী। আলোচনা হতে পারে নীতি বা দলের প্রবণতা নিয়ে, কিন্তু কাকে ভোট দেবেন তা নির্ধারণ করবেন একমাত্র ভোটার নিজেই। প্রপাগান্ডা ও হাইপ নির্ভর আওয়ামী রাজনীতি জেন-জি দেখেছে; তবে ঢাবিতে এ ধারা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। যাই হোক, এই ধারা থেকে বের হয়ে আসাই সময়ের দাবি।

প্রার্থীরা ও সম্ভাবনা: কারা এগিয়ে?

প্রথমত, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন সাদিক-ফরহাদ-মহি জোট অনলাইন স্পেসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। প্রার্থীদের একাডেমিক রেজাল্ট অসাধারণ এবং গত এক বছরে তাদের আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করেছে। তবে শিবিরের দীর্ঘদিনের ২টি সংকট- মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অভিযোগ এবং ধর্মীয় ইস্যু তাদের পুরনো এবং বড় বাধা। অনেকেই তাদের ইসলামি দল ভেবে বিভ্রান্ত হলেও বাস্তবে তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণকারী গণতান্ত্রিক কাঠামোর ছাত্র (রাজনৈতিক) সংগঠন। দক্ষতা, যোগ্যতা এবং অবস্থান বিবেচনায় তাদের প্রার্থীরা অন্যান্যদের তুলনায় এগিয়ে। অনলাইনে তাদের হাইপ সর্বোচ্চ, যদিও অনলাইন সবসময় মাঠের বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত করে না।

দ্বিতীয়ত, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদের শক্তি হলো ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক, যা দলকানা মানসিকতার কারণে অনেকটাই অটল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাগ হওয়া ভোটের বড় একটা অংশ টানতে তাদের দলের নেতাকর্মীদের ছাত্রের বাড়ি, ছাত্রের নানী বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে প্রচারণা এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের দিয়ে প্রচারণার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।

ছাত্রদলের ক্যান্ডিডেট যাদের মনোনয়ন করা হয়েছে ছাত্রদলের মধ্যে তারা অন্যতম যোগ্য প্রার্থী। যদিও কিছু বক্তব্য ও মিথ্যাচার তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকলেও তারাই মনে হয় দলের নীতি মেনে এবং পজিটিভ ফেইস ভ্যালুর মধ্যে সেরা। বিশেষ করে ভিপি প্রার্থী আবিদ ভর্তি কোচিংয়ে শিক্ষকতা করায় তার হাতে গড়ে ওঠা ছাত্রদের ভোট তার প্যানেলেই যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃতীয়ত, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ। বাগছাস এর কাদের-বাকের-আশরেফা প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের জেল-জুলুম, আন্দোলন-সংগ্রামে, অধিকার আদায়ে সক্রিয় মুখ হলেও সাম্প্রতিক প্রচারণা কৌশলে নিজেকে ৯ দফার ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন এবং আওয়ামী লীগের প্রতি সফট আচরণ প্রদর্শন করে তার বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের কারণে এখন তিনি সমালোচনার মুখে। জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে নির্দিষ্ট একটি ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতে সক্ষম।

সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ এর জিএস প্রার্থী মাহিন সরকার (এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা) নির্বাচন থেকে সড়ে বাগছাস প্যানেলকে সমর্থন করায় কৌশলগত সুবিধা মিললেও সামগ্রিকভাবে তাদের অবস্থান দুর্বল। এবং মাহিন সরকার নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তার প্যানেলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছেন। সেই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী জালালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ ক্যাম্পাসের একজন বিতর্কহীন সুপরিচিত মুখ হলেও তাদের নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

চতুর্থত, সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ। ইসলামি ছাত্র আন্দোলন সমর্থিত ইয়াসিন-মারযান-সাইফ প্যানেলে যোগ্য প্রার্থী থাকলেও গণসম্পৃক্ততা দুর্বল হওয়ায় বড় অগ্রগতি সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাথে নিজেদের দ্বিধাগ্রস্ত পথচলা এবং সীমিত সাংগঠনিক পরিসরের কারণে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্য এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবি পার্টির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার ফুয়াদ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ইসলাম পন্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। এটা সত্য ভিন্ন কারণে, তবে উনি যে কারণ বলেছেন তার সাথে সম্পূর্ণ একমত নই।

পঞ্চমত, প্রতিরোধ পর্ষদ তথা বামপন্থী জোট ইমি–মেঘমাল্লার-জুবেল প্যানেল। তাদের ভোট ব্যাংক মূলত শাহবাগপন্থী বা সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আসবে। আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার পেলেও বামপন্থী একচেটিয়া ভোট তারা পাচ্ছে না অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪ প্যানেলের জন্য। তিনটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এই প্যানেল। বাংলাদেশের বাম রাজনীতির প্রবণতা হলো সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়া। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এদের তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানের জন্য তারা সুপ্রিমেসি রোগে ভোগে। নিজে যে সমস্যায় আক্রান্ত তা অন্যের উপর চাপায়। তাই তাদের মূল লক্ষ্য জয়লাভ নয়; বরং সাংস্কৃতিক ও প্রেশার গ্রুপ হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা।

আলোচনায় আরও ভালোভাবে থাকতে পারতো সর্বশেষ ভিপি নূরুল হক নূর এর গড়া দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর প্যানেল ডাকসু ফর চেঞ্জ। কিন্তু ইয়ামিন-সাবিনা-রাকিবুল প্যানেলের ভোটারকে আকৃষ্ট করার মতো কার্যক্রম নির্বাচনী মাঠে তেমন দৃশ্যমান নয়।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসাইন ও সদ্য সাবেক বাম এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেত্রী উমামা ফাতেমাও আলোচনায় আছেন। ব্যাক্তি হিসেবে শামীম জ্ঞানী ও প্রভাবশালী বক্তা হলেও সংগঠন বা রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভিপি হিসেবে তার জয়লাভের সম্ভাবনা কম। স্বতন্ত্রভাবে বিজয়ী হলেও কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হবে। শামীমের বক্তব্য শুনলে আমার ড. সলিমুল্লাহ খান এবং ফাহাম আব্দুস সালাম এর কম্বিনেশন মনে হয়। তবে এই ২ জন নির্দিষ্ট একটা এজেন্ডা এবং পারপাস সার্ভ করে, শামীম হয়তো এখনও তা করে না। ভবিষ্যতেও এই নির্বাচনের মতো তার জ্ঞান থাকুক স্বতন্ত্র, মানুষের কল্যাণে।

জুলাই আন্দোলনের নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মুখ যোদ্ধা উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য আলোচনায় থাকলেও তার বামপন্থী আইডিওলজি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। নারীদের মধ্যে প্রভাব ফেললেও অনেকের কাছে তার আচরণ অহংকারী মনে হয়েছে। এই অভিযোগে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা তাকে বয়কটও করেছেন।

বিভিন্ন পদে আরও নানামুখী আলোচনায় আরও বেশ কিছু প্রার্থী রয়েছেন। তবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের হামলায় আহত সানজিদা আহমেদ তন্বী। গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে তিনি জয়ের দ্বারপ্রান্তেই রয়েছেন মনে করা যায়। তার সম্মানার্থে বেশ কয়েকটি প্যানেল এই পদে নিজেদের কোনো প্রার্থী দেয়নি। এটা রাজনৈতিক বিবেচনায় ইতিবাচক দিক হতে পারে।

বাংলাদেশে নির্বাচনে নেতিবাচক দিক থাকবেই। এবারও তা দেখা গেছে। ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী ফরহাদের মনোনয়নকে ঘিরে রিট, যা মূলত এই নির্বাচনকেই প্রায় স্থগিত অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী প্রার্থীকে ধর্ষণের হুমকি। পরবর্তীতে আলী হুসেন নামের সেই শিক্ষার্থীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলনের পর ছাত্রদল পাল্টা সাজানো সংবাদ সম্মেলন করে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

সসর্বোপরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, বরং রাজনৈতিক আন্দোলনের সূতিকাগার। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আন্দোলন পর্যন্ত- অসংখ্য ঐতিহাসিক মোড় এসেছে এখান থেকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ কি রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম হওয়া, নাকি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন?

রাজনৈতিক না হলেও রাজনীতির সহায়ক ভূমিকা নির্দেশ করে এমন ঢাবির আরেকটি অর্জন হলো এখান থেকে অসংখ্য আমলা, নীতিনির্ধারক এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা তৈরি হয়েছে, যারা বিসিএস-নির্ভর সংস্কৃতিকে প্রভাবশালী করেছে। সার্বিক বিবেচনায়, ঢাবি আজ কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির প্রতীকও বটে। এইবারের ডাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাসের মতো কাজ করতে পারে। এই নির্বাচনের ফলাফল বিশেষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয়ের নির্বাচন মুখী রাজনৈতিক কৌশলে।

আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়। প্রত্যাশা একটাই- সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক। আর বিজয়ী হোক এমন নেতৃত্ব, যারা তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়: ডাকসু নির্বাচন কি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের পরীক্ষা, নাকি জাতীয় রাজনীতির ক্ষুদ্র প্রতিরূপ?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০১



এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়—সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের একটি সময়, কিছু মানুষ, কিছু অভ্যাস আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×