মনের সাথে যেখানে মনের গহীন কথা হয়
ঠিকানা সেখানে আসলেই কোনো বড় কিছু নয়।
মুখে বলার যত আকুলতা, যত না-বলা ব্যাকুলতা
ক্ষান্ত হয় এক চিলতে বারান্দা আর এক আকাশ নীরবতায়।
তবুও নিঝুম ঘরের কোণে যখন নামে অন্ধকার
স্মৃতির সিন্দুকে একজোড়া চোখ কড়া নাড়ে বারবার।
অমলিন স্মৃতিরা হারিয়ে যায় না, মুছে যায় না কভু
নতুন দিনের ভিড়েও তাদের বয়ে নিয়ে চলি তবু।
ছুটে চলা জীবনের প্রাত্যহিক ব্যস্ততার মাঝেও সমান্তরালে গেঁথে থাকে
এক যুগ আগে হৃদয়ে এঁকে যাওয়া অপার্থিব কথামালা।
যা আমি গ্রহণ করতে যেমন পারিনি কোনোদিন
তেমনি পারিনি অস্বীকার করতে, ঋণী রয়ে গেছি চিরঋণ।
মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়া যদিও আমার আদিম স্বভাব
তবু অতীতের সেই সুখমালা আজ ছড়ায় দহনের অভাব।
আমি জানি, আসন্ন আষাঢ়ে কদমের শরীর ভিজিয়ে
যে জল নামবে এই ক্লিষ্ট ধরণীর বুক চিরে
তাতে তোমার দাঁড়িয়ে থাকা আর না-থাকার দ্বন্দ্বে
আমার একলা আকাশও মেঘে মেঘে ভারী হবে এক মায়াবী ছন্দে।
সেই বর্ষাকাল, শরৎ, শীত কিংবা বসন্তের স্মৃতি আজও অমলিন
অথচ নিয়তির অমোঘ নিয়মে আজ তা বড্ড বেশি মলিন।
তুমি জানতে চেয়েছ, তুমুল বৃষ্টির পর নেমে আসা
সেই স্নিগ্ধতার আবছায়া, এক বুক ভালোবাসা
আমি অন্ধকারেও গায়ে মেখে নিয়ে অনুভব করতে চাই কিনা?
অথচ তুমি তো জানো, তোমার ওই চোখ ছিল চিরচেনা।
তোমার ওই চোখের গহীন মায়াই ছিল আমার অন্ধকার কাটার আলো
সেখানে নিমজ্জিত হয়েই তো মেখে নিয়েছিলাম যা ছিল ভালো
এক অমর পরাজয়ের পরম ও নিবিড় শান্তি।
যদি বুক চিরে সত্যিই বেরিয়ে যায় আস্থার মায়া
যদি বিলীন হয়ে যায় কোনো এক চেনা চাহনির কায়া
তবে কার সাধ্য আছে এই চিরন্তন শূন্যতা পূরণের?
আসছে শীতে যখন কুয়াশার চাদরে ঢাকবে চারপাশ
আমি হয়তো একলা কোনো চাদর গায়ে জড়িয়ে বারো মাস
আঙুলের শূন্য ফাঁকে খুঁজে বেড়াবো হারিয়ে যাওয়া কোনো এক ভরসার ছায়া।
চিঠি আমি দেবো, হয়তো কোনো এক নামহীন ঠিকানায়
হলুদ খামেই লেখা থাকবে এক নিঃসঙ্গ পথিকের আজন্ম উপাখ্যান।
যেখানে নিখিলেশ আর বনলতার এই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘুচবে না কোনোদিন
তবু প্রতিটা শীতের রাতে, প্রতিটা বর্ষার প্রথম জলে
এক জোড়া চোখের অনন্ত অপেক্ষা জারি থাকবে অমলিন।
.
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



