somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাদকাশক্তি ও যুবসমাজ

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংবাদ পত্রের পাতায় চোখ রাখতেই যেন কার বুক ফাটা কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে আসে, কার আর্ত হাহাকারে রাতের অন্ধকার আরো নিঃসঙ্গ, আরো বেদনার্ত হয়ে উঠে? কোন পরিবারে আজ শোকের মাতম? শ্মশানের হাহাকার? কী সেই ভয়াবহ মাদক নেশা মায়ের বুক থেকে সন্তানকে কেড়ে নেয় চিরতরে? আজ অধিকাংশ পরিবারেই এক ভয়ঙ্কর আতঙ্ক বিরাজ করছে? আমরা এমনই এক নিষ্ঠুর সময়ের মুখোমুখী? যুব সমাজ ধ্বংসের এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে? ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মৃত কল্প, অসার বরে দেওয়ার এক বৃহৎ পরিকল্পনা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের শহরে, শহরতলীতে, গ্রামে গ্রামান্তরে।
মাদকদ্রব্য : যে সব দ্রব্য সেবনে মানুষের শারীরিক ও মানুষিক অবসন্নতা আনয়ন করে বা কোন ক্ষেত্রে স্নায়ুর উত্তেজনা সৃষ্টি করে বা ব্যথা উপশম করে তাই হল মাদকদব্য। যখন কোন ব্যক্তি এসব দ্রব্য সেবন ছাড়া চলতে পারে না অর্থাৎ এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তখন ঐ ব্যক্তিকে আমরা মাদকাসক্ত বলে থাকি। কোন কিছুর প্রতি প্রবল আকর্ষনবে আসক্তি বলে। এ আকর্ষন অভ্যাসজনিত। আসক্তি বিষয়টি আজকের নয়। মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই এ আশক্তির শুরু। এ আশক্তির জন্য পৃথিবীর আদি মানব স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছে। আজ সমাজ সংসার থেকে মানুষ অকালে..............।
আমাদের দেশে সাধারণত গাঁজা, ভাং, চরস, চুয়ানী, আফিম, হাসিস, পপি, মরফিন, হেরোইন, বোবেন, মদ ইত্যাদি মাদকদ্রব্য হিসাবে পরিচিত। এ ছাড়া বিশ্বে কোকেন ও আফিম থেকে তৈরী পেথেড্রিন, থিরাইন, কোডেইন, ফেনসিডিল, সিডাকসিন এবং ব্যরিচুরেট ও এল,এস,ডি থেকে কৃতিম উপায়ে তৈরী মেথাডিন ডায়াজেপাম তৈরী করা হয়। এর সঙ্গে আরো রয়েছে তরল অ্যালকোহল শ্রেণীর মদ যেমন-রাম, ভদকা, হুইস্কি ইত্যাদি। তাছাড়া স¤প্রতি পূর্ব এশীয় দেশ থেকে ইয়াবা(ট্যাবলেট) নামক দ্রব্য আমাদের উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মাঝে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে।
মানুষের মাদকাসক্তি হওয়ার বহুবিধ কারণ রয়েছে যেমন-(১) মাদক দ্রব্যের প্রতি কৌতুহল, (২) বেকারত্ব আর্থিক অনটন ও জীবনের প্রতি হতাশা, (৩) বন্ধু-বান্ধব সঙ্গীদের প্রভাব, (৪) নতুন অভিজ্ঞতা লাভের আশা, (৫) নৈতিক শিক্ষার অভাব, (৬) মাদক দ্রব্যের সহজ লভ্যতা, (৭) পারিবারিক কলহ ও অশান্তি, (৮) পরিবারে মাদক দ্রব্যের ব্যবহার, (৯) পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রভাব, (১০) মাদক দ্রব্যের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, (১১) কৈশর ও যৌবনে বেপরোয়া মনোভাব, (১২) সহজ আনন্দ লাভের বাসনা, (১৩) সর্বপরি ধর্মীয় জ্ঞান ও অনুশাষনের অভাব।
মাদকাসক্তি একটি মারাত্মক মরণব্যাধি। মাদক দ্রব্য সেবনের ফলে মানুষের বহুবিধ ক্ষতি হয়ে থাকে (১) মানুষিক উত্তেজনা, চরম অবসাদ, উচ্ছৃংখল আচরণ, অসংলগ্ন ব্যবহার, আত্মহত্যার প্রবনতা ইত্যাদি দেখা যায়। (২) শারীরিক ক্ষয়রোগ, রক্ত দূষণ, কর্ম দক্ষতা হ্রাস, শরীরে খিচুনী হয়, বমি বমি হয়, বুদ্ধি লোপ পায়, অনিদ্রা, পেটে ব্যথা, ক্ষুধা মন্দা, স্নায়ুবিক দূর্বলতা ইত্যাদি দেখা যায়। (৩) সামাজিক ভাবে জীবনের প্রতি হতাশা, কাজে অনিহা, পারিবারিক অশান্তি অপরাধ প্রবনতা, সমাজে গৃন ব্যক্তি হিসাবে গন্য হয়। (৪) আর্থিকভাবে সর্বশান্ত পরিবার পরিজনকে অনটনে ফেলা, চুরি-ডাকাতী, রাহাজানি, প্রবনতা বৃদ্ধি, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে হাত পাতা, শেষ বয়সে অতিকষ্টে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন।
মাদক দ্রব্যের ছোবলে গোটা দেশ আজ আক্রান্ত। এর ভয়াবহ পরিণতি দেখে প্রশাসন বিচলিত, অভিভাবকরা আতঙ্কিত, চিকিৎসকরা দিশেহারা। মাদক আসক্তদের জন্য খোলা হয়েছে “এ্যান্টি ড্রাগ সেল” দেশের হেরোইন চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মত কঠোর আইন রয়েছে। তারপরও মাদক আসক্তির পরিমান উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য পাড়ায় পাড়ায় গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা। তাছাড়াও মাদকাসক্তির কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে যেমন-(১) নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রসার করা, (২) চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, (৩) বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, (৪) সামাজিক আন্দোলন হিসাবে গ্রহণ করা, (৫) মাদক দ্রব্যের সহজ লভ্যতা রোধ করা, (৬) মাদক বিরোধী আইন প্রতিষ্ঠা করা, (৭) মাদক দ্রব্যের কুফল সবার কাছে তুলে ধরা, (৮) পারিবারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, (৯) ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে গণ সচেতন করে গড়ে তোলা, (১০) খারাপ সঙ্গ পরিত্যাগ করা, (১১) সেবনকারীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা, (১২) মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় রোধ করা, (১৩) পাঠ্য সূচীতে মাদক সেবনের ভয়াবহতা তুলে ধরা, (১৪) মাদক দ্রব্য প্রতিরোধ দিবস জাতীয় ভাবে পালন করা।
আমাদের মনে রাখতে হবে মাদকাসক্তির উৎস্য ভূমি মানুষের মন-মানসিকতা। তাই মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে এবং গড়ে তুলতে হবে চিরন্তন সতর্কতা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ইংরেজীতে প্রবাদ আছে-চৎবাবহঃবঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযবহ পঁৎব. আজকের তরুন-তরুনীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তারা মাদকাসক্ত হয়ে পঙ্গু হওয়ার অর্থ দেশ পঙ্গু হয়ে যাওয়া। সুস্থ্য সবল মানুষই পারে দেশের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়তে। এই বাস্তব সত্যকে স্বীকার করে নিয়ে ড্রাগ নেশার রাহুগ্রাস থেকে দেশ ও জাতির রক্ষার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়- আমার আপনার...সকলের।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×